তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশই সেরা

0
59
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মপরিবেশ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের শেষ নেই। এসব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র গত মাসে দেশটিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাজারসুবিধা (জিএসপি) স্থগিত করেছে। এর পরও বাংলাদেশের পোশাকের প্রতিই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ বিদেশি ক্রেতাদের। গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের কোথাও বাংলাদেশের চেয়ে সস্তায় তৈরি পোশাক পাওয়া যায় না। সবার আগ্রহের কারণ এই একটাই। এখানে সবচেয়ে সস্তায় পোশাক পাওয়া যায় বলে এই মুহূর্তে ক্রেতাদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা নেই। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ও আনুষঙ্গিক খরচ কম বলে বাংলাদেশে কম খরচে পোশাক উৎপাদন করা সম্ভব।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩২ জন শ্রমিক মারা যান। গত বছরের নভেম্বরে আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন লেগে মারা যান ১১২ জন শ্রমিক। এসব ঘটনায় বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আসে। আশঙ্কা করা হচ্ছিল, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে বিশ্বের নামীদামি অনেক ব্র্যান্ড। তবে বাস্তবতা ভিন্ন।

চীন ছাড়া এশিয়ার শীর্ষ পোশাক উৎপাদনকারী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স। ওই সব প্রতিষ্ঠান জানায়, বিদেশি ক্রেতারা এখনো তাদের কাছে খুব একটা যায় না। দাম বিবেচনায় পোশাক খাতে বাংলাদেশই ‘সেরা’।

ভারতভিত্তিক একটি তৈরি পোশাক আমদানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অরবিন্দ সিংঘাল বলেন, ‘তৈরি পোশাকে বাংলাদেশের কপর্দকহীন থেকে কোটিপতি হওয়ার কারণ, বিশ্বের আর কোথাও এত কম পারিশ্রমিকে শ্রম পাওয়া যায় না। অন্যান্য খরচও বাংলাদেশে কম।’

বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অরবিন্দ সিংঘাল বলেন, কোনো ক্রেতারই বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা নেই। এই মুহূর্তে তৈরি পোশাকে বাংলাদেশের বিকল্পও কেউ নেই। শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করালেও দাম কম হওয়ায় পশ্চিমা ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের কদরই সবচেয়ে বেশি।

ভিয়েতনামের একটি পোশাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের উপপরিচালক নুয়েন হু তুয়ান বলেন, বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে খুব কম খরচে পোশাক উৎপাদন করা সম্ভব। ভিয়েতনামের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ কম খরচ হয় বাংলাদেশে।

শেয়ার করুন