আম-ছালা দুটোই গেল

0
46
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ডেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সেখানে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি জানান, ১৪ দলের প্রার্থী আজমত উল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি ও তার দল। একই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের আজমত উল্লাহর পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু নেতা-কর্মীরা কর্ণপাত করেননি তার নির্দেশ। পছন্দের প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষেই শেষ পর্যন্ত যান তারা। অন্যদিকে নির্বাচনেও এরশাদের সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহর হয় ভরাডুবি। ফলে আম-ছালা দুটোই যায় জাতীয় পার্টির।

নেতা-কর্মীরা জানান, দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আনুষ্ঠানিকভাবে আজমত উল্লাহকে সমর্থন দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে বুধবার বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, গাজীপুর নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কাউকেই সমর্থন দেয়নি। এটিই ছিল পার্টির চেয়ারম্যানের সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের চাপ বা অন্য যে পরিস্থিতিতেই আজমতকে সমর্থন দেওয়া হোক না কেন, এটি খুব খারাপ হয়েছে পার্টির জন্য। তারা বলেন, সরকারের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করায় সারা দেশে এরশাদ ও পার্টির একটা ‘গুড ইমেজ’ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়ে ম্লান হয়ে গেছে সব অর্জন। সাধারণ মানুষ বলছে, একদিকে সরকারের সমালোচনা, অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করায় মানুষ আর এরশাদকে বিশ্বাস করতে চাইছে না। তারা বলছে, এরশাদ যে সকালে এক কথা আর বিকালে অন্য কথা বলেন, এটি প্রমাণিত হয়েছে আবারও। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, ‘আজমত উল্লাহকে জাতীয় পার্টির শেষ মুহূর্তের সমর্থন যথেষ্ট কাজে আসেনি। এ সমর্থন আরও আগে দেওয়া হলে হয়তো ফল অন্য রকম হতে পারত। তবে শেষ মুহূর্তে জাতীয় পার্টি সমর্থন না দিলে আজমত উল্লাহর বিপর্যয় আরও ভয়াবহ হতো।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মাহমুদ হাসান ১৮ জুন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে নেতা-কর্মীরা পছন্দমতো প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেন। কেন্দ্র থেকেও কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি তাদের। তবে প্রচারের শেষ দিন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ঘোষণা দেন, মহাজোট-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই থাকবে জাতীয় পার্টি। শেষ মুহূর্তে শতভাগ নেতা-কর্মীর পক্ষে সমর্থন প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রভাব পড়েছে ফলাফলে।’ মহাসচিব বলেন, গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়ালেও তার দল এককভাবেই অংশ নেবে জাতীয় নির্বাচনে। মহাজোট ছাড়ার ঘোষণা সময়মতোই দেবেন পার্টির চেয়ারম্যান।’

জানা যায়, কার্যত কোনো কাজেই আসেনি আজমত উল্লাহর পক্ষে এরশাদের শেষ মুহূর্তের সমর্থন। নাটকীয়ভাবে আজমতকে এরশাদ সমর্থন দিলেও নেতা-কর্মীরা পালন করেননি তার নির্দেশ। প্রকাশ্যেই বিরোধিতা করে কাজ করেছেন তারা পছন্দের প্রার্থী এম এ মান্নানের পক্ষে। এতে এরশাদের দুই ধরনের পরাজয় হয়েছে। প্রথমত, নিজ দলের নেতা-কর্মীরা উপেক্ষা করেছেন তার নির্দেশ। দ্বিতীয়ত, সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহর পরাজয় প্রকারান্তরে এরশাদেরই পরাজয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের এক যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ১ জুলাই মহাজোট-সমর্থিত মেয়র প্রার্থীকে দোয়া দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। পরদিন দোয়া দেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীকে। যুগ্ম-মহাসচিব প্রশ্ন রাখেন, ‘পাস করবেন একজন, তিনি দুজনকে দোয়া দেন কীভাবে। আজমত উল্লাহকে যদি সমর্থনই দেবেন তাহলে মান্নানকে তিনি সাক্ষাতের সুযোগ দেবেন কেন।’ তিনি বলেন, ‘এর পর ৩ জুলাই বিবৃতিতে চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় পার্টি কাউকেই সমর্থন দেয়নি। পরদিনই আবার ঘোষণা দিয়ে জানান, আজমত উল্লাহকে সমর্থনের কথা। এভাবে প্রতিদিন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ তো বলবেনই যে, তিনি সকালে এক কথা আর বিকালে অন্য কথা বলেন।’ যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘দলের চেয়ারম্যান কি জানতেন না যে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মান্নানের পক্ষে কাজ করছেন? এভাবে নেতা-কর্মীদের হেয় করা হলে তার (এরশাদ) আম-ছালা দুটো হারানোই তো স্বাভাবিক।’

শেয়ার করুন