বিএনপির কাছে হারিনি : আজমত ব্যর্থতার দায় আমার : মোজাম্মেল

0
170
Print Friendly, PDF & Email

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবি নিয়ে গাজীপুর আওয়ামী লীগে উত্তাপ কাটছে না। প্রকাশ্যে কেউ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না তুললেও চাপা বিভক্তি এখন স্পষ্ট। পরাজিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকটে আজমত উল্লাহ খান বলেছেন, তিনি বিএনপির কাছে হারেননি। অন্যদিকে, তার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

নতুন গঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনে (জিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ৬ জুলাই। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান বিপুল ভোটে পরাজিত হন। মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত অধ্যাপক এম এ মান্নান। নির্বাচনে পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন দলের অন্তর্কোন্দলের বিষয়টি। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী প্রকাশ্যে আজমতের পক্ষে কাজ করলেও আড়ালে তার বিরুদ্ধে ছিলেন। অনেকে আবার মাঠেই নামেননি। অবশ্য, বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় ইস্যুতে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতারই প্রতিফলন ঘটেছে সিটি নির্বাচনে। সে কারণে প্রার্থী ভালো হলেও মানুষ মূলত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, জাতীয় ক্ষেত্রে সরকারের দুঃশাসনের কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ। ভোটের মাঠে তারা জবাব দিচ্ছেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা. মাজাহারুল আলম বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে। তাছাড়া জাতীয় ইস্যুও ছিল। এ এলাকাকে আওয়ামী ভোটার অধ্যুষিত বলে ধরা হতো। আসলে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই বারবার আওয়ামী লীগ সুবিধা নিত।’ আজমত উল্লাহকে জয়ী করতে দিনরাত জনপদ চষে বেড়িয়েছেন আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, জেলায় দলের প্রধান হিসেবে পরাজয়ের সব দায়-দায়িত্ব আমারই। এ দায়ভার আমি আমার কাঁধে নিচ্ছি। কারণ আমি ব্যর্থ, আমি ঠিকমতো নির্বাচন পরিচালনা করতে পারিনি।’ দলীয় কোন্দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কোন্দল প্রকাশ্যে দেখিনি। প্রকাশ্যে দেখেছি নির্বাচনের সময় আমাদের সঙ্গে সবাই ছিল। গোপনে কেউ কিছু করেছেন কিনা, আমার জানা নেই।’ মোজাম্মেল বলেন, ‘আমি সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছি। তাছাড়া জাতীয়ভাবে যেসব অপপ্রচার ছিল, সেগুলো আমরা মোকাবিলা করতে পারিনি। আমাদের প্রার্থী ভালো ছিলেন, যোগ্য ছিলেন। ফিল্ডও ভালো ছিল। তারপরও তাকে বিজয়ী করতে পারিনি। এক্ষেত্রে নেতা-কর্মী বা অন্যদের ব্যর্থতা নেই। কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করেছেন।’

আরেক মেয়র প্রার্থী এবং শেষ সময়ে আজমত উল্লাহ খানকে সমর্থন দেওয়া জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কেও কোনো অভিযোগ নেই আ ক ম মোজাম্মেলের। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যেসব কথার প্রমাণ নেই, এমন মন্তব্য আমি করব না। আমি দেখেছি, জাহাঙ্গীর নির্বাচনের মাঠে আমাদের সঙ্গে গেছেন। তিনি আজমত উল্লাহ খানের জন্য ভোট চেয়েছেন। আর জাহিদ আহসান রাসেল এমপি সাধ্যমতো সর্বত্র গেছেন। দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।’ জানতে চাইলে আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘আমি বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোটের কাছে হারিনি।’ আর কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

শেয়ার করুন