প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মানুষ ভরসা পায়নি

0
81
Print Friendly, PDF & Email

সংসদের বাজেট আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া যে বক্তব্য রেখেছেন, তা চলমান রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত বহন করে। তাঁদের ভাষণের ওপর এখানে দুজন বিশ্লেষকের মন্তব্য প্রকাশ করা হলো:

২৯ জুন বিরোধীদলীয় নেতা ভাষণ দেওয়ার পর সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে ভাষণ দেন। স্বাভাবিকভাবেই সংসদ নেতার সুবিধা এই ছিল যে তিনি তাঁর বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার কিছু কিছু বক্তব্য খণ্ডন করার সুযোগ পেয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতার ভাষণটি ছিল দীর্ঘ ও লিখিত। দুজনের বক্তব্য পাশাপাশি রেখে তুলনা করলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, সেটা হলো বিরোধীদলীয় নেতার ভাষণটি ছিল বেশ মার্জিত। সেই তুলনায় প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা যে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দেন, সেই বক্তব্যে বেশ কিছু বক্রোক্তি স্থান পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যটি ছিল মূলত রাজনৈতিক। তিনি বলতে চেয়েছেন পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশের মতোই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন হবে। দুর্নীতির ব্যাপারে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি বলতে চেয়েছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি হয়নি। তিনি আরও বলেছেন, শেয়ারবাজার, হল-মার্ক ও ডেসটিনির অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে বিএনপি জড়িত।

প্রথমেই আমরা আলোচনা করতে পারি, আগামী সংসদ নির্বাচন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যটি। তিনি তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতাও নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রশ্নে অনড় রয়েছেন। সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এই অবস্থানের ফলে দেশের সাধারণ নাগরিকেরা স্বাভাবিকভাবেই আশঙ্কা করছে যে, দেশের জন্য আগামী দিনগুলো খুব সুখকর হবে না। বরং সংঘাত-সংঘর্ষ এবং রক্তপাত দেশবাসীর শান্তি কেড়ে নেবে। দেশবাসী আর অশান্তি চায় না। তারা চায়, নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়টির একটি সন্তোষজনক সমাধান, যা শেষ বিচারে দেশের জনগণ এবং বিবদমান সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই প্রশ্নে, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠানের যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল, তা বলতে গেলে ফিকে হয়ে গেছে। এতে দেশবাসীর মধ্যে চরম হতাশাবোধের জন্ম হয়েছে। আনন্দের কথা এই যে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর ভাষণ শেষ করতে গিয়ে উপসংহারে সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলেছেন। কিন্তু সংলাপ প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নীরবতা দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। 

শেয়ার করুন