মায়ের হাতে প্রাণ গেল ফুটফুটে শিশুর

0
77
Print Friendly, PDF & Email

ফুটফুটে আরিশা। বয়স ৬ বছর। শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। সারাদিন বাড়ি মাতিয়ে রাখত সে। তবে চঞ্চলা আরিশা আর কখনও বাড়ি মাতিয়ে রাখবে না। যে হাত দিয়ে স্নেহময়ী মা প্রতিদিন আদর করে গালে তুলে খাওয়াতেন, সেই হাতেই গলা টিপে হত্যা করেছেন আরিশাকে।

আরিশার নিথর দেহ সামনে নিয়ে বসেছিলেন মা। হত্যার পর নিজেই স্বামীকে ফোনে খবরটি জানান। দুপুরে মেয়েকে হত্যা করলেও সন্ধ্যার পর প্রতিবেশীরা সবাই জানতে পারে।

আরিশার বাবা আমিনুল ইসলাম স্কয়ার কোম্পানির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক। শহরের ঈদগাহ পাড়ায় একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাস করেন বছর কয়েক ধরে।

ঘটনার পর আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি গতকাল সোমবার সকালে কোম্পানির কাজে পাবনায় যান। দুপুরে তার স্ত্রী (আঁখি) মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায় মেয়ে আরিশা খুব অসুস্থ। তাড়াতাড়ি বাড়ি যেতে বলে। আমিনুল কুষ্টিয়ায় তার এক বন্ধু সৈয়দ হোসেনকে ওই বাসায় পাঠান।

ওই বন্ধু বাসায় গিয়ে দেখতে পান আরিশার গলায় রশি প্যাঁচানো নিথর দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে। তাকে দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আরিশাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপরও স্থানীয় একটি ক্লিনিকের শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখানো হয়। আমিনুলের বন্ধু সৈয়দ হোসেন বিকেলে আরিশার মৃতদেহ বাসায় নিয়ে যান। খবর পেয়ে আমিনুল দ্রুত কুষ্টিয়ায় চলে আসেন।

এদিকে সন্ধ্যার আগে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আমিনুলের স্বজনরা জানান, তাদের ঘরে দুটি মেয়ে ছিল। ৩ মাস আগে ২৮ দিনের এক মেয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এ ঘটনার পর থেকে মা আঁখি আকতার মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আরিশা শহরের এডুকেয়ার নামে একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি শিকদার মশিউর রহমান বলেন, আমিনুল ইসলাম মাগুরা জেলার ফুলবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আঁখি আকতারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন