ওয়ার্নের সেই বলের রহস্য

0
52
Print Friendly, PDF & Email

বিশ্বখ্যাত অস্ট্রেলীয় স্পিন বোলার শেন ওয়ার্ন ২০ বছর আগে ‘শতাব্দীর সেরা বলটি’ করেন। সেই বলের অবিশ্বাস্য বাঁক দেখে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান মাইক গ্যাটিং। পরিণামে তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই বোল্ড আউট হন। লেগ স্পিন বলের ইতিহাসে এটিই সেরা বোলিং হিসেবে বিবেচিত। অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা বলছেন, এ ধরনের বল অস্বাভাবিক মনে হলেও তা পদার্থবিজ্ঞানের নিয়মের আওতাভুক্ত।
ফিজিকা স্ক্রিপ্টা সাময়িকীতে লেগ স্পিনের ধরন নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। ইয়ান ও গ্যারি রবিনসন নামের সহোদর দুই গবেষকের বিশ্লেষণ থেকে ক্রিকেটাররা বিশেষ লাভবান হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, বলের ব্যতিক্রমী ঘূর্ণন ব্যাখ্যায় গাণিতিক সমীকরণের পাশাপাশি চিত্রলেখ (গ্রাফিকস) সংযুক্ত করা হয়েছে। আর কম্পিউটারে ব্যবহারোপযোগী একটি সহজ ভাষ্যও তৈরি করা হচ্ছে। গবেষকেরা বলছেন, স্পিন বলের আকস্মিক ও ব্যতিক্রমী বাঁকের পেছনে অভিকর্ষ, বাতাসের গতি, অবস্থা প্রভৃতি পারিপার্শ্বিক শক্তি সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তাই একে অলৌকিক ভাবার সুযোগ নেই।
স্পিন বোলাররা বিশেষ কায়দায় বলটি ধরে নিজেদের আঙুল ও কবজির সমন্বয়ে নিক্ষেপ করেন। নিক্ষেপের আগ মুহূর্তেও কিছু কৌশল ব্যবহার করা হয়। দক্ষ বোলাররা স্বাভাবিক বাঁকের ব্যতিক্রম ঘটিয়ে ব্যাটসম্যানকে হঠাৎ করে বিভ্রান্ত করতে সমর্থ হন। এ ক্ষেত্রে গতি নয়, বলের ঘূর্ণন ও আকস্মিক বাঁকের মাধ্যমে ব্যাটসম্যানকে চমকে দেওয়ার মধ্যেই বোলারের কৃতিত্ব। রবিনসন ভাইয়েরা বলেন, ধীরগতির স্পিন বলটি পিচে পড়ার পর বাতাসের মাধ্যমেও বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়ে থাকে। ঘণ্টায় ১৪ কিলোমিটার গতির একটি বল পিচ থেকে লাফিয়ে ওঠার পর বাতাসের প্রভাবে ১৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাঁক নিতে পারে। এএফপি।
শতাব্দীর সেরা বল: যেভাবে লেগ স্পিন বোলিং সম্পন্ন হয়
১: ওয়ার্নের বলের গতি শুরুতে মিডল ও লেগস্টাম্প বরাবর।
২: বলটি বাতাসেই হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে প্রায় ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত সরে যায়।
৩: লেগস্টাম্পের বাইরে পড়ে বলটি গ্যাটিংকে অতিক্রম করে আবার আকস্মিক বিপরীত দিকে ঘুরে প্রায় ২৩ ইঞ্চি ঢুকে পড়ে অফস্টাম্পে আঘাত হানে।
‘শতাব্দীর সেরা বলটির’ গোপন রহস্য কী? ইয়ান ও গ্যারির মতে, বাতাসের টান, বাতাসে বস্তুর ঘূর্ণনশক্তিজনিত ঘর্ষণ, বেগ ও কৌণিক বেগের সমন্বিত ফলাফল।

শেয়ার করুন