চবিতে যৌন হয়রানীর দায়ে ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার

0
111
Print Friendly, PDF & Email

স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর দায়ে মুন রোজারিও মাসুম নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ।

একই সঙ্গে মোহাম্মদ আলী নামে আরেক বখাটেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবাঞ্চিত করা হয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির বৈঠকে মাসুমকে আজীবনের জন্য বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অভিযুক্ত মাসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ চবি শাখার সভাপতি মামুনুল হক মামুনের অনুসারী।

আরেক বখাটে মোহাম্মদ আলী বিশ্ববিদ্যালয় সংরগ্ন এলাকায় চবি’র চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীর ছেলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিরাজ-উদ-দৌল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন,‘ এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দোষী প্রমানিত হওয়ায় মাসুমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে একই ঘটনায় মোহাম্মদ আলী নামে আরেক বখাটেকে ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’

বিষয়টি অভিযুক্তদের পরিবারকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ মে হাটহাজারী থেকে সিএনজি অটোরিকশা করে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে চবি এক নম্বর গেইট সড়কে স্নাতকোত্তর শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে সমাজতত্ব বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী মুন রোজারিও ওরফে মাসুম এবং বহিরাগত বখাটে মোহাম্মদ আলী।

এদিকে এ ঘটনায় জড়িত আলীকে ঘটনাস্থল এবং এরপর দিন ২১ মে ওই ছাত্রী বাদি হয়ে স্থানীয় থানায় মামলা করলে ছাত্রীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২২ মে ক্যাম্পাস থেকে মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা বর্তমানে কারাগারে আছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

২২ মে থেকে অভিযুক্ত মাসুমকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে ‘নিপীড়কের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে ছাত্রীরা।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মে ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বললেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আরও এক সপ্তাহ পর গত ৯ জুন রিপোর্ট দাখিল করে কমিটি।

এদিকে নিপীড়কের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে আন্দোলনকারী ছাত্রীরা।

সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের এক ছাত্রী বলেন,‘এ ধরনের ন্যাক্কার জনক ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই আমরা।’

শেয়ার করুন