সামাজিক বিজ্ঞান থেকে পাস করে চিকিৎসক

0
136
Print Friendly, PDF & Email

নামের পাশে বিভিন্ন ভুয়া ডিগ্রি এবং ডাক্তার লিখে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক সেজে রোগী দেখছিলেন উজ্জ্বল কান্তি দেব ও তাঁর স্ত্রী চিত্রা সরকার। আজ রোববার র‌্যাব-৭ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ভুয়া চিকিৎসক দম্পতির প্রত্যেককে দুই বছর করে কারাদণ্ড এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ এইচ এম আনোয়ার পাশা আদালত পরিচালনা করেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ অনুযায়ী এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের পাশে ডাক্তার লিখতে পারেন না। 

উজ্জ্বল দেব দাবি করেন, সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি মাধ্যমিক পাস করেছেন। আর উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছেন মানবিক বিভাগ থেকে। তবে তিনি কোনো সনদ দেখাতে পারেননি। স্বীকৃত কোনো ফিজিওথেরাপি ডিগ্রিও তাঁর নেই। এর আগে ২০১১ সালেও একই অপরাধের জন্য তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এর পর তিনি আবার একই অপরাধ করে যাচ্ছিলেন। এ কারণে তাঁকে জরিমানা করা হয় বলে ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরের গোলপাহাড় মোড়ে হাটহাজারী ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার নামে চেম্বার করে উজ্জ্বল কান্তি দেব ও চিত্রা সরকার নিয়মিত রোগী দেখেন। তাঁদের নামের পাশে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন ডিগ্রি লিখে সাইনবোর্ড দিয়েছেন। নামের পাশে ডা. লিখে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি বলে প্যাড, কার্ড ও সাইনবোর্ড টানিয়েছেন। রোগীদের ফিজিওথেরাপির পাশাপাশি ব্যবস্থাপত্রও দিতেন। 

‘প্রথম সাক্ষাতে ৫০০ টাকা এবং ১৫ দিনের মধ্যে পরবর্তী সাক্ষাত ২০০ টাকা’—উজ্জ্বল দেবের টেবিলের সামনে লেখা রয়েছে। গোলপাহাড়ের চেম্বার ছাড়াও নগরের নিজাম সড়কে অ্যাপোলো ফিজিওথেরাপি ক্লিনিক অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার নামে অপর একটি চেম্বারেও বসেন চিত্রা সরকার। 

আনোয়ার পাশা বলেন, ‘তাঁরা দুজনই ভুয়া চিকিৎসক। তাঁদের কোনো ফিজিওথেরাপি ডিগ্রি নেই। সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করে উজ্জ্বল নানা ভুয়া ডিগ্রি লাগিয়ে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বনে যান। চিত্রা সরকারও একই কায়দায় চিকিৎসক হন। তাই তাঁদের প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

উজ্জ্বল দেব অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কোনো ডিগ্রি নেই। আগেও জরিমানা করা হয়েছিল। ডাক্তার লিখতে নিষেধ করা হয়েছিল।’

শেয়ার করুন