আ’লীগের অতিকথক নেতারা নিরব

0
63
Print Friendly, PDF & Email

দেশের অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সারাদিন লাগামহীন বক্তব্য দিলেও পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অতিকথক মন্ত্রী ও নেতারা হঠাৎ করে নিবর হয়ে পড়েছেন।

প্রায় এক ডজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, নামী ও হাইব্রিড রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত এসব নেতাদের এরকম নিশ্চুপ থাকার কারণ নিয়েও ক্ষমতাসীন মহলে নানা বিশ্লেষণ চলছে।

অন্যদিকে, পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর অনেকটা দুমড়ে মুচড়ে গেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোবল। সব কিছু শেষ হয়ে যায়নি মন্তব্য করে অনেক সিনিয়র নেতা বলছেন, রাজনীতির মাঠে এখনও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব আওয়ামী লীগের।

তবে এতকিছুর পরও ঘুম ভাঙেনি দলটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের। আ’লীগের এত বড় বিপর্যয়ের পরও খোঁজ মিলছে না তার। কেন্দ্রের কোনো সংবাদ সম্মেলনে এখনও সৈয়দ আশরাফের জায়গায় হাজির হতে দেখা যাচ্ছে মোহাম্মদ নাসিম কিংবা হানিফকে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন নামসর্বস্ব সংগঠনের ব্যানারে সপ্তাহের সাতদিনই জাতীয় প্রেসক্লাব বা ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সব আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকেন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নামী নেতারা। শুক্র ও শনিবার বিশেষত এ ধরনের সভার আয়োজন করা হয় বেশি।

সরকারি বন্ধের দিন থাকায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো গুরুত্ব দিয়ে তাদের সংবাদ প্রচার করে।

কিন্তু হঠাৎ করে এসব অতি কথনকারীদের তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না। অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর তোপের মুখে পড়েন এমন চিন্তায় তার কাছে যাওয়া থেকে তারা আপাতত বিরত রয়েছেন।

কিছুদিন আগ পর্যন্ত নানা ইস্যুতে সোচ্চার ছিলেন আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিমানমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) ফারুক খান, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সরকারের তিন উপদেষ্টা এবং দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

অথচ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ছাড়া আর কারও আওয়াজ নেই। অতিকথকরা কেউই এখন পাঁচ সিটিতে দলের বিপর্যয় কেন তা খোলাসা করছেন না। এমনকি আওয়াজ নেই আওয়ামী লীগের শীর্ষ কিছু নেতাদের মুখেও।

সিটি নির্বাচনে ভরাডুবির পর বিস্মিত আওয়ামী লীগ নেতারা যুক্তরাজ্য ও বেলারুশ  সফররত প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন।

অবস্থা তখন এমন হয় যে, কী বলে কি ফেঁসে যান! তবে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের দুয়েক জন শীর্ষ নেতা আত্ম সমালোচনায় ব্যস্ত রয়েছে। যদিও তারা যেসব পরামর্শ দিচ্ছেন ওই সব তাদের এলাকায়ই খাটছে না। অনেকটা এরকম, নিজের ঘরে হাজারো সমস্যা পরের ঘর ঠিক করার ছবক।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে সরকারকে বিব্রতকারীদের নিজে থেকেই সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। নিজ দলের কয়েকজন নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝুন, আপনাদের দায় সরকার নেবে না।

একই দিন যোগাযোগ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অর্থমন্ত্রীর অবাস্তব অবস্থান সময়মতো পদ্মার মূল সেতুর কাজ শুরু করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমরা সময়মতো পদ্মার মূল সেতুর কাজ শুরু করতে পারিনি, সেটা তার অবাস্তব অবস্থানের কারণে।

তবে এতদিন অতি কথনকারীদের বিষয়ে সরকারের অন্দরমহলের খবর, দল ও সরকারকে বিব্রতকারী নেতা ও মন্ত্রীদের চিহ্নিত করছে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড। যাদের প্রশ্নবোধক কীর্তিকলাপ আর অতিকথনে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে- এমন নেতা ও মন্ত্রীদের ছাঁটাই করা হবে- এখন এটাই জোর গুঞ্জন।

বলা হচ্ছে, এদের কারণেই সদ্য অনুষ্ঠিত পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের ভরাডুবি হয়েছে। তাদের সর্ম্পকে কিছুদিন আগ পর্যন্ত আলোচনা আড়ালে-আবডালে হলেও এখন প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে অনেকের সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফলে বিতর্কিত কারও জন্য অপেক্ষা করছে পদাবনতি, কাউকে দেয়া হবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি; আবার শেষ মুহুর্তে কারও মন্ত্রীত্ব খোয়া যেতে পারে। আবার পদে বহাল রেখে ক্ষমতা খর্ব করা হবে কারও কারও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

শেয়ার করুন