বিএনপির ইফতার মাহফিলে রাজনীতিকদের মিলনমেলা

0
60
Print Friendly, PDF & Email

দেশের বরেণ্য সব রাজনীতিবিদদের সঙ্গে ইফতার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তৃতীয় রমজানের এই ইফতার পার্টিতে আওয়ামী লীগের কেউ না আসলেও মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি, বিকল্পধারা, জাসদ (রব) ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

তবে ইফতারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেউই না আসাকে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছে। জাতীয় সংসদে ‘পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাব’ এর এলডি ভবন প্রাঙ্গনে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করেন বিরোধী দলীয় নেতা। ইফতারের আগে প্রতিটি টেবিলে ঘুরে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বেগম খালেদা জিয়া।

ইফতারে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের না আসাকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘দূভার্গ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘এটা দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে মানাসই নয়।

আমরা সকালে শুনেছি- তারা বিরোধী দলীয় নেতার ইফতারে আসবেন। আমরা উৎসাহিত হয়েছিলাম। তারা আসলে দেশবাসী একে ইতিবাচক হিসেবে দেখতো।’’ ‘‘কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতারা এই ইফতারে আসেনি। এটা দুভার্গ্যজনক।’’

যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী ইফতারে অংশ নেয়ায় আওয়ামী লীগের নেতারা এই ইফতারে আসেননি- এরকম প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘এটা সঠিক নয়। অতীতে জামায়াতের সঙ্গে তারা (আওয়ামী লীগ) অনেকবার বৈঠক করেছেন। আন্দোলন করেছেন। তাই এখন যেটা বলা হচ্ছে- তা কোনো যুক্তি হতে পারেনা।’’

জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর আহমেদ বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা বিরোধী দলীয় নেতার ইফতারে আসেননি, এটা দুঃখজনক। আমাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইফতারে কেউ আমন্ত্রণ জানালে তাতে অংশ নেয়াটা সৌজন্যতা।’’

‘‘তিনি বলেন, গতকাল শুক্রবার আমাদের দলের ইফতার ছিলো। এতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগসহ অনেক রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছেন। আমাদের দলের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইফতার হচ্ছে একটি মিলন মেলা। আজকেও তারা যোগ দিলে এটিও মিলন মেলা হতো।’’

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ বলেন, ‘‘দেশে এক পরিবর্তনের যে হাওয়া চলছে, তাকে যুক্তিক পরিণতিতে নিতে হবে। আমরা আশা করেছিলাম, শাসক দল জনগনের ভাষা বুঝতে পারবে। কিন্তু তাদের আজ ইফতারে না আসাটা দুঃখজনক।’’

তিনি সেসময় সাংবাদিকদের জানান, ‘‘বিরোধী দলীয় নেতার এই ইফতারে দলের প্রেসিডেন্ট এরশাদ মহাসচিবসহ সভপতিমন্ডলীর সদস্যদের অংশ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আজ এখানে এসে খুশি হয়েছি।’’

১৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় পার্টি যুক্ত হবে কিনা প্রশ্ন করা হলে কাজী জাফর বলেন, ‘‘অপেক্ষা করুন। সব দেখতে পাবেন। জাতীয় পার্টি সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে এগোয়।’’

বিকল্পধারা বাংলাদেশ’র সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের নেতার ইফতার যোগ দেয়নি, এটা নতুন কিছু নয়। আমি এতে অবাক হইনি।’’ ‘‘তবে আমরা মনে করি- তারা এই ইফতারে যোগ না দিয়ে সমঝোতার রাজনীতির একটি সুযোগ হারালো।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট- বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনেই হতে হবে।’’

মঞ্চে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ১৮ দলী জোট নেতাদের সঙ্গে একটেবিলে বিকল্পধারার সভাপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জাতীয় পার্টির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফর আহমদ, মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বসে ইফতার করেন।

পাশাপাশি ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ভারপ্রাপ্ত আমীর নাসির উদ্দিন আহমেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির সভাপতি সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আমীর আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মুর্তজা, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবদুল মোবিন, মুসলিম লীগের একাংশের  নির্বাহী সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খাঁন, অপর অংশের সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুল হক মজুমদার, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি এবং খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা শাহ আহমেদুল্লাহ আশরাফ ছিলেন।

ইফতারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, সারোয়ারি রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান মঞ্চে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইফতার করেন।

এছাড়া হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধি মাওলানা নুর হোসেন কাশেমী, মাওলনা এম এ করিম ইবনে মোসাব্বির উপস্থিত ছিলেন। ইফতার মাহফিলে জাতীয়তাবাদী উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেকের পরিচালনায় দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ মোনাজাত হয়।

ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতাদের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, রাজিয়া ফয়েজ, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, হারুনুর রশীদ খান মুন্নু. বরকত উল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, রাশেদা বেগম হীরা এমপি, শাম্মী আক্তার এমপি, নবনির্বাচিত মেয়রের রাজশাহী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনার মনিরুজ্জামান মনি, গাজীপুরের অধ্যাপক এম এ মান্নান, সিলেটের আরিফুল হক চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও সাংসদরা অংশ নেন।

এদিকে আমন্ত্রিত অতিথির চেয়ে ইফতারির অপ্রতুলতায় ইফতারের আগমুহূর্তে দফায় দফায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এলডি হলে। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেকেই ইফতার না করেই বেরিয়ে যান। এ ব্যাপারে বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, ইফতারের দাওয়াত দেয়া হয়েছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয় থেকে। কিন্তু গুলশান কার্যালয় ও দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শেয়ার করুন