তথ্য এখনই দুদকে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক

0
113
Print Friendly, PDF & Email

বেসিক ব্যাংকের তথ্য ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন এখনই দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দিচ্ছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে আগে আইনজ্ঞের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ হল-মার্ক কেলেঙ্কারির তথ্য ও প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দুদকে পাঠিয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিশেষ কোনো কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষপর্যায়ের কোনো কোনো কর্মকর্তা বেসিক ব্যাংকের প্রতি সহানুভূতিশীল। তাই অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার ঋণ জাল-জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ ও অনুসন্ধান প্রতিবেদন থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
দুদকের সূত্র জানায়, তারা গত মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়ে বেসিক ব্যাংকের তথ্য চেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্টভাবে বেসিক ব্যাংকের কথা উল্লেখ না করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা দলের সভায় এ নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়। সেখানে দুদক তথ্য চাইলে তা দেওয়া যাবে কি না, এ নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, কয়েক বছর আগে দুদকে তথ্য দেওয়ার বিষয়ে একজন আইনজীবীর মতামত নেওয়া হয়েছিল। নতুন করে আরও একজন আইনজীবীর মতামত নেওয়া যেতে পারে। এতে সবাই সম্মত হন। কিন্তু দুদক যে সুনির্দিষ্টভাবে বেসিক ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে, এটি সভায় বলা হয়নি।
যদিও এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ পাওয়ার পর গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ক্ষেত্রে সন্দেহজনক কোনো কিছু পেলে অধিকতর তদন্তের জন্য তা দুদকে পাঠায়।
যোগাযোগ করা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ম মাহফুজুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, প্রচলিত আইন অনুসারে দুদক কোনো ব্যাংকের কাছে সরাসরি কোনো হিসাবের তথ্য চাইতে পারে না। দুদকের পক্ষ থেকেও এরূপ একটি সার্কুলার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা লক্ষ করি, দুদক যখন-তখন ব্যাংকগুলোর কাছে নানারূপ তথ্য চেয়ে থাকে। আবার প্রায়শই তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে নানারূপ তথ্য চায়।’
মুখপাত্র বলেন, এভাবে তাদের (দুদক) চাহিদা অনুসারে সব রকম তথ্য দেওয়া আইনসম্মত কি না, তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি একজন স্বনামধন্য আইনজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেসিক ব্যাংকের বিষয়ে ক্রমে কঠিন থেকে কঠিনতর ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
এদিকে, বেসিক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার ক্রম অবনতিশীল পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি স্মারকে স্বাক্ষর করাতে বেসিক ব্যাংককে যে সময় বেঁধে দিয়েছিল, তা পার হয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চেয়েছিল ব্যাংকটির নানা ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে। কিন্তু বেসিক ব্যাংক বেঁধে দেওয়া সময়ের (৮ জুলাই) মধ্যে স্মারকে স্বাক্ষর না করে সংশোধনীর জন্য ছয় মাস সময় চেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এতে একমত না হয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত সময় দিয়েছে।

শেয়ার করুন