কর ও অনুদান নির্ভর ১১০৬ কোটি ৩০ লাখ ৭ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

0
51
Print Friendly, PDF & Email

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিসিসি মিলনায়তনে ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা করেন সিটি মেয়র এম মনজুর আলম।

বাজেটে উন্নয়ন অনুদান বাবদ ৫৭১ কোটি এবং বকেয়া ও অভিকর বাবদ আয় দেখানো হয়েছে ২০২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বাজেটে নিজস্ব উৎসে মোট প্রাপ্তি দেখানো হয়েছে ৫০৭ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং ত্রাণ সাহায্য, উন্নয়ন অনুদান ও অন্যান্য উৎসে আয় দেখানো হয় ৫৯৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

একই সাথে করপোরেশনের ২০১২-২০১৩ সালের ৪২৫ কোটি ৫২ লাখ দুই হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়।

সিটি মেয়র মনজুর আলম ওই অর্থবছরে ৯৬০ কোটি ৫২ লাখ ৭০ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিলেন। ওই বাজেটও ছিল বকেয়া কর ও অনুদান নির্ভর।

বাজেট ঘোষণার সময় সিসিসির অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি জহিরুল আলম দোভাষ, সচিব মো. শামসুদ্দোহাসহ ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের বাজেটে সর্বোচ্চ ৫৪৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে উন্নয়ন কাজে, যার মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া প্রকল্পকাজকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে সিটি মেয়র বাজেট বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন।

১৪৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে বেতন ভাতা খাতে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে আয় খাতে হালকর ১১৬ কোটি টাকা, অন্যান্য কর বাবদ প্রায় ৮২ কোটি টাকা এবং সম্পদ থেকে অর্জিত ভাড়া ধরা হয়েছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।  

ব্যয় খাতে বিদ্যুৎ-পানি-জ্বালানি বাবদ ৩৪ কোটি ৭০ লাখ, বকেয়া দেনা ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেখানো হয়।

বাজেট বক্তব্যে সিটি মেয়র মনজুর আলম বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে করপোরেশন গত বছর প্রাথমিক পর্যায়ে বেশকিছু কাজ হাতে নেয় এবং বাস্তবায়ন করে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর উন্নয়ণ সহযোগী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

এছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ২৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহদ্দারহাট বাড়ইপাড়া খাল থেকে বলিরহাট পর্যন্ত তিন কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন খাল খনন এবং কর্ণফুলী নদীর সাথে বিভিন্ন খালের মুখে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে বলে জানান মেয়র।

ইতিমধ্যে সরকার থেকে এসব উন্নয়ন কাজের জন্য অর্থ অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও জানান সিটি মেয়র।

বাজেটে জলাবদ্ধতার জন্য সুনির্দিষ্ট বাজেট রাখা না হলেও উন্নয়ন খাত থেকে এসব অর্থ যোগান দেয়া হবে।

এছাড়া সিটি মেয়র বাজেট বক্তব্যে অতীতে সিটি করপোরেশনের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি দেন এবং আগামীতে যেসব উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে তারও বিবরণ দেন।

মেয়র বলেন, ভবিষ্যতে সিসিসি’র উদ্যোগে ভবঘুরে পথচারীদের জরিপ, ছিন্নমূলদের রাত্রি যাপনের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, প্রবীণদের জন্য বৃদ্ধনিবাস নির্মাণ, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন, কালুরঘাটে নিজস্ব জায়গায় গার্মেন্টসপল্লী নির্মাণ, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের জন্য পুর্নবাসনে আবাসস্থল নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন বাজারে ফরমালিন পরীক্ষার জন্য করপোরেশনের উদ্যোগে যন্ত্রপাতি বসানোর কথাও বক্তব্যে মেয়র উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন