এবার ডিসিসি নির্বাচন চায় বিএনপি

0
62
Print Friendly, PDF & Email

চার সিটি করপোরেশনের পর গাজীপুরেও জয় পেয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোট এখন পুরোপুরি নির্বাচনমুখী। সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের ফলাফল সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তাদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করবে। জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এ মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ইতিমধ্যেই দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পাঁচ সিটিতে জয়ের পর উজ্জীবিত বিএনপি ঈদের পর ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে কর্মসূচি পালনের কথাও ভাবছে। নেতারা জানান, ডিসিসির নির্বাচন দেওয়া হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ওই সময় আর আন্দোলন কর্মসূচিও থাকবে না ১৮ দলের। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেছেন, ভোট দিয়ে মানুষ বিএনপির নির্দলীয় সরকারের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে। সরকারের উচিত জনগণের ভাষা বোঝা এবং ১৮ দলের দাবি মেনে নেওয়া। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জোট তাদের দাবিতে ছাড় দিতেও প্রস্তুত আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের ব্যাপারে একটি সম্মানজনক সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে কোনো আপত্তি না তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন তাঁদের বলেছেন, নির্বাচনের আগে কোনো না কোনো সমঝোতা হবে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সামনে নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের জয় নিশ্চিত বলে মনে করছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তাই দলটি নির্বাচনকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে আগ্রহী অনেক নেতাই এখন নিজ নিজ এলাকায় যাওয়া শুরু করেছেন। অথচ গত মে মাসের শুরুতে রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি। এর আগে এই সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো উপনির্বাচনে অংশ না নেওয়ারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সিদ্ধান্তের কারণে নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল দলটি। তখন শুধু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই তারা সোচ্চার ছিল। হঠাৎ নির্বাচনকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী। পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া আন্দোলনেরই অংশ। তিনি বলেন, শিগগিরই ঢাকার দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিতে বিএনপি দাবি তুলবে।বিএনপি আপাতত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে নতুন কোনো কর্মসূচি দিচ্ছে না। আগামী দেড় মাস গণসংযোগ, নির্বাচনের প্রস্তুতি, জোট সম্প্রসারণসহ ঘরোয়া কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও মহানগরে ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। আগামী সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় গণসংযোগ ও যোগাযোগ বাড়ানোরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।রোজার ঈদের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দুই মাসব্যাপী কর্মসূচি পালনের চিন্তা করছে ১৮ দল। তবে মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতে চায় না তারা। রোজার পর ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল হলে ১৮ দলের আর কোনো কর্মসূচি থাকছে না। রোজার মাসে খালেদা জিয়া জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পাশাপাশি বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করার কথাও ভাবা হচ্ছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের পর শুরু হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম। ২৪ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন হতে হবে। তবে বিএনপি এখনো বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। খালেদা জিয়াও বলেছেন, এই দাবিতে এক চুলও ছাড় দেবে না বিএনপি।

শেয়ার করুন