রায় প্রত্যাখ্যান গণজাগরণ মঞ্চের, শাহবাগে অবরোধ

0
56
Print Friendly, PDF & Email

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে দেওয়া দণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে গণজাগরণ মঞ্চ। রায় ঘোষণার পর মঞ্চের কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন। সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছে মঞ্চ।
‘প্রহসনের এই রায় জনগণ মানে না’, ‘আপসের পরিণাম, বাংলা হবে পাকিস্তান’—এসব ক্ষুব্ধ স্লোগানে প্রকম্পিত এখন শাহবাগ।
প্রতিক্রিয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, তাঁরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। গোলাম আযমের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা আগের মতোই শাহবাগে অবস্থান নেবেন।
মঞ্চের অন্যতম সংগঠক খান আসাদুজ্জামান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, তাঁরা শাহবাগ মোড়ে তাঁদের অবস্থান চালিয়ে যাবেন।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার আগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যেতে জাদুঘরের সামনের সড়কে অবস্থান করছিলেন। গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন। রায় শোনার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। বিক্ষোভ করতে করতে তাঁরা শাহবাগ মোড়ে যান। বেলা পৌনে দুইটার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন মঞ্চের কর্মীরা।
ক্ষুব্ধ কর্মীদের কয়েকজন শাহবাগে একটি বাস ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। অন্যরা তাঁদের থামান। শাহবাগ মোড় থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালে মঞ্চের কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন একজন পুলিশ কর্মকর্তা।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঁচটি হলো ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উসকানি, সংশ্লিষ্টতা এবং হত্যা ও নির্যাতন। অভিযোগের সঙ্গে অপরাধের দায়দায়িত্ব হিসেবে আনা হয়েছে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়।
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তিনি (গোলাম আযম) যে অপরাধ করেছেন, তা মৃত্যুদণ্ডতুল্য। কিন্তু তাঁর বয়স বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন