ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বাড়ল

0
101
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন বিষয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জুন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা ছিল, রমজানের পর দুই ঈদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখন আর এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। গতকাল রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, এ বিষয়ে কী করা যায় তা নিয়ে রোজার পর সিদ্ধান্ত হবে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন, সীমানা নিয়ে এখনো সমস্যা আছে। যদি স্থানীয় সরকার বিভাগ যথাসময়ে তার সমাধান দিতে পারে, তবেই রমজানের পর তফসিল ঘোষণা করে আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের বক্তব্য, আইনগত প্রক্রিয়ার কারণেই এ সমস্যার সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগবে।
সীমানা জটিলতার বাইরেও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, মূলত গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল এ সরকারের আমলে ডিসিসি নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে দিয়েছে।
কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, জুনের শেষ দিকে কমিশনের ৪৩তম বৈঠকে ডিসিসির সীমানাসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা নিয়ে আলোচনা এবং বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়। কমিশনের এ সিদ্ধান্তপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ (সম্প্রতি অন্তর্ভুক্ত সুলতানগঞ্জ ইউনিয়নের ১৩টি পাড়া/মহল্লা) নম্বর ওয়ার্ডের গেজেট প্রজ্ঞাপিত সীমানায় এলাকার অখণ্ডতা বজায় রাখা হয়নি। এ ছাড়া এ তিন ওয়ার্ডের সীমানা পাড়া ও মহল্লাভিত্তিক না হওয়ায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে আইনের আওতায় বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এ তিন ওয়ার্ডের পাড়া ও মহল্লাভিত্তিক সীমানা পুনর্নির্ধারণ করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানাতে হবে।
কমিশনের এ সিদ্ধান্তের আলোকে কমিশন সচিবালয় স্থানীয় সরকার বিভাগকে সম্প্রতি একটি চিঠিও পাঠিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তিনটি ওয়ার্ডের সিএস খতিয়ানভিত্তিক সীমানা যদি রমজান মাসের মধ্যেই পাড়া-মহল্লাভিত্তিক করে দিতে পারে তাহলে রোজার ঈদের পর আমাদের সুবিধামতো সময়ে ডিসিসি নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারব।’
গত ৪ জুন সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘এ নির্বাচন নিয়ে আইনগত কোনো জটিলতা নেই। ঢাকা সিটি নির্বাচন একটা বড় নির্বাচন। এখানে ভোটার অনেক। তাই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সময় প্রয়োজন। সামনে রোজা। আমরা ভাবছি রমজানের পর থেকে কোরবানির ঈদের মাঝামাঝি নির্বাচন হবে।’
গত ৪ জুনই ডিসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা ছিল। সেদিন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে সাংবাদিকরা এ ঘোষণার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তফসিল ঘোষণা না হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও গাজীপুর সিটির নির্বাচনের ফলাফল না জেনে কি কমিশন ঢাকা সিটির নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে পারছে না?
এ প্রশ্নে সেদিন সিইসি বলেছিন, ‘এমনটা ভাবা ঠিক হবে না। কারণ স্থানীয় সরকার বিভাগ দ্রুত ডিসিসি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আন্তরিক। আমরা সময়ের অভাবেই রমজানের আগে নির্বাচনটা করতে পারছি না।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি আমরা পেয়েছি। আইন অনুসারে সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তাও নিয়োগ করা হয়েছে। তবে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়। সীমানা নির্ধারণ করার পর এ বিষয়ে এলাকাবাসীকে আপত্তি/পরামর্শ জানানোর সময় দিতে হবে। তা ছাড়া নির্বাচন কমিশনের হাতেও বেশি সময় নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজেই এখন নির্বাচন কমিশন ব্যস্ত।’
প্রসঙ্গত, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০০৯’-এর ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ধারায় সিটি করপোরেশনের সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডগুলোর সীমানা নির্ধারণ কিভাবে করতে হবে, তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা জনসংখ্যার সর্বশেষ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রতিটি সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। এ সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এলাকার অখণ্ডতা এবং যত দূর সম্ভব জনসংখ্যার বিন্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত অনুষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা এবং এ-সংক্রান্ত সব আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনা করতে পারবেন। করপোরেশনের কোন এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হবে, তা উল্লেখ করে একটি প্রাথমিক ওয়ার্ড তালিকা প্রকাশ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ সম্পর্কে আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর আহ্বান জানিয়ে একটি নোটিশ প্রকাশ করা হবে। এসব আপত্তি ও পরামর্শ বা প্রাথমিক তালিকার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

শেয়ার করুন