পদত্যাগ করবেন শামীম ওসমান

0
55
Print Friendly, PDF & Email

নারায়ণগঞ্জের যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম পারভেজের গুমের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।পদত্যাগ করবেন শামীম ওসমান
এ ঘটনায় সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে আজ বিশেষ জরুরি সভায় বসছেন বলে জানা গেছে। আজকের বৈঠক থেকে শামীম ওসমানসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে শনিবার ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ১০-১২ জন অস্ত্রধারী জেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পারভেজকে সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। গতকাল রবিবার পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে শহরের চাষাঢ়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি শামীম ওসমান উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। আজ সরকারি তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীর সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে গণপদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। পারভেজের গুমের প্রতিবাদে তারা এমন কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। রুদ্ধদ্বার বৈঠকে থাকা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি জানান, বৈঠকের শুরু থেকেই নেতাদের মাঝে প্রবল উত্তেজনাকর পরিবেশ সৃষ্টি হতে থাকে। জেলা যুবলীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের আমলে ক্রসফায়ারের নামে একে একে আমাদের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দল যখন ক্ষমতায় তখন তরুণ লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নারায়ণগঞ্জের নুরুল আমিন মাকসুদকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ করে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই কায়দায় শনিবার যুবলীগ নেতা পারভেজকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বৈঠকে জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় অথচ আমাদের নেতাদের একের পর এক গুম করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেন, গত ২৮ এপ্রিল শহরের শহীদ মিনারে পারভেজের ওপর তথাকথিত বামপন্থিরা হামলা করেছিল। সেই ঘটনায় থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আদালতে মামলা করলে আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ওই মামলাও নেয়নি পুলিশ। যাদের নির্দেশে এসব হয়েছে তারাই বিপুল অর্থের বিনিময়ে পারভেজকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুম করেছে এবং এই কাজের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাকারী সিটি মেয়র আইভী ও সোনালী ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা লোপাটকারী প্রতারক রফিউর রাবি্ব জড়িত। কারণ, বিএনপি-জামায়াতের ভোটে নির্বাচিত মেয়র আইভী এসব তথাকথিত বাম নেতাকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন। পারভেজকে ফিরিয়ে না দিলে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তারা। এক পর্যায়ে শামীম ওসমান বলেন, বোমা হামলায় ২০ নেতা-কর্মী মারা গেছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত আমলে বহু নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মনকে সান্ত্বনা দিয়েছি_ তখন ছিল বিএনপি-জামায়াত আমল। কিন্তু এখন কেন আমাদের নেতা-কর্মীর লাশ গুনতে হবে? তিনি বলেন, জননেত্রীর কথায় এতদিন ধৈর্য ধরেছিলাম। তিনি হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না বলেই আইনি প্রক্রিয়ায় বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হয়েছে। কিন্তু আমি আমার কর্মীর রক্তে পা দিয়ে রাজনীতি করতে চাই না। এ ছাড়া এখন জ্বালাও-পোড়াও করলে সেটা দল, সরকার ও নেত্রীর বিরুদ্ধেই করার শামিল, যা আমি করতে পারব না। একদিকে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনির ভাই এবং বোমা হামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াবে আর পারভেজের মতো নেতাকে গুম করে ফেলা হবে তা মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী দেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করব। এর মধ্যে পারভেজকে ফিরিয়ে না দিলে বা সন্ধান না পেলে রাজনীতি থেকে অবসর নেব। আপনারা দল ও নেত্রীর প্রতি আগের মতোই অবিচল আস্থা বজায় রাখবেন। শামীম ওসমানের পদত্যাগের ঘোষণায় বৈঠকে উপস্থিত নেতা-কর্মীরাও গণপদত্যাগ করবেন বলে ঐকমত্য পোষণ করেন।

শেয়ার করুন