বিকেলের ব্যস্ততা ইফতারিকে ঘিরে

0
80
Print Friendly, PDF & Email

বদলে গেছে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার রুটিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে আর নাশতার তাগাদা নেই। অফিস-কাচারি বা শিক্ষায়তন—যার যেখানে যাওয়ার দরকার থাকুক, পোশাক-আশাক পাল্টে রওনা দিলেই চলে। খানাপিনার তাগিদ নেই দুপুরেও। ফলে বাড়ির রান্নাঘর নিরুত্তাপ। চুলোয় আঁচ উঠছে বেলা গড়ালে। তোড়জোড় শুরু হচ্ছে ইফতারের। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। পাল্টে গেছে সিয়াম সাধনায় নিবেদিত মুসলমানদের জীবনযাত্রা।রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে বছর ঘুরে আবার এসেছে মাহে রমজান। সারা দেশেই ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিবেদিত হয়েছেন সিয়াম সাধনায়। শেষ রাতে সেহির খাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহারে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে রিপু ও প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে আত্মসংযমের সাধনা চলতে থাকবে সারা মাস। এই আত্মসংযমের মধ্য দিয়ে রোজাদারেরা চেষ্টা করবেন আত্মশুদ্ধির। বিগত জীবনের সব পাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে নিবেদিত থেকে চেষ্টা করবেন মহান আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের। রাজধানীতে বরাবরের মতো এবারেও পবিত্র রমজানের শুরু থেকেই হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফুটপাতের খাবারের দোকানগুলো দিনের বেলায় ছিল ঝাঁপ ফেলা অবস্থায়। বিকেল থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। খাবারের দোকানের সামনে, বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাতে, পাড়া-মহল্লার মোড়ে টেবিল সাজিয়ে বসে যায় ইফতারের পসরা। কোনো কোনো দোকানে টাঙানো হয়েছে ‘খোশ আমদেদ মাহে রমজান’ লেখা ব্যানার। চকবাজারে মসজিদের সামনে বসেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ইফতারির বাজার। আসরের নামাজের পর থেকেই ইফতারের প্রস্তুতি নিতে থাকেন রোজাদারেরা। দোকানগুলোতেও বাড়তে থাকে ক্রেতার সমাগম। এর পর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনার ব্যস্ততাও বেড়ে চলে। ইফতারির দোকানগুলোকে ঘিরে এই ব্যস্ততায় ফিরে আসে রমজান মাসের চিরচেনা দৃশ্য।

ইফতারের প্রধান উপকরণের মধ্যে ছোলা, বেগুনি, পেঁয়াজুর দাম প্রায় গতবারের মতোই আছে। ছোলা আর মটরের ঘুগনির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেগুনি, পেঁয়াজু প্রতিটি তিন থেকে পাঁচ টাকা। জিলাপি দোকানভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। শসার কেজি ৫০ টাকা, টমেটো ১৫০ টাকা। খেজুর আছে ১৪০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। এখন গ্রীষ্মের ফলের মৌসুম চলছে। ইফতারেও এসব ফল, বিশেষ করে আমের সংযোগ ঘটছে। ল্যাংড়া, হিমসাগর এখন শেষের পথে। প্রাধান্য ফজলির, দাম ৮০ টাকা কেজি। সাধারণ মানুষের ইফতার এসবের মধ্যেই সীমিত।

গ্রীষ্মকাল বলে দিনে যেমন খররোদে তপ্ত, তেমনি বেলা ডুবতেও সেই প্রায় সন্ধ্যা সাতটা। কিন্তু রোজাদারের কাছে আবহাওয়ার এই প্রতিকূলতা কোনো বাধা নয়। ক্ষুৎপিপাসার কষ্ট মেনেই তাঁরা সিয়াম পালন করেন পরম করুণাময়ের সন্তুষ্টি লাভের আশায়। রোজার প্রথম দিনে দ্রুত হাতের কাজ শেষ করে সবাই চেষ্টা করেছেন দ্রুত বাড়ি পৌঁছে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে একত্রে ইফতার করতে। সে কারণে বিকেল থেকে শহরে ব্যস্ততা ও পথে যানজটও একটু বেড়েছিল। এসব নাগরিক বিড়ম্বনা মেনেই রোজাদারেরা ঘরে ফিরে সন্ধ্যায় ছোটবড় সবাই মিলে সাধ্যমতো উপাদেয় খাবার ও পানীয় নিয়ে বসেছেন টেবিলে। অপেক্ষা করেছেন মাগরিবের আজানের। ইফতারের সময় শহরের কোলাহল থেমে আসে। তখন রাজপথে যানবাহনও ছিল হাতে গোনা। নেমে আসে এক প্রশান্ত পরিবেশ। মাহে রমজানের দিনগুলো এভাবেই কাটবে মহান আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের প্রার্থনা আর প্রত্যাশায়।

শেয়ার করুন