হারের কারণ খুঁজলেন, ঢেলে সাজাবেন আওয়ামী লীগ

0
29
Print Friendly, PDF & Email

দলের সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক অব্যাহত রেখেছেন। বৈঠকে তিনি পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরাজয় ও দলের সাংগঠনিক বিপর্যয়ের কারণ জানার চেষ্টা করছেন। বুধবার রাতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলার পর গতকাল দুপুরে গণভবনে বৈঠক করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আলাউদ্দিন নাছিমের সঙ্গে। এরপর তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফকে নিয়ে পৃথক বৈঠক করেন। এর আগে তিনি দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গেও বৈঠকে বসেন। এমপিদের মধ্যে গোলাম মাওলা রনি, নসরুল হামিদ বিপু, নাজমা আক্তার ও তারানা হালিমসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরাজয়ের কারণ, দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন, উপ-কমিটিতে নতুন সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও উঠে আসে আলোচনায়। মাহবুব-উল আলম হানিফ বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দলের সহ-সম্পাদকদের নাম ঘোষণার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়, তৃণমূলের সাংগঠনিক গতিবৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকও জানান, বৈঠক হয়েছে। কথা হয়েছে সাংগঠনিক বিষয়ে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পৃথক পৃথক এসব বৈঠকে শেখ হাসিনা গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয় এবং সারা দেশে দলের সাংগঠনিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাঁচ সিটির পরাজয়ের কারণগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেন দলীয় সভানেত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দলের প্রার্থী সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তৃণমূলের মতামত না নিয়ে যে প্রক্রিয়ায় কেন্দ্র থেকে সমর্থন দেওয়া হলো তা সঠিক ছিল না। আর এর কারণেই তৃণমূলের কর্মীরা ক্লিন ইমেজ থাকা সত্ত্বেও আজমত উল্লাহ খানের পক্ষে কাজ করেননি। বৈঠক সূত্র জানায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল এবং বিরোধী দলের অপপ্রচারে নিরুৎসাহিত না হয়ে ভেদাভেদ ও অন্তঃকলহ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের স্বার্থে কারও কাছেই আমরা মাথা নত করব না। দেশের স্বার্থ বিদেশিদের হাতে বিলিয়ে দিয়ে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে না। স্থানীয় নির্বাচনে হেরে গেলেও জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল সংগঠনকে ঢেলে সাজানো এবং নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় এমপিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি, কর্মীদের মূল্যায়ন না করলে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। এ ছাড়া গত সাড়ে চার বছরে সরকারের সাফল্যগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার নির্দেশ দেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সংসদ সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ এবং সাংগঠনিক অবস্থা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাই। সেখানে আরও কয়েকজন এমপি উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনের জন্য নির্দেশ দেন দলীয় সভানেত্রী। এ ছাড়া সরকারের সাড়ে চার বছরের সাফল্যগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলেও এমপিদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শেয়ার করুন