বিরোধী দলের যোগদানে বাজেট অধিবেশন প্রাণবন্ত ও কার্যকর

0
78
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়েছে বুধবার। এটি ছিল চলতি জাতীয় সংসদের ১৮তম ও মহাজোট সরকারের শেষ বাজেট অধিবেশন।

স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তার সমাপনী ভাষণে এ বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকে বিরোধী দলের উপস্থিতিতে সংসদ প্রাণবন্ত ও কার্যকর করে তোলায় সকল সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

স্পিকার তার সমাপনী ভাষণে বলেন, এ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অপেক্ষা ৩৩ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা বেশি। এ বাজেট পাস হয়েছে।

এবারের বাজেটে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা এবং উন্নয়নমূলক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। বরাদ্দের মধ্যে মানব সম্পদ খাতে ২৩ শতাংশ, সার্বিক কৃষি খাতে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া পদ্মাসেতু নির্মাণ বাবদ মোট ৬৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

স্পিকার বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো ও সাধারণ সেবা খাতে প্রায় ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি, স্বাস্থ্য, পল্লী উন্নয়ন ও গ্রামীণ অবকাঠামো, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে বাজেটে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিকাশে বাজেটের প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় মাননীয় সংসদ-সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ সীমিত থাকলেও সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর বাজেটের ওপর আলোচনার সুযোগ উন্মুক্ত।

তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশনে সংসদ-সদস্যরা বাজেটের ওপর আলোচনা করে যে মূল্যবান মতামত দিয়েছেন তা জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ-সদস্যরা বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের মূল্যবান মতামতের আলোকে বাজেটকে আরও গঠনমূলক করতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। সকলের সরব অংশগ্রহণে এবারের এ অধিবেশনটি হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও কার্যকর। আমি আশা করি, ভবিষ্যতেও সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আইন প্রণয়নসহ সংসদের সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রাকে আরো বেগবান করবেন। সংসদ হয়ে উঠবে আরো বেশি প্রাণবন্ত ও কার্যকর।

স্পিকার বলেন, এবারের বাজেট অধিবেশনে মোট কার্যদিবস ছিল ২৪টি। বাজেটের ওপর মোট ৬১ ঘন্টা ১৩ মিনিট আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মূল বাজেটের ওপর ৫৬ ঘন্টা ২২ মিনিট এবং সম্পূরক বাজেটের ওপর ৪ ঘন্টা ৫১ মিনিট আলোচনা হয়। মূল বাজেটের ওপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৫০ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৩০ জন, জাতীয় পার্টির ১৮ জন, জাসদের ৩ জন, ওয়ার্কার্স পর্টির ২ জন, এলডিপির ১ জন, বিজেপির ১জন এবং জামায়াতের ১ জন সংসদ-সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। এছাড়া সম্পূরক বাজেটের ওপর ১৫ জন সদস্য অংশ নেন।

বাজেট পাস ছাড়াও এ অধিবেশনে ২৪টি সরকারি বিলের মধ্যে ১০টি বিল পাস হয় বলেও সংসদকে জানান ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আইন প্রণয়ন সম্পর্কিত কাজ সম্পাদনের পাশাপাশি কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে ২১৬টি নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৯টি নোটিশ গৃহীত হয়েছে। ৭১ (ক) বিধিতে দুই মিনিটের আলোচিত নোটিশের সংখ্যা ৪৫টি।

স্পিকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর উত্তর দানের জন্য সর্বমোট ১৯০টি প্রশ্ন পাওয়া যায়। তার মধ্যে তিনি সম্পূরকসহ ৬০টি প্রশ্নের উত্তর দেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তর দানের জন্য প্রাপ্ত মোট ৪১০২টি প্রশ্নের মধ্যে মন্ত্রীরা ২৫৪৫টি প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা সম-সাময়িক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করেন।

সংসদ পরিচালনায় সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, উপ-নেতা, চিফ হুইপ, হুইপ ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ এবং সকল সংসদ-সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্পিকার। ধন্যবাদ জানান সহকর্মী ডেপুটি স্পিকার ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদেরকে তাদের সহযোগিতা ও পরামর্শের জন্য। এছাড়া আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে।

স্পিকার বলেন, রহমত, বরকত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান মাস। সংযম ও সিয়াম সাধনের এ মাস আমাদের সবার জন্য বয়ে আনুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। রোজা শেষেই আসবে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর।

দেশবাসীকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে সংসদ অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

শেয়ার করুন