উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে আছে কোটি টাকার যন্ত্র

0
73
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীতে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই কোটি টাকার বেশি দামের একটি ট্রান্সমিটার বসিয়েছে এক বছর আগে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়ায় ট্রান্সমিটারটি অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে।
ইতিমধ্যে যন্ত্রটির ওয়ারেন্টির মেয়াদও পার হয়ে গেছে। ট্রান্সমিটার জটিলতার কারণে শ্রোতারা ঠিকমতো অনুষ্ঠান শুনতে না পেয়ে বেতারের চিঠিপত্রের জবাবের অনুষ্ঠানে প্রায়ই অভিযোগ করছেন।
বেতার সূত্রে জানা গেছে, ২৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দেশের ১০টি বেতার কেন্দ্রে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১২টি ট্রান্সমিটার বসানো হয়। এর মধ্যে ঢাকায় তিনটি আর রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, যশোর, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে একটি করে ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। সর্বশেষ ঢাকারগুলো বসানো হয়েছে। তবে রাজশাহীরটা বসানো হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। কথা রয়েছে, একযোগে এগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। এ জন্য মাঝেমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে একই ট্রান্সমিটার সিলেটে এক বছর আগে থেকে মহাপরিচালকের অনুমতি নিয়ে চালানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীতে এক কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ট্রান্সমিটার দিয়ে বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো। সম্প্রতি সেটি নষ্ট হওয়ায় পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন অপর একটি ট্রান্সমিটার দিয়ে বিবিসির অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। ফলে এখন আর মুঠোফোনে মিডিয়াম ওয়েভের (এএম) অনুষ্ঠান পাওয়া যাচ্ছে না। এই সমস্যা দেখিয়ে ১০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সমিটারটি উদ্বোধনের আগেই ব্যবহারের অনুমতি নেওয়া যেত। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সে অনুমতির ব্যবস্থা করেনি। আবার নষ্ট এক কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারটি মেরামতেরও কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
গত বুধবার রাত নয়টায় প্রচারিত সুজনেষুতে নওগাঁর কুতুবপুরের সোনালী স্বদেশ শ্রোতা সংঘ থেকে বিল্লাল হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁরা আগে এফএম ১০৪ ও ৮৮-তে মিডিয়াম ওয়েভের অনুষ্ঠান শুনতে পেতেন। এখন আর তাঁরা মুঠোফোনে শুনতে পাচ্ছেন না।
এদিকে কয়েক দিন আগে পাঁচ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও একটি ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। এর আগে রাজশাহী বেতারের আঞ্চলিক প্রকৌশলী মেরাজ উদ্দিন আহাম্মেদ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ঠিকাদারের লোকজন যেভাবে ট্রান্সমিটার বসাতে চাচ্ছে, তাতে আগের বসানো ১০ কিলোওয়াট আর কাজ করবে না। তিনি কিছুতেই ছাড়পত্র দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এ কথা বলার কয়েক দিনের মাথায় তিনিই আবার ছাড়পত্র দিয়ে দেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটা ঠিকঠাক করেই বসানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১০ কিলোওয়াটের ট্রান্সমিটার বসানোর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আবুল বাসার পাটোয়ারী বলেন, আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী সবগুলো স্টেশন একসঙ্গে উদ্বোধন করবেন—এমনই কথা হয়েছে।

শেয়ার করুন