মহাজোট ছাড়ার কথা বলে অস্বস্তিতে জাতীয় পার্টি

0
61
Print Friendly, PDF & Email

প্রকাশ্যে মহাজোট ছাড়ার কথা বললেও অস্বস্তিতে আছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ নেতারা। দলের একটি পক্ষ চাইছে মহাজোটের সঙ্গে থাকতে। অন্যদিকে মহাজোটে গিয়ে সঠিক মূল্যায়ন হয়নি এমন অভিযোগ এনে জোট ছাড়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলের প্রভাবশালী একটি অংশ। এ নিয়ে দলের মধ্যে বিরাজ করছে অস্থিরতা।    
 
মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ইউনিয়ন ব্যাংক নামে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদন পেয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া নতুন বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গেও আছেন তিনি। সরকারের শরিক হিসেবে একটি মন্ত্রীত্বও পেয়েছে জাতীয় পার্টি। এছাড়া বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলা থাকার পরও অনেকটা স্বস্তিতেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন জাপা চেয়ারম্যান। কিন্তু তারপরও মহাজোটে গিয়ে ‘কিছু পাননি’ এমন অভিযোগ এনে জোট ছাড়ার কথা বলছেন এরশাদ। তবে এ সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারেননি জাতীয় পার্টিতে আওয়ামী লীগ ঘেষা নেতারা। তারা এ নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। তারা চাইছেন, যে করেই হোক জাতীয় পার্টিকে মহাজোটে সঙ্গে রাখতে। তবে দলের অপর একটি অংশ চাইছে মহাজোট ভেঙে বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এবারও রাজনীতিতে ‘হটকেক’ হয়ে উঠেছেন এরশাদ। দুদলই চাইছে নির্বাচনের মাঠে এরশাদকে পাশে রাখতে। নিজেদের ‘কদর বেড়েছে’ এমন ভেবে মহাজোট ছেড়ে একক নির্বাচনের কথা বলছেন জাপা চেয়ারম্যান। তবে শোনা যাচ্ছে মহাজোট ছেড়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে নাম লেখাতে যাচ্ছে দলটি। ওদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে আভাস দেয়া হয়েছে ১৮ দলীয় জোট ভেঙে মহাঐক্য জোট করার। জানা গেছে, জাতীয় পার্টির যোগদানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নয়া এ জোটের নাম ঘোষণা করা হবে।

এদিকে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে চলমান দুটি মামলার রায় প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় যুক্ততর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এর পরবর্তী ধাপেই রায় দেয়া হবে। অন্যদিকে বিমানের রাডার কেনার মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটির রায় খুব কম সময়ের মধ্যেই দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এ দুটি মামলাসহ অন্যান্য মামলা নিয়ে বিপাকে আছেন এরশাদ। মহাজোট ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়ার পর মামলার রায় কোন দিকে যাবে এ নিয়ে এরশাদের ঘনিষ্ঠরা শঙ্কায় আছেন। 

তবে দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, কাজী জাফর আহমেদ খুব করে চাইছেন মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টি বের হয়ে আসুক। গত সাড়ে চার বছরে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির যে বঞ্চনার শিকার হয়েছে সেসব ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছেন তিনি। তার যুক্তি মহাজেটে গিয়ে জাপা খুব বেশি গুরুত্ব পাননি। বরং মহাজোটের অন্য শরিকরা জাতীয পার্টির চেয়ে কম শক্তিশালী হওয়ার পরও গুরুত্ব পেয়েছে বেশি। সর্বশেষ পুনর্গঠিত মন্ত্রিসভাতেও পদ পেয়েছেন অনেকে। কিন্তু সে তুলনায় জাতীয় পার্টিকে গুরুত্বও দেয়া হয়নি। তাছাড়া হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রাষ্ট্রপতি করার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর তা রাখা হয়নি। সবমিলিয়ে জাপা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। এ নিয়ে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকেও একাধিকবার বুঝিয়েছেন কাজী জাফর।
 
তাছাড়া বিগত নির্বাচনে কুমিল্লা-১৪ আসনটি ওপেন রাখায় বর্তমান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সেখান থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু ওই আসনটি জাতীয় পার্টিকে দিলে কাজী জাফর আহমদ সেখান থেকে সাংসদ হতে পারতেন। অন্যদিকে দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হওলাদারও মহাজোটের প্রতি সন্তুষ্ট নন। আশা করেছিলেন জাতীয় পার্টি মন্ত্রিপরিষদে আরও কয়েকটি পদ পাবে। তিনি সেই সৌভাগ্যবানদের মধ্যে একজন হতে পারতেন।   
 
সূত্রে জানা গেছে, এরশাদও মনে করেন সরকারের অনেক কর্মকা- ইসলামের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এর খেসারত মহাজোটকে দিতে হবে। তাই তিনিও চাইছেন মহাজোট থেকে বের হয়ে আসতে। দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারও চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তবে দলের অপর একটি অংশ চান না জাতীয় পার্টি মহাজোট ছাড়–ক। এ অংশে আছেন জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন বাবলু, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তারা মনে করছেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টিকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া সরকার এখনও শক্তিশালী বলে তারা বিশ্বাস করেন। বিচ্ছিন্ন কিছু অসন্তোষকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এরশাদের জন্য সুখকর হবে না বলেও মনে করেন তারা। প্রভাবশালী একটি অংশের বিপরীতে তাদের এ অবস্থান নিয়ে দলে বেকায়দায় আছেন তারা।

 তবে আওয়ামী লীগ দাবি করছে মহাজোট এখনও অটুট আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। বুধবার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান একক নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন তা দলের নেতাকর্মীদের সুসংগঠিত করার জন্য। এরসঙ্গে মহাজোট ছাড়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মহাজোট আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, মহাজোট ছাড়া না ছাড়া পুরোপুরি দলের চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি। তবে জাতীয় পার্টি একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানান জাপা মহাসচিব।

শেয়ার করুন