ভয়ঙ্কর অন্ধকার জগতে নারীরা

0
73
Print Friendly, PDF & Email

আলী আজম : মাদক ব্যবসা, প্রতারণাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে নারীরা। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকে এ অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে। আবার অল্প সময়ে বেশি রোজগারের লোভ থেকে সচ্ছল পরিবারের মেয়েরা অপরাধে জড়াচ্ছে। মাদক ব্যবসার পাশাপাশি তারা সেবনও করছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও জানেন না, তাদের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সন্তানটি ভয়ঙ্কর বিপথে পা বাড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে নারীর সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলছেন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায় তাদের জড়িয়ে পড়ার ঘটনা আঁতকে ওঠার মতো। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, হেরোইন, কোকেনসহ মাদক পাচারেও বহু নারী জড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠ পর্যায়ে সর্বনাশা ইয়াবা ব্যবসায় তাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এসব কাজে পুরুষের চেয়ে নারীদের বেশি নিরাপদ মনে করেন শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা।

র‌্যাব গত ২৮ জুন রাজধানীর ওয়ারীর সানাই কমিউনিটি সেন্টারের পাশে লালমিনি স্ট্রিটের ১৮/২ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। তারা সেখান থেকে ইয়াবা সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত রওশন আক্তার রুমীকে (২৮) গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে দুই হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও দুই লাখ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব এর আগে ২১ জুন উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের চার নম্বর সড়কের সাত নম্বর বাড়ি থেকে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের দুই নারী সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- পায়েল বেগম (২৮) ও নীলিমা লাবণ্য (২৮)। তাদের কাছ থেকে এক কেজি ৩০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ ২০ জুন রামপুরার বনশ্রী থেকে কুলসুম (৩২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ম্যানিলা চৌধুরী (২২) নামে আরেকজনকে নয় হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি তিতুমীর কলেজে ফিন্যান্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। র‌্যাব ১৯ জুন উত্তরার পাঁচ নম্বর সেক্টরের ৫/এ নম্বর সড়কের নয় নম্বর বাড়ি থেকে ভুয়া ম্যারেজ মিডিয়া সিন্ডিকেটের চার নারী সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- পারুল আক্তার (৩০), শামসুন্নাহার (২৫), নাজমা বেগম (৩৬) ও হেনা আক্তার (৩৩)। হেনা গত ২৪ মাসে ২৩ বার ভুয়া বিয়ে করেছে বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়। সেদিনই র্যাবের আরেকটি দল আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়ে সালেহা (৩২), মাকসুদা (৩০), নয়নতারা (৪০) ও মইফুল আক্তার (৩০) নামে চার প্রতারককে গ্রেফতার করে। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ১৮ জুন বারিধারা থেকে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী দলের সদস্য সাবরিনা (৩০) ও সাদিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করে। গোয়েন্দা পুলিশ ১০ জুন পশ্চিম রামপুরা মহানগর প্রজেক্ট এলাকা থেকে ফারজানা আক্তার (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ ৭ জুন হাতিরঝিল এলাকা থেকে কথিত মডেল রেজোয়ানা খালেদ ইমাকে (৩০) গ্রেফতার করে। বহুরূপী এই প্রতারক বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) এডিসি মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘নারীদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ নারীই অত্যন্ত স্মার্ট। পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যা ও অল্প দিনে বেশি টাকা রোজগারের অভিপ্রায় তাদের অপরাধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নারীদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে হলে সচেতনতা বাড়াতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন।’ র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এ টি এম হাবিবুর রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। মাদক বহনে তাদের বেশি নিরাপদ মনে করা হয়। তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমস্যা ও লোভের বশে নারীরা অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি ও গণসচেতনতা বাড়িয়ে এটা প্রতিরোধ সম্ভব।’

শেয়ার করুন