চাহিদ নেই মিষ্টি কুমড়ার, বিপাকে কৃষক

0
116
Print Friendly, PDF & Email

মৌসুমি সবজি মিষ্টি কুমড়া চাষ করে বিপাকে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার কয়েকশ চাষী।

অতি বর্ষণে একদিকে ফলনে বিপর্যয় অন্যদিকে পাইকারী ক্রেতা না থাকায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে কুমড়া। উপায়ন্তর না পেয়েই অনেকেই গো খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করছে উৎপাদিত কুমড়া।

ফলে কুমড়া চাষ করে এবার চুয়াডাঙ্গার চাষীদের লোকশান গুনতে হচ্ছে বিঘাপ্রতি ৫থেকে ৭হাজার টাকা।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এই জেলার মাটি মৌসুমি সবজী কুমড়া চাষের জন্য উপযোগী। গত বছর এ জেলায় ৮৮০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছিল। ফলন ভালো ও বাজার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও দ্বিগুণ জমিতে আবাদ করেছে মিষ্টি কুমড়ার।

কিন্তু এবার গাছে ফল আসার সময় অতি বর্ষণের কারণে ফলনে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের কুমড়া চাষী বকুল জানায়, গতবার ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এ সময় শত শত বেপারী মাঠে এসে কুমড়া ক্রয় করে ট্রাক ভর্তি করে নিয়ে যেত বড় বড় মোকামে। কিন্তু এবার সম্পূন্ন তার ব্যতিক্রম। মাঠে ক্রেতা নেই। ফলে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা কুমড়া।

অনেকেই আবার মাঠ থেকে বাড়ির আঙ্গিনায় মজুদ করে রাখছেন ক্রেতার অপেক্ষায়। আবার অনেকেই তাদের উৎপাদিত কুমড়া গো খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করে ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার কুলপালা গ্রামের কুমড়া চাষী আলমগীর কবির বিডিপ্রেসকে জানায়, এবার ১২ বিঘা জমিতে কুমড়া আবাদ করেছিলাম। অতিবর্ষনের কারণেই এমনিতেই ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তারপর আবার বিক্রি না হওয়ায় বিঘা প্রতি লোকশান  গুনতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পাঁচমাইল বাজারের পাইকারী বেপারী খলিলুর রহমান জানান,  বিগত বছরগুলোতে প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গা থেকে ২০-২৫টি ট্রাক কুমড়া ভর্তি হয়ে দেশের বিভিন্ন বাজারে চালান হলেও এবার দুই একটির বেশী হচ্ছেনা। তিনি এর কারণ হিসাবে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণেই গুরুত্ব দেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক হরিবুল্লা সরকার বিডিপ্রেসকে জানান, গতবার লাভবান হওয়ায় এবার অধিক সংখ্যক চাষী কুমড়া আবাদ করেছে। চাহিদার তুলনায় ফলন বেশি হওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন