গ্রামীণ ব্যাংক পুনর্গঠনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক

0
132
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিবছর গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর পরিদর্শন করার বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশ ব্যাংকের রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব বার্ষিক পরিদর্শনে এমন কিছু পাওয়া যায়নি, যে জন্য গ্রামীণ ব্যাংক কীভাবে পরিচালিত হবে তা পরিবর্তন করতে হবে।
গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান লিখিত বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো কাজ করছে না। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান পরিষ্কার করতে এসব তথ্য জানান।
‘ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারীরা কি ঋণ ও দারিদ্র্যের ফাঁদে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্স এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে আতিউর রহমান আরও বলেন, ক্ষুদ্রঋণ দরিদ্র পরিবারকে নানা ধরনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। দরিদ্র পরিবারের দারিদ্র্য বিমোচনে নেতৃত্ব দিচ্ছে এই ক্ষুদ্রঋণব্যবস্থা। আবার সমাজে দরিদ্র নারীর ভূমিকা সম্পর্কে দৃষ্টি বদলাতেও সহায়তা করছে। তাঁর মতে, দুই দশক ধরে দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র অর্থায়নব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এম এ সাত্তার মণ্ডল, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে আমি যা বলার জাতীয় সংসদে বলেছি।’ গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কাঠামো সম্পর্কে আয়োজিত কর্মশালা সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মশালা আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশনের আরও কাজ আছে। তারা কাজ করবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক অনুষ্ঠান শেষে প্রথম আলোসহ আরও বেশ কটি পত্রিকার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
পরিচালক নির্বাচনপদ্ধতি পরিবর্তনের সুপারিশ: গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের গঠন করা কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে গত রোববার তা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জমা দিয়েছে। খসড়াটি তৈরি করা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশের আলোকে।
কমিটির আহ্বায়ক আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শাহ আলম সারওয়ার এবং সদস্য অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
এতে বলা হয়েছে, নির্বাচিত উদ্যোক্তা পরিচালকেরা কেউ একটানা তিন বছর পরিচালক থাকতে পারবেন না। প্রতিবছর পরিচালনা পর্ষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অবসরে যাবেন। অবসরে যাওয়া পরিচালকেরা পরবর্তী দুই বছর পর্ষদে থাকতে পারবেন না। অবসরে যাওয়ার পরবর্তী দুই মেয়াদের জন্য তাঁদের নির্বাচনে দাঁড়ানো থেকে বিরতি দিতে হবে।
পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে সরকার মনোনীত একটি নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, পরিচালক নির্বাচন করা হবে দুই ধাপে। এর একটি হলো ‘ইলেকশন অব বেসিক ইলেকটোরাল’ এবং অন্যটি ‘ইলেকশন অব ডিরেক্টরস’।

শেয়ার করুন