সংসদে প্রধানমন্ত্রী

0
80
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এ সরকারের আমলেই রায় কার্যকর হবে
তিনি বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আজ যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যারা সাজা পেয়েছে- এটা দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষা, প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের সফল বাস্তবায়ন। আমাদের দল ক্ষমতায় থাকতেই আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর করতে পারব ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, কী রায় দেওয়া হয়েছে- সেটা আদালতের ব্যাপার। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধে যে গোলাম আজমকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে সেটাই বড় কথা। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদে মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের অঙ্গীকার ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার। সেই বিচারের কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি রায়ও হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে সখ্য ছিল। এ জন্য তিনি তাদের বিচার না করে পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছেন। দেশের মানুষ ওই সময় জিয়াকে প্রত্যাখ্যান করলে যুদ্ধাপরাধের বিচারে ৪২ বছর সময় লাগত না। শেখ হাসিনা বলেন, এতদিন পরে হলেও যুদ্ধাপরাধের যে বিচার প্রক্রিয়া চলছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা একের পর এক রায় দিয়ে যাচ্ছেন, এটিই জাতির জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কোনো অন্যায় প্রশ্রয় দেয় না। বিভিন্ন অপরাধে এখন পর্যন্ত ৬০০ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রলীগে বহিরাগতরা ঢুকে অপকর্ম করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে। বিচার শুরু হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। আর বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেকের ব্যাপারেই খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে যে, তাদের ভাই-আত্দীয়স্বজন জামায়াত-বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অথচ এরা রাতারাতি ছাত্রলীগ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যখনই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অপকর্ম করেছে, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়নি। বর্তমান বাজেটকে সরকারের শেষ বাজেট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেট সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করতে পারব না। কারণ আমাদের হাতে সময় আছে মাত্র তিন মাস। তবে জনগণ যদি আগামী নির্বাচনে আমাদের নির্বাচিত করেন-_ তাহলে এ বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটবে। তিনি সংসদে বিরোধী দলের আলোচনার সমালোচনা করেন। তবে সংসদে যোগ দেওয়ার জন্যে বেগম খালেদা জিয়াসহ বিরোধী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। নারী সমাজকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা আহমদ শফীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মতো লোকের মুখে এমন অশালীন অশ্লীল বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। এই শফী সাহেব নারীদের নিয়ে জঘন্য কথাবার্তা বলেছেন। যার বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করাও সম্ভব নয়। তিনি তার বক্তব্যে নারীদের সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়াশোনার পর ঘরে বসে থাকার কথা বলেছেন। অথচ আমাদের দেশে সংসদ নেতা (আমি নিজে), স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহের অধিকাংশই নারী। আমাদের নবী করিম (সা.)-এর কাছে প্রথম নারী হিসেবে বিবি খাদিজা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ব্যবসা করতেন। বিবি আয়েশা (রা.) নবীজীর সঙ্গে যুদ্ধেও ময়দানে গিয়ে যুদ্ধ পর্যন্ত করেছেন। ইসলামের প্রচার ও বিকাশে নারী সমাজের অপরিসীম অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শফী সাহেবরা সেই নারী সমাজকে ঘরের ভেতরে বন্দী করে রাখতে চায়। তিনি বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে তাদের (আহমদ শফী) সঙ্গ ত্যাগ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তার ৫৮ মিনিটের বক্তৃতায় জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আমাদের সরকারই প্রথম বিদেশ থেকে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে এনেছে। তিনি বিদ্যুৎ, কুইক রেন্টাল প্লান্টসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের প্রভূত উন্নতি সাধনের কথা বর্ণনা করেন।

শেয়ার করুন