৭০ লাখ পোস্টারের গতি কী!

0
91
Print Friendly, PDF & Email

নির্বাচিত হলে নগরে পানি জমবে না, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না—এসব অঙ্গীকার করছেন গাজীপুরের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে তাঁদের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে বিপরীত চিত্র। তাঁদের প্রচারে ব্যবহূত প্রায় ৭০ লাখ পোস্টারে ছেয়ে গেছে গোটা নগর। এতে পলিথিনের ব্যবহারও রয়েছে দেদার। নির্বাচন শেষে এসব পোস্টার ও পলিথিন নগরের জন্য জটিল এক জঞ্জালে পরিণত হবে। এই জঞ্জাল দ্রুত দূর করতে না পারলে চলতি বর্ষায় নগরের পানি ও পয়োনিষ্কাশনে বিরাট বাধা হয়ে দাঁড়াবে। দুর্ভোগে নাকাল হবে নগরের মানুষ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান তিন লাখ পোস্টার ছেপেছেন। আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা ছেপেছেন দুই লাখ ২০ হাজার পোস্টার। মেয়র পদের অন্য প্রার্থীরা ছেপেছেন আরও প্রায় চার লাখ পোস্টার। কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫৭টি ওয়ার্ডে গড়ে একেকজন প্রার্থী ১০ হাজার পোস্টার ছেপেছেন। তাঁদের তথ্যমতে, সব মিলিয়ে প্রায় ৭০ লাখ পোস্টার ঝুলছে গোটা নগরে। গাজীপুরের বাসিন্দা জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিক্ষক হাবিবুল্লাহ তালুকদার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, গাজীপুর শহরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুব অপর্যাপ্ত। পলিথিনের বিভিন্ন জিনিস নর্দমায় আটকে থেকে ময়লা নিষ্কাশনব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করবে, কৃষিজমিতে পড়লে মাটির উর্বরতা নষ্ট করবে। নির্বাচন কমিশনের উচিত পলিথিনের সব জিনিস সরাতে মেয়র পদপ্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া।

নির্বাচনী ইশতেহারে দুই প্রার্থীই জলাবদ্ধতা মোকাবিলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান বলেছেন, নগরের পয়োনিষ্কাশনের জন্য স্বল্প, দীর্ঘমেয়াদি আধুনিক ও কার্যকর ড্রেনেজ-স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চলের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে রাতের মধ্যে তা অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন মান্নান। তিনি আরও অঙ্গীকার করেন, নগরের বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা, বিশেষ করে টঙ্গী, কোনাবাড়ীসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেবেন। তুরাগ, চিলাই নদীসহ নগরের সব খাল-নালা পুনঃখননের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবেন।

যুক্তরাজ্য থেকে নগরের পরিবেশ উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় সনদ পাওয়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা খান বলেছেন, তিনি ২৯২ কিলোমিটার পাকা নর্দমা করেছেন। ভবিষ্যতে একটি আধুনিক শহর গড়ে তুলবেন।

এসব অঙ্গীকার করলেও নির্বাচনে দাঁড়ানো প্রার্থীরা পোস্টার ঠিকই পলিথিনে ঝুলিয়েছেন। আইন করে বাংলাদেশে ১১ বছর আগে পলিথিনের উত্পাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়েছে। আশির দশকের শুরুতে পলিথিনের ব্যবহার শুরু হয়। ক্রমে এই ব্যবহার বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। প্রথম দিকে কোনো কোনো খাদ্য, ওষুধ, সিমেন্ট, সার ইত্যাদির মোড়ক হিসেবে পলিথিন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। পরিবেশবাদীরা যখন সরকারকে বোঝাতে সক্ষম হন, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যায় নর্দমাগুলো পলিথিনে ভরে থাকায় পানি নিষ্কাশন করা যায়নি, ঢাকাবাসীকে দীর্ঘদিন জলাবদ্ধ থাকতে হয়েছে, তখন সরকার পলিথিনের ব্যবহার একেবারে নিষিদ্ধ করে দেয়।

পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্র, বাজারসহ অনেক জায়গাতেই পলিথিনের ব্যবহার চলছে। গাজীপুরের নির্বাচনেও এর ব্যতিক্রম  নেই।

পলিথিনের কারণে নগরের পানি ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি হবে, এর পরও কেন পলিথিনে মোড়া পোস্টার টাঙানো হচ্ছে—এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মেয়র-কাউন্সিলর পদের প্রার্থীরা বলেন, বৃষ্টিতে পোস্টার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য পোস্টারগুলো পলিথিনে মোড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁদের কিছু করার নেই।

তবে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এম এ মান্নান ও আজমত উল্লা খান প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, নির্বাচিত হলে তাঁদের প্রথম কাজ হবে শুধু পলিথিন নয়, সব ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা। নগরবাসীর কোনো অসুবিধা হবে না।

শেয়ার করুন