এখন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব

0
49
Print Friendly, PDF & Email

১৪৩৪ হিজরির পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিনের প্রত্যুষেই কলম ধরেছি। এ সময়টা আমার লেখার জন্য নির্ধারিত নয়। অনেকটা ছকে বাঁধা নিয়ম-কানুনের মধ্যেই আমি চলতে অভ্যস্ত। যত রাতেই ঘুমুতে যাই না কেন- কিংবা সেহরির পর ঘুমিয়ে পড়লেও ভোরের সূর্য আমার আগে জাগতে পারে না। তারপর শুরু হয় আমার দৈনন্দিন কর্ম। আজ একটু ব্যতিক্রম করলাম। নির্দিষ্ট কর্মাদি পরিত্যাগ করে লিখতে বসেছি। কিছুটা মনের তাগিদে- কিছুটা রাজনৈতিক প্রয়োজনে। আজ যে ব্যতিক্রমটা ঘটালাম এটা কেন? অনিবার্য কারণ- এই কর্মটি সাধন করা। কোনো মানুষ ট্রেনের মতো রেলপাটির উপর দিয়ে চলে না। মানুষের জন্য সব রাস্তা খোলা। সে তার সুবিধামতো পথে চলতে পারে। এটা জীবনের নিয়ম। আইন-কানুন, নিয়মনীতি সবই মানুষের সৃষ্টি। তাই তা পরিবর্তনযোগ্য। যা আল্লাহর আইন, যা ধর্মীয় বিধান- কেবল তা-ই অপরিবর্তনীয়। এসব কথা আমার রাজনৈতিক প্রয়োজন কিংবা বিবেকের তাগিদের কথা নয়। আজ সকালে একটি নিয়ম ভঙ্গ করে, মনে করলাম খুব কি অপরাধ করে ফেলেছি? এই যে আমি প্রতিনিয়ত একটি সমালোচনার সম্মুখীন হই- ‘সকালে এক কথা বিকালে আর এক কথা বলি’- এর মধ্যে কতটা সত্য আছে, কতটা অনিবার্যতা আছে, তা জানা-বোঝা কিংবা যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করা হয় না। সমালোচনা করতে হবে- সুতরাং তা করতেই হবে। তার পেছনে কোনো যুক্তি থাক আর না-ই থাক। এই যেমন আজ, রোজ সকালে খবরের কাগজ দেখি, তারপর ব্যায়াম করি ইত্যাদি। আজ নিয়মিত কাজ না করে লিখতে বসেছি। সুতরাং বলাই যায়, এরশাদ সাহেব একদিন সকালে পেপার পড়েন, একদিন ব্যায়াম করেন, আর একদিন লেখালেখি করেন, সুতরাং তার কোনো সকালের ঠিক নেই। যদি এ ধরনের সমালোচনা হয় তাহলে বলার কি থাকতে পারে? সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি কাকে সমর্থন দিলাম অথবা কাকে দোয়া করলাম কিংবা কি বললাম আবার কি করলাম, তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেল। এ বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই। তার আগে এই প্রসঙ্গের একটু ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমার দলের সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে এসেছিলেন। নির্দ্বিধায় বলতে পারি যিনি আমাদের প্রার্থী ছিলেন, তিনি ছিলেন সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তার মেধা- জ্ঞান-শিক্ষা-যোগ্যতা-দক্ষতা-সততা-ন্যায়পরায়ণতা- সব দিক থেকে তিনি ছিলেন সবার ঊধের্্ব। তবে নিচে ছিলেন অর্থে। অস্বাভাবিক অর্থের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় আমাদের প্রার্থী টিকতে পারবেন না বলেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এসেছিলেন। সেই অবস্থায় আমার দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা পড়লেন বিপাকে। এদিকে গোটা দেশের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো গাজীপুরের নির্বাচনের ওপর। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচন হলেও এই নির্বাচন এক প্রকার ‘জাতীয়’ নির্বাচনের পর্যায় চলে গেল। ভবিষ্যৎ রাজনীতির ব্যারোমিটার হয়ে গেল গাজীপুর নির্বাচন। ফলে রাজনৈতিকভাবে একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিল।

এমন সময় একজন প্রার্থী, যিনি ১৪ দলের সমর্থিত- আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দোয়া এবং সমর্থন চাইলেন। আমি তাকে দোয়া করলাম এবং তার শুভকামনা করলাম। সমর্থন করতে পারলাম না। তিনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে মিডিয়াকে শুধু দোয়া করার কথাই জানালেন। এর একদিন পর এই নির্বাচনের অপর প্রার্থী যিনি ১৮ দলীয় জোটের সমর্থিত, তিনিও আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তাকেও আমি একই কথা বললাম। কিন্তু তিনি বাইরে এসে আমাকে একটু বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেললেন। তিনি মিডিয়াকে জানিয়ে দিলেন, আমি তাকে দোয়া এবং সমর্থন- দুই-ই করেছি। কথাটি মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচার পেল। ফলে সারা দেশে আমার দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটা গুঞ্জন শুরু হলো- তাহলে কি আমরা ১৮ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে গেছি? এমতাবস্থায় আমাকে সত্য কথাটাই বলতে হলো যে- গাজীপুর নির্বাচনে আমি কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন দিইনি- শুধু দোয়া এবং তাদের শুভকামনা করেছি। আমার দলের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তাদের পছন্দমতো যোগ্য প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে পারবেন। কিন্তু তাতেও বিভ্রান্ত দূর হলো না। প্রচারণা থেকেই গেল যে, আমি ১৮ দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছি।

এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে, বিবৃতিতে আমি বলেছিলাম, কোনো প্রার্থীকে আমি তখনো কোনো সমর্থন দিইনি। তার আগেও কখনো বলিনি যে, আমি কাউকে সমর্থন দেব না। সমর্থন ‘দিইনি’ বলার মানে কিন্তু এই ছিল না যে, আমি কাউকে সমর্থন দেব না। শেষ পর্যন্ত আমি মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই সমর্থনের কথা ব্যক্ত করলাম। আর বিতর্কটা শুধু এই সমর্থন দেওয়া নিয়ে। সমর্থন দেওয়া ভুল হয়েছে নাকি সঠিক হয়েছে- তা নিয়ে সমালোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে। কিন্তু সমর্থন দেওয়া না দেওয়া নিয়ে আমার মধ্যে কখনো দুই কথা ছিল না। অথচ সেটাই হয়ে গেছে, আমার সকালে এক কথা- বিকালে আর এক কথা।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন ছিল একটি অরাজনৈতিক নির্বাচন। আর মহাজোট ছাড়া না ছাড়া হচ্ছে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। একটি অরাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত মিলিয়ে ফেলতে চাইনি। আমরা মহাজোটে থাকব কি থাকব না সেটা পরবর্তী সিদ্ধান্তের ব্যাপার। বাস্তবতা হচ্ছে, এখনো আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসিনি। সে অবস্থায় একটি অরাজনৈতিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহাজোট ছাড়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া অন্য জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ধূম্রজাল পরিষ্কার করা ছিল তখন আমার দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই আমি এখানে মহাজোটের প্রার্থীকেই সমর্থন জানিয়েছিলাম। তবে এখানে আমার একটি রাজনৈতিক কৌশলও ছিল বিদ্যমান। একটি জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এবং সেখান থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া বেরিয়ে না এসে অন্য কোনো দল বা জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানার শামিল এবং তা আমার নীতি ও নৈতিকতারও পরিপন্থী। যতক্ষণ যার সঙ্গে থাকব- ততক্ষণ সম্পূর্ণ বিশ্বস্ততার সঙ্গেই থেকে যাব। ভেতরে থেকে অন্তত অন্তর্ঘাতমূলক কোনো কাজ আমি কখনোই কারও সঙ্গে করি না, করছি না, করবও না। তাই আমি নীতি ও আদর্শগতভাবে গাজীপুর নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন দিয়ে কোনো ভুল করিনি। সর্বোপরি এখানে আমার রাজনৈতিক কর্মকৌশল সফল হয়েছে- সেটাই আমার সাফল্য। কী সেই কর্মকৌশল- সেটা ব্যক্ত করার আগে জানাতে চাই- মহাজোট জাতীয় পার্টির প্রতি কি আচরণ করেছে এবং সেই মহাজোটে আমরা থাকতে পারি কী না-। মহা ঐক্যজোট হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে রাজপথে-জনতার মাঝে দেশ ও জাতিকে রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছিল। সেখানে আমাদের কিছু লক্ষ্য ছিল, প্রতিশ্রুতি ছিল এবং নিজেদের মধ্যে একটা চুক্তিও ছিল। যে দিন আমি ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে ১৪ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগদান করে মহাজোট সৃষ্টি করেছিলাম, সেদিন দেখেছিলাম আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কী মহা উত্তাল ঢেউ! যে ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে এখন টেন্ডারলীগ বলে উপহাস বা নিন্দা করা হয়, সেদিন ছিল তারা আন্দোলন-সংগ্রামের মাঠের পোড়খাওয়া সোনার ছেলে, সূর্য সৈনিক। তারা সমস্বরে চিৎকার করে বলেছিল- ‘স্যার, আপনি আমাদের সঙ্গে এসেছেন, আপনার জন্য জীবন দেব- আমরা আপনার মর্যাদা রাখব।’ কিন্তু কী হলো তারপর? সেই সোনার ছেলেগুলো নষ্ট হয়ে গেল! জনতার সাগরের সেই মহা আনন্দের ঊর্মি কোথায় হারিয়ে গেল? কেন হারিয়ে গেল? সব কারণের মূল কি শুধুই এক ক্ষমতার, অপ্রকৃতস্থ দম্ভ? ক্ষমতা কী মানুষের স্বাভাবিক আচার-আচরণ, মনুষত্ব-মানবিকতা-সাধারণ জ্ঞান-বুদ্ধি-নীতি-নৈতিকতা-সততা-আদর্শ-ভবিষ্যৎ চিন্তা এসব কিছু থেকে বিচ্যুত করে ফেলে? তা না হলে তো মহাজোট নামের কথিত এই সরকারের এতটা করুণ পরিণতিতে ডুবতে হতো না। আমার এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে- মহাজোট গঠনের ঘোষণাকালের সেই অভূতপূর্ব উচ্ছ্বাসের দৃশ্য। আর আজ আমি জানি- দেশের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো পর্যায়ের জনসমাবেশের মধ্যে যদি ঘোষণা করি, এই মুহূর্তে আমি মহাজোট ছেড়ে দিলাম- তা হলে মুক্তি আনন্দের মহা তুফান উঠবে দেশজুড়ে। প্রশ্ন আসতে পারে তাহলে এখনো কেন দেশবাসীকে আমি সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছি? তারও উত্তর আছে। মানুষ প্রকৃতির দাস। গোটা বিশ্ব চলে প্রকৃতির নিয়মে। এ নিয়মটি প্রবর্তন করেছেন- স্বয়ং আল্লাহতায়ালা। তাই আমাদের চলতে হয় স্থান-কাল ও পাত্রের বিবেচনায়। মাতৃগর্ভে একটি সন্তান এলেই তার আপনজনরা আনন্দ অনুভব করে। সেই আনন্দের চূড়ান্ত রূপ লাভ করে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু তার জন্যও দশ মাস দশ দিন অপেক্ষা করতে হয়। তা হলেই একটি পূর্ণাঙ্গ শিশুর মুখ দেখতে পারি। আমি জাতিকে অপূর্ণ আনন্দ দিতে চাই না। গণতান্ত্রিক নিয়মটাকে ভঙ্গ করতে চাই না। তাহলে আগামীর জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। একটি সরকারের ব্যর্থতা-সফলতা দুই-ই থাকতে পারে। দেখতে হবে সেখানে কোন দিকের পাল্লা ভারি। বলার অপেক্ষা রাখে না, বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার পাল্লাটাই বেশি ভারি। কিন্তু গণতান্ত্রিক নিয়মে একটি নির্বাচিত সরকারকে অবশ্যই তার নির্দিষ্ট সময় দিতে হবে। মহাজোটের নামে যারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন, আমি তাদের সেই সময় দিতে চেয়েছি মাত্র। যারা সেই সময় দিতে চান না, তাদের অতীত রেকর্ডও কিন্তু মানুষ ভোলেনি। আমি মহাজোটে শরিক হয়েছি, পাঁচ বছরের একটি সরকার পরিচালনার প্রতিশ্রুতি নিয়ে। তবে আজীবনের জন্য নয়। মহাজোট নামে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন, তারা আমার সঙ্গে সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন। তবে আমি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের কালো তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চাইনি। তাই এই সরকার ক্ষমতায় আসার বছরখানেকের মধ্যেই মহাজোট ছাড়ার আক্ষরিক ঘোষণা দিইনি, বরং সহযোগিতা করতে চেয়েছি, কিন্তু তার পাশাপাশি পরিবর্তীতে এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে আসছি এবং এখনো সেই অবস্থানে আছি। এ অবস্থানটা কি আমার মহাজোটে থাকা হলো? একটু আগে মাথায় করে ক্ষমতায় বসাব- আবার পরমুহূর্তে টেনেহিঁচড়ে নামাব- এই পরিস্থিতি যদি ক্রমাগত চলতেই থাকে তাহলে দেশে স্থিতিশীলতা থাকে না। গণতন্ত্রের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

পাকিস্তানের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস অনুকরণীয় নয়। তবে সাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত থেকে একটা শিক্ষা নেওয়া যায়। সেখানে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিকভাবে একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। যে দলটি বিগত আমলে বিরোধী দল হয়েও একাধিকবার ক্ষমতাসীন দলকে রক্ষা করেছে এবং পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় থাকার সুযোগ দিয়েছে। বিনিময়ে পাকিস্তানের জনগণের কাছ থেকে সেই সহনশীল দলটি দেশের শাসনভার উপহার পেয়েছে। আমিও দেশে সহনশীল রাজনৈতিক ধারা প্রবর্তনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি জানি অতি বিপ্লব প্রকৃত বিপ্লবকে নস্যাৎ করারই একটি প্রক্রিয়া। আর সেখানে লাভবান হয় প্রতিক্রিয়াশীল মহল। আমি যদি আকস্মিকভাবে অতি বিপ্লবী হয়ে মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা দিতাম, তাহলে কে লাভবান হতো- আমার দল না অন্য কোনো পক্ষ। আমি তো আমার ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার রাজনীতি করতে পারি না। আমাকে দেখতে হয় গোটা দলের স্বার্থ। তার জন্য আমাকে রাজনৈতিকভাবে কৌশলী হতে হয়। আমার দল আজ ২৩ বছর ক্ষমতার বাইরে। ক্ষমতায় থাকা একটি দল এতটা সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও এখনো টিকে আছে। এই দলটিকে আমার টিকিয়ে রাখতে হয়েছে। আমার কর্মীরা খেয়ে না খেয়ে এখনো টিকে আছে। তাদের টিকিয়ে রাখা- তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঠিক করে রাখা আমার দায়িত্ব। শুধু ব্যক্তিস্বার্থ রক্ষার জন্য দলীয় স্বার্থ আমি বিসর্জন দিয়ে কারও মন রক্ষা করতে পারব না। মহাজোট আমার দলকে বঞ্চিত করেছে- কোনো স্বার্থের বঞ্চনার কথা বলছি না, রাজনৈতিক বঞ্চনার কথা বলছি। আমাকে তথা আমার দলকে অবহেলা করেছে, অবমূল্যায়ন করেছে। আমরা শুধু নির্যাতনের শিকার হইনি- (নির্যাতিত হওয়ার মতো কোনো কাজ আমরা করিও না) তবে জোটের শরিক হিসেবে কোনো মর্যাদাও পাইনি।

মহাজোট গঠনের শুরু থেকেই প্রধান শরিকদের একটা দুরভিসন্ধি ছিল জাতীয় পার্টিকে বঞ্চিত রাখার। মহাজোট গঠনের শর্ত কি ছিল? জাতীয় পার্টিকে ৬০টি সংসদীয় আসন দিতে হবে। সেই শর্ত বরখেলাপ করে অনেক টালবাহানার পর সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করা হলো- জাতীয় পার্টিকে ৪৬ আসন দেওয়া হবে। পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমরা সেটাই মেনে নিলাম। তারপর সেখানেও কারসাজি। এই ৪৬টি আসন দেওয়ার কথা বলে তার মধ্যে ১৭টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হলো। ফলে আমরা মাত্র ২৯টি আসনে মহাজোটগতভাবে নির্বাচন করার সুযোগ পেলাম। এতটা বিশ্বাস ভঙ্গের পরেও আমি মহাজোটের সাফল্য চাইলাম। আমি নিজের দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারের আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রথম প্রচারে নামলাম। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে ৬২টি পথসভা-জনসভায় বক্তব্য রেখেছি। নৌকায় ভোট চেয়েছি। কিন্তু জোটের অন্য কোনো শরিক দলের নেতার কাছ থেকে জাতীয় পার্টি এই সহযোগিতা পায়নি। আমার দলের প্রার্থীর জনসভায় বলেছি_ যেখানে নৌকা, যেখানে লাঙ্গল সেখানেই ভোট দিন। এর ফলে আমার দলের ১৭ আসনে নৌকায় প্রার্থী থাকায় অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে নৌকায় ভোট দিয়েছে। তার জন্য পরাজিত হয়েছে আমার দলের প্রার্থীরা। ২৯টি আসন আমাকে দেওয়া হলো। তার মধ্যে ২৭ আসনে আমরা বিজয়ী হলাম। আওয়ামী লীগের আড়াই শতাধিক সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও চোখ পড়ল আমার ২৭ আসনের মধ্যে। আমার একটি ছেড়ে দেওয়া আসন উপ-নির্বাচনে কেড়ে নেওয়া হলো। এমনকি সেখানে আমি নির্বাচনী প্রচারে গেলে আমার গাড়ির ওপর হামলা করা হলো। বাকি থাকল ২৬ জন। তার মধ্যে আমার দলের একজন সদস্য মারা গেলেন, উপ-নির্বাচনে সেই আসনটাও আওয়ামী লীগ কেড়ে নিল। আজ যদি জিজ্ঞাসা করি কেন করেছেন এটা। কী জবাব দেবেন?

শর্ত ছিল আমাকে ছয় মাসের জন্য রাষ্ট্রপতির পদ দেওয়া হবে। নয় বছর নির্বাহী ক্ষমতার রাষ্ট্রপতি ছিলাম। ছয় মাসের জন্য শুধু বাণী প্রদানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার শখ আমার ছিল না। একবার অন্তত বলেই দেখতেন ছয় মাসের জন্য এই পদটি গ্রহণ করবেন কিনা। অবশ্যই আমি বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিতাম। কারণ জনগণ থেকে আমি ছয় দিনের জন্যও বিচ্ছিন্ন থাকতে পারতাম না। তাতেও যদি সন্দেহ থাকত তাহলে আস্তে আস্তে বলতে পারতেন আপনাকে রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণের জন্য বলব; কিন্তু আপনি প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দেবেন। দেখতেন কী করতাম।

আমি কি মহাজোটকে ক্ষমতায় আনার জন্য কোনো ভূমিকা রাখিনি? ১৫৩টি আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে ২০০ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। কার কাছ থেকে পেয়েছিলেন এই ভোট? মন্ত্রিসভায় কি জাতীয় পার্টির একজন মাত্র মন্ত্রী পাওয়ার কথা? সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি সরকারি পদে জাতীয় পার্টি থেকে কি একজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে? বলা হয় মহাজোটের সরকার। সেই সরকার ৬৪ জেলায় জেলা পরিষদে ৬৪ জন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। সেখানে কি একজন জাতীয় পার্টির প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়া যেত না? নিয়োগ তো দূরের কথা, একবার এটা নিয়ে কি একটু আলোচনাও করা যেত না? কারণ সব নিয়োগই তো হয়েছে রাজনৈতিকভাবে। যতগুলো উপ-নির্বাচন হয়েছে সেখানে প্রার্থী দেওয়ার আগে একটিবার হ্যালো করেও বলা হয়নি যে, আমরা এই নির্বাচনে একজন প্রার্থী মনোনীত করেছি, আপনার কী মত। এ ধরনের অবহেলার মুখে আমরা হবিগঞ্জের উপ-নির্বাচনে একজন দলীয় প্রার্থী দিয়েছিলাম। কোনো প্রচারণা ছাড়া সাড়ে ২২ হাজার ভোট পেয়েছিলাম। ফলে আওয়ামী লীগের আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ১ হাজার ২০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। আমরা বুঝতে চেয়েছিলাম জাতীয় পার্টি মহাজোটে থাকলে কী হয়, আর আলাদা থাকলে কী হয়। সেখানেও শিক্ষা হলো না। সম্প্রতি পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণার আগে একবারও মহাজোটের কথা মনে আসেনি। বলা হয়েছে ১৪ দলের সমর্থিত প্রার্থী। শেষ নির্বাচনে অবস্থা বেগতিক দেখে আমার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। আমি শুধু রাজনৈতিক কারণেই সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছি। কী সেই রাজনৈতিক কারণ সেটাই ব্যাখ্যা করছি। তার আগে বলে রাখি মহাজোট জাতীয় পার্টির প্রতি যে অবহেলা-অবজ্ঞা-অবমূল্যায়ন-অমর্যাদা ও অবিচার করেছে, তারপর আর কোনো কথায় কি এই জোটে থাকা যায়? তথাপিও আমি সময় ক্ষেপণ করেছি দেশে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক নিয়ম রক্ষার স্বার্থে। নিজের স্বার্থের কথা এতটুকু ভাবিনি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রায় ছয় হাজার মামলা প্রত্যাহার করেছেন। মাদক পাচারের মামলাও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছিল তার সঠিক সংখ্যা বলতে পারব না। সব ছিল রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা। কোনো মামলা আমি প্রত্যাহার চাইনি, শুধু ন্যায়বিচার চেয়েছি। তাও পাইনি। একটি মামলায় ১৮ বছর ধরে কোর্টে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি। ১২ বার বিচারক বদল হয়েছে মামলার সুরাহা হয়নি। এসবই মহাজোট সরকারের কাছ থেকে আমার পাওয়া উপহার। তারপরও আমাকে মাঝেমধ্যে শুনতে হয় এই সরকারের কাছ থেকে আমি সুবিধা ভোগ করেছি। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সেই সমালোচনাও শোনা যায় আমার দলের কোনো কোনো নেতার মুখ থেকে। আমি একটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার হয়েছি- এই আমার অপরাধ। আমি ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যানও নই। আমার কোনো আত্দীয়স্বজনকে এই ব্যাংকে চাকরি দিতেও যাইনি। শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হিসেবে এ পর্যন্ত আমি দুটি বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নিয়ে ১০ হাজার টাকা পেয়েছি। এটাই আমার লাভবান হওয়া। অথচ এই ব্যাংকের শেয়ার নেওয়ার ইচ্ছা থেকে বঞ্চিত হওয়া কেউ কেউ বিভিন্ন ফোরামে বলে থাকেন- আমি সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে মহাজোট ছাড়ব কীভাবে? আমি বর্তমানে সরকারের আমলে শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করতে যাইনি। কেউ যদি মনে করেন একটি ব্যাংকের সামান্য শেয়ার কেনায় জাতীয় পার্টির বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, তাহলে দলের স্বার্থে যে কোনো সময় আমি সে শেয়ারও ছেড়ে দিতে পারি। বর্তমান সরকারের আমলে যত ব্যাংক-বীমার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে কি বিএনপির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যবসায়ীর কোনো শেয়ার নেই?

যাই হোক, এবার ফিরে আসি গাজীপুরের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থীকে কেন সমর্থন দিলাম সে প্রসঙ্গে। বর্তমান সরকার কতটুকু ভালো করতে পারবে সে আলামত আমি এক বছর যেতে না যেতেই বুঝে নিয়েছিলাম। কারণ কোনো সরকার যখন আত্দঅহমিকায় ভুগতে থাকে তখন তার বিপর্যয় অলক্ষ্যে মুচকি হাসে। আমি সেই হাসিটাই দেখতে পেয়েছিলাম। আর সে কারণেই বলেছিলাম, আগামীতে আমরা এককভাবেই নির্বাচন করব। ‘৯০ সালের পর দুটি দলের চারটি সরকার ক্ষমতায় এসেছে; কিন্তু পরপর দুবার কেউ নয়। এর পেছনে দুর্নীতি, দুঃশাসন, অযোগ্যতা, দেশ পরিচালনার অদক্ষতা যতটাই না কাজ করেছে তার চেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে আত্দঅহমিকা এবং প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন মানসিকতা। ফলে সংঘাত-ধ্বংসাত্দক রাজনীতির প্রবণতা ক্যান্সারের মতো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই রোগে বর্তমান সরকার চরমভাবে আক্রান্ত হয়েছে। তাই মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসা আমার জন্য অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে আবার এ কথাও এসেছে যে বেরিয়ে এলাম; কিন্তু তারপর কি? ক্ষমতায় কারা আসবে? এদেশে যদি তালেবানি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে কী দাঁড়াবে? আমি যদি ক্ষমতায় আসতে পারি তাহলে সব কূল রক্ষা পাবে। ধর্ম, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সব দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক- সবই বজায় থাকবে। কিন্তু আমি দিব্যিভাবে জানি সেটা মহাজোটে থাকলে সম্ভব নয়। কারণ মহাজোট থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ আমার যারা শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের মধ্যে কারও কারও একটা ধারণা ছিল যে- এখনো আওয়ামী লীগের যে সাংগঠনিক শক্তি রয়েছে, তার সঙ্গে জাতীয় পার্টি থাকলেই তারা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে, যা আমি মানতে পারিনি। এই বিষয়টা স্পষ্ট করার জন্যই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলে বিবেচিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি ১৪ দলের সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছিলাম। আমি প্রমাণ করতে পেরেছি মহাজোটে জাতীয় পার্টি থাকলেও কোনো লাভ হবে না। কারণ আমি বললেও আমার দলের সদস্যরা, অভিমানী কর্মীরা আর নৌকার পক্ষে ভোট দিতে যাবে না। গাজীপুরের নির্বাচনের পর এখন আর কেউ আমাকে বলতে পারছেন না যে ‘মহাজোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত সঠিক নয়।’ অর্থাৎ আমি যুক্তিপূর্ণভাবে মহাজোট থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। তবে আমি যেহেতু মহাজোট গঠনের একজন রূপকার ছিলাম, সেহেতু আমি অবশ্যই এই জোটের অন্য শরিকের সাফল্য কামনা করব। আশা করব তারা যে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তা পুনরুদ্ধারে সক্ষম হবেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি সচেতনভাবেই মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছি। আমি মহাজোটের অবস্থানকে স্পষ্ট করতে পেরেছি। এই নির্বাচনের ভোটের ফলাফল পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হবে যে, বিজয়ী প্রার্থীর বিজয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যতটা না কাজ করেছে তার চেয়ে বেশি কাজ করেছে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মধ্যে মোট ভোটার ছিল ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮। তার মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪০। অর্থাৎ অর্ধেক ভোটও নয়। এখানে ভোট পড়েছে ৬৩ শতাংশ। ৩৭ শতাংশ ভোটার অনুপস্থিত কেন। কারণ তারা দুটি দল থেকেই মুখ ফিরিয়ে আছে। সাধারণত স্থানীয় সরকারব্যবস্থার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি বেশি থাকে। কিন্তু এখানে দেখা গেল সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কম ভোট পড়েছে। অথচ দুটি পক্ষই ভোটের ফল অনুকূলে আনার জন্য মরিয়া ছিল। যিনি বিজয়ী হয়েছেন তার প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল সাড়ে ৩৫ শতাংশ। অপরদিকে ৩৭ শতাংশ ভোটার অনুপস্থিত। দুটি দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের দিকেই জাতীয় পার্টির লক্ষ্য।

গাজীপুর নির্বাচনের দুই দিন আগে আমার সমর্থন ঘোষণার বিষয়টি দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী যে ভালোভাবে মানতে পারবে না তা আমার জানা ছিল। আমি কেন মহাজোট থেকে এখনো বেরিয়ে আসি না- সেটা একটি যন্ত্রণা হয়ে রয়ে গেছে। তার ওপর আবার সেখানে সমর্থন দেওয়া- এটা হয়তো যন্ত্রণার ওপর আর এক যন্ত্রণা। কিন্তু আমি যা করেছি এবার নিশ্চয় তা সবাই অনুধাবন করছেন। বিষফোঁড়ায় যন্ত্রণা থাকে; কিন্তু তার মধ্যকার পুঁজ-রক্ত বের করে পূর্ণাঙ্গ উপসম পেতে হলে ব্যথার ওপর আরও ব্যথা দিয়ে কাঁটার খোঁচা লাগাতে হয়। আমি সে কাজটিই করেছি। এটাই ছিল আমার রাজনৈতিক কৌশল। আমার ওপর দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমি যা করব তা তাদের মঙ্গলের জন্যই করব। রাজনীতি কখনো জ্যামিতির সরলরেখায় চলে না। সরলরেখাকে চলতে দিলে তা বইয়ের বাইরে চলে যায়। রাজনীতি একটি আবর্তিত বিষয়। গতি পরিবর্তন রাজনীতির ধর্ম। অনিবার্য কারণেই এই পরিবর্তন সাধিত হয়। গাজীপুরের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সেটা কোনো রদবদল করা সিদ্ধান্ত নয়। তা ছিল একক ও অভিন্ন। ওই সিদ্ধান্তের ফলে আমি এখন মুক্ত মনে এবং সবার সন্দেহ দূর করে সঠিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারব। অপেক্ষায় থাকুন সেই সিদ্ধান্ত জানার জন্য- যে সিদ্ধান্ত আশান্বিত করবে গোটা জাতিকে।

শেয়ার করুন