বিস্ময়কর বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ভাবন

0
161
Print Friendly, PDF & Email

মহাজাগতিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক বিস্ময়কর পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ এফ কামাল। এই অত্যাশ্চর্য আবিষ্কারে অভিভূত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাশ্রয়ের কথা চিন্তা করে আবিষ্কারকের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ী শিল্পপতি-উদ্যোক্তারা। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজসহ (সিসিসিআই) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার উদ্ভাবিত বিশেষ বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছে। প্রকল্পটির মধ্য দিয়ে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইঞ্জিনিয়ার ড. আহমেদ এফ কামালের এই বিশেষ বিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্যতম বিশেষত্বগুলো হলো- এটি পরিবেশবান্ধব, এতে ধোঁয়া, শব্দ, ক্ষতিকারক বর্জ্য বা তেজষ্ক্রিয়তা নির্গমন হয় না, এ থেকে সারা বছর একই হারে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়, এটিকে সহজে এবং নামমাত্র খরচে রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় এবং স্থাপনের জন্য অত্যন্ত স্বল্প স্থানই যথেষ্ট। তবে প্রকল্পটির সবচেয়ে চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এটি নিয়মিত কোনো জ্বালানি (তেল, গ্যাস, কয়লা বা তেজষ্ক্রিয়তা পদার্থ) অথবা প্রাকৃতিক শক্তি (পানি, বাতাস বা সৌররশ্মি) ছাড়াই কেবলমাত্র চৌম্বকক্ষেত্রে তরঙ্গের পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। সুতরাং উৎপাদিত বিদ্যুতের দামের পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের তহবিলে মুনাফা হিসেবে জমা হবে।

সদ্য মার্কিন মুলুক থেকে ফেরা পারড়ু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সবচেয়ে কম সময়ে ব্যাচেলরস ড. আহমেদ এফ কামাল চট্টগ্রামের বাসভবনে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার এই প্রকল্পের মাধ্যমে অভাবনীয় ব্যয় হ্রাসের সুযোগটি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশে নিকট ভবিষ্যতেই বিদ্যুতের দাম কমবে, চাহিদাও মিটবে সহসাই। উপরন্তু বিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহার ও জাতীয় চাহিদা পূরণ করে বিদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আয় হবে হাজার হাজার কোটি টাকা। সিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম বন্দর আসনের এমপি এম এ লতিফ বলেন, ড. আহমেদ এফ কামাল উদ্ভাবিত প্রকল্পটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের জন্য সিসিসিআই প্রস্তাব দিয়েছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে এটি সম্ভব হলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে নতুন যুগের সূচনা ঘটবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বিশিষ্ট গবেষক নাসিমুল কামালের ছেলে আহমেদ এফ কামাল। ছেলের এই উদ্ভাবনের বিষয়ে জানাতে গিয়ে তিনি জানান, ড. আহমেদ তার আবিষ্কারের ওপর পৃথিবীর সবচেয়ে খ্যাতনামা বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘নেচার’-এর জন্য একটি প্রবন্ধ রচনা করছেন। উল্লেখ্য, নেচার সম্পাদক এবং লেখকরা সবাই পরবর্তীকালে পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল কিংবা সমকক্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। ড. আহমেদ সেই সফল বিজ্ঞানীদের একজন যারা তাত্তি্বক এবং ব্যবহারিক দুই ধরনের গবেষণাই করেছেন। তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গসহ পদার্থবিদ্যা, গণিত এবং প্রকৌশলবিদ্যার বহু শাখায় তার মৌলিক গবেষণা রয়েছে। তার অন্যান্য আবিষ্কারের বিবরণ ইন্টারনেটে নাসা এবং বেল ল্যাবরেটরিসহ বহু বিশ্বখ্যাত সাইটে পাওয়া যায়। প্রচারবিমুখ ড. আহমেদ থ্রিডি ইমেজ প্রসেসিংয়ের অন্যতম আবিষ্কারক (যা চিকিৎসা জগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনকারী এবং বহু জীবন রক্ষাকারী এমআরআই, সিটিস্ক্যান, ত্রিমাত্রিক সার্জারি জাতীয় প্রযুক্তিসমূহের এবং থ্রিডি টেলিভিশনের সূচনা করেছে) এবং থ্রিজি-ফোরজি টেলিকমিউনিকেশন্সের অন্যতম প্রবক্তা (যা পৃথিবীকে মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের বর্তমান থ্রিজি-ফোরজি সংস্করণগুলোর দ্বারপ্রান্তে এনে দিয়েছে)। কিংবদন্তি আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ফেনীর গভর্নর মরহুম খাজা আহমেদ এমপির নাতি ড. আহমেদ । অধ্যয়ন করেছেন আমেরিকায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। তিনি পারড়ু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বকালের সবচেয়ে কম সময়ে ব্যাচেলরস, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স এবং বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাবলিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে আরেকটি মাস্টার্স এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার, ফলিত গণিত এবং আইসিটিতে বিশেষজ্ঞতা লাভ করেন। অত্যন্ত অল্প বয়স থেকেই তিনি গবেষক, অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান পদে আমেরিকায় এবং বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন।

শেয়ার করুন