ম্যান্ডেলা লাইফ সাপোর্টে!

0
47
Print Friendly, PDF & Email

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী কিংবদন্তী নেলসন ম্যান্ডেলার শারীরিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটেছে। তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন বলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে ম্যান্ডেলার পাশে থাকার জন্য বৃহস্পতিবার নিজের পূর্ব নির্ধারিত মোজাম্বিক সফর বাতিল করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। মূলত সফর বাতিলের এ ঘোষণার পরপরই ম্যান্ডেলার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে সর্বত্র শঙ্কা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রিয়জনদের কাছে ‘মাদিবা’ নামে অভিহিত ৯৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট, বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানী প্রিটোরিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

জ্যাকব জুমার ‍মুখপাত্র ম্যাক মহারাজ জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় ম্যান্ডেলার শারীরিক ‍পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও ‘জটিল’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তবে ম্যান্ডেলাকে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া এমন গুজবের ক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এদিকে ম্যান্ডেলার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘ধারণা প্রসূত’ কোনো মন্তব্য না ছড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয় তার (ম্যান্ডেলা) পরিস্থিতি সম্পর্কে একমাত্র প্রেসিডেন্ট বা তার মুখপাত্র ম্যাক মহারাজই কথা বলবেন।

মুখপাত্র ম্যাক মহারাজও ম্যান্ডেলার শারীরিক পরিস্থিতির ওপর ধারণা প্রসূত প্রতিবেদন ছাপানোর জন্য কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন নেলসন ম্যান্ডেলা। এ জন্য দীর্ঘ ২৭ বছর জেলে ছিলেন তিনি।
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। ১৯৯৩ সালে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত। এছাড়া বর্ণবাদী শাসনামলে কুখ্যাত রোবেন আইল্যান্ডে বন্দী থাকা অবস্থ‍ায় ১৯৮০ সালে তার যক্ষ্মা ধরা পড়ে।

এক সাক্ষাতকারে নিজের যক্ষ্মার জন্য রোবেন দ্বীপের কারাগারের অপরিচ্ছন্ন ও স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশকে দায়ী করেছিলেন ম্যান্ডেলা।

শেয়ার করুন