আলোচনার ওপর গিলোটিন, বিএনপির ওয়াকআউট

0
83
Print Friendly, PDF & Email

২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের দুটি বিভাগের জন্য দেওয়া বরাদ্দের ওপর আলোচনা করতে না দেওয়ায় আজ রোববার বাজেট পাসের আগ মুহূর্তে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বিএনপি। এর ফলে নবম সংসদে বিরোধী দলের উপস্থিতিতে একটি বাজেটও পাস হলো না।

আলোচনা করতে না দেওয়ায় স্পিকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে স্পিকার এই কাজ করেছেন। অন্যদিকে সরকারদলীয় সাংসদেরা বলেছেন, স্পিকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত।

প্রস্তাবিত বাজেটের ৫৬টি দাবির সবকটিতে ছাঁটাই প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় সাংসদেরা। সরকারি দলের সঙ্গে আলোচনার পর বিরোধী দল সাতটি দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়। সেই অনুযায়ী আজ বেলা আড়াইটা পর্যন্ত পাঁচটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন বিরোধীদলীয় সাংসদেরা। এরপরই স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী রুলিংয়ে বলেন, সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। বিরোধী দলের সাংসদেরা পাঁচটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেছেন। আর কোনো প্রস্তাবের ওপর তাঁদের আলোচনা করতে দেওয়া হবে না। তিনি ওখানেই আলোচনা বন্ধ (গিলোটিন) করে দেন। এ পর্যায়ে বিরোধী দলের সাংসদেরা হইচই শুরু করেন। তারা বলেন, সাতটি বিষয়ে তাঁরা আলোচনা করতে পারবেন। এটাই সিদ্ধান্ত ছিল। তাঁরা বিদ্যুত্ ও সেতু বিভাগের ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন বলে জানান। কিন্তু স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের কথায় কর্ণপাত না করে আলোচনার ওপর গিলোটিন দেন। হইচইয়ের মধ্যে স্পিকার বিদ্যুত্ খাতের দাবি নিষ্পত্তি করেন। এর পরই বিরোধী দলের সাংসদেরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।

গিলোটিন দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের সাংসদেরা পাঁচটি বিষয়ের প্রতিটির ওপর ২০ জন করে সাংসদ বক্তব্য দিয়েছেন। এগুলোতে কম সংখ্যক সাংসদ বক্তব্য দিলে সময় ঠিক থাকতো।

আলোচনার ওপর স্পিকারের গিলোটিনের পর এর বিরোধিতা করে বক্তব্যের সূচনা করেন বিরোধীদলীয় সাংসদ এম কে আনোয়ার। তিনি স্পিকারকে বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল সাতটি বিষয়ে আলোচনা করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিল। সংসদের হাতে সময় আছে। গিলোটিন করতে হলে রাত ১০-১১টা বাজতে হতো। কিন্তু তা হয়নি। তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘অন্তত আরও দুটি বিষয়ে আলোচনার সুযোগ দিন, নয়তো বিরোধী দলের অধিকার খর্ব হবে।’

জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল সাতটি বিষয়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। এখনো দুটো বাকি আছে। তাই গিলোটিন করার অধিকার স্পিকারের নেই।’ 

জবাবে সরকারদলীয় সাংসদ ফজলুল করিম সেলিম স্পিকারকে বলেন, ‘আপনি যে রুলিং দিয়েছেন তা-ই চূড়ান্ত। এটাই কার্যকর করুন। তাঁরা আরও দুটি বিষয়ে আলোচনা করতে চাইলে আগের পাঁচটি বিষয়ে কম আলোচনা করতে পারতেন।’

সরকারদলীয় চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ বলেন, স্পিকার বিরোধী দলকে কথা বলার অনেক সময় দিয়েছেন। ‘তাঁরা অশ্লীল কথা বলেছেন, তাতেও বাধা দেওয়া হয়নি। এখন স্পিকার রুলিং দিয়েছেন। আলোচনার ওপর গিলোটিন দিয়েছেন। অথচ বিরোধী দল তা মানতে চাইছে না। তিনি স্পিকারকে বলেন, ‘আপনি আপনার রুলিং ফলো করবেন।’ 

তোফায়েল আহমেদ বলেন, সময়ের চেয়ে বেশি আলোচনা হলে গিলোটিন করা যায়। তাই স্পিকারের রুলিং বাস্তবসম্মত। এটাই বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।

 

প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে স্পিকার আলোচনা করতে দেননি: আনোয়ার

ওয়াকআউট করার পর সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এম কে আনোয়ার অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিতে স্পিকার আলোচনা করতে দেননি। প্রধানমন্ত্রী ঘাড় নাড়িয়ে স্পিকারকে নিষেধ করেছেন। অধিবেশনকক্ষে বসে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে স্পিকারের দিকে তাকিয়ে ঘাড় নাড়িয়ে আলোচনা বন্ধ করতে বলেছেন, তা অনুকরণ করে দেখান এম কে আনোয়ার। 

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, এর মাধ্যমে স্পিকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং বিদ্যুত্ ও পদ্মা সেতুর বিষয় নিয়ে সরকার যা লুকাতে চাচ্ছে, তা প্রকাশ পেয়েছে। বিরোধী দল সংসদে থাকতে না পারার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এই গিলোটিন দেওয়ার মাধ্যমে স্পিকার একটি খারাপ নজির সৃষ্টি করলেন এবং তিনি তার নিজের প্রতি ন্যায়বিচার করেননি। 

আরেক সাংসদ জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, স্পিকার নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেননি। তিনি বলেন, গিলোটিন দেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে যে ঝগড়া হয়েছে সেই সময়ের মধ্যেই তো আলোচনা হতে পারতো।

শেয়ার করুন