রায়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা হতাশ

0
96
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে দেওয়া দণ্ডাদেশ নিয়ে আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দেশের বিশিষ্ট কয়েকজন নাগরিক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
এখানে তা তুলে ধরা হলো:

মফিদুল হক
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্ট্রি মফিদুল হক বলেন, ‘আমরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। মুক্তিযুদ্ধের পর ৪০ বছর ধরে যে মানুষগুলো বিচারের অপেক্ষায় ছিল, তারা ন্যায়বিচার পেল না।’ গোলাম আযমের বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছেন, সেখানে গোলাম আযমের বয়স বিবেচনা করা ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের উচিত, গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করে উচ্চ আদালতে আবেদন করা।’

মুনতাসীর মামুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ও এই মামলার অন্যতম সাক্ষী মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘আমরা এ রায়ের জন্য দীর্ঘ চার দশক অপেক্ষা করেছি। একটি কথা বলব, দেশবাসী মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ এত দিন ধরে যে রায় শোনার অপেক্ষায় ছিল, আদালত কিন্তু সেই রায়টি দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, প্রতিটি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য। তবে বয়সের কারণে, অসুস্থতার কারণে তা কমিয়ে ৯০ বছর করা হয়েছে। খানিকটা হতাশ যে মৃত্যুদণ্ড এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। আমি সম্পূর্ণ হতাশ এ কথা বলব না। রায়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। এ সংগঠনটি (জামায়াত) একটি অপরাধী সংগঠন। এই অপরাধী সংগঠনের দেশে রাজনীতি করার, ভোটাধিকার ও নির্বাচনে যাওয়ার অধিকার থাকতে পারে কি না, এটা সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিবেচনা করতে হবে। একটি অপরাধী সংগঠনকে যদি আমরা রাজনীতি করার সুযোগ দিই, তাহলে সমস্ত বাংলাদেশের সন্ত্রাসী সংগঠনকে রাজনীতি করতে দিতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রায়ে সন্দেহাতীতভাবে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর যে বিভিন্ন বাহিনী পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছে, তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন তিনি। বয়সের কথা বিবেচনা করে তাঁকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে এর সঙ্গে একমত হতে পারিনি। আমি বিষণ্ন এ জন্য যে এ মানুষটির কারণে, এ নরাধমের কারণে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। তাঁর কমান্ড রেসপনসিবিলিটির (নেতৃত্বের দায়) জন্য তাঁর ফাঁসি চাই।’

শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী
শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী বলেছেন, তিনি ন্যায্য বিচার পাননি। প্রথম আলো ডটকমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘৪২ বছর ধরে আমরা অপেক্ষা করেছি। যার কথায় গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ হলো, সেই ব্যক্তির ফাঁসি হলো না। ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও তিনি সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসবেন। অভিযুক্ত আর কারও বিচার হবে বলেও মনে হয় না।’

নাসির উদ্দীন ইউসুফ
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, ‘গোলাম আযম যে স্বাধীনতাবিরোধী অপরাধ করেছেন, সেটা এত দিন ঐতিহাসিকভাবে সত্য ছিল। কিন্তু আজ সেটি আইনগতভাবে সত্যে পরিণত হলো। প্রত্যাশা ছিল সর্বোচ্চ শাস্তির। কিন্তু সেটি না হওয়ায় দেশের সিংহভাগ মানুষের মতো আমিও হতাশ।’

শেয়ার করুন