গাজীপুর সিটিতে ভোটের সমীকরণে অনেকে ফ্যাক্টর

0
37
Print Friendly, PDF & Email

শুধু জাহাঙ্গীর নন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীও গাজীপুর সিটি নির্বাচনের নেপথ্যের ফ্যাক্টর! গত কয়েক দিন ধরে ‘জাহাঙ্গীর নাটকে’র নেপথ্যে অনেক নায়কের প্রসঙ্গ আলোচনায় ছিল না। এখন আবার সেসব প্রভাবশালীর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি সামনে চলে আসছে।গাজীপুর সিটিতে ভোটের সমীকরণে অনেকে ফ্যাক্টর
বুধবার গাজীপুরে আজমত উল্লার সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে জাহাঙ্গীর আলম। ছবি- সমকাল
 
প্রভাবশালী এ ব্যক্তিরা হচ্ছেন গাজীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি বতর্মানে বিএনপি নেতা হাসান সরকার, গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি ফজলুল হক মিলন ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর-৩ আসনের বতর্মান এমপি একেএম রহমত আলী এবং গাজীপুর-১ আসনের এমপি আ ক ম মোজাম্মেল হক।
 
এ ছাড়া নেপথ্যে আরও কলকাঠি নাড়ছেন একাধিক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। বিশেষ করে বহুল আলোচিত জাহাঙ্গীরের রোমাঞ্চকর উত্থানের নেপথ্যে একাধিকবার দলবদল করা একজন ব্যবসায়ীর নাম এলাকাবাসীর মুখে মুখে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে সমর্থন দেওয়া এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়া ওই ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তদারককারী হিসেবেই বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জাহাঙ্গীর দ্রুত এলাকার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রক হন এবং পরে তিনি ছাত্রলীগে যোগ দেন। জাহাঙ্গীর নির্বাচনে না থাকলেও ওই ব্যবসায়ীর প্রভাব এ নির্বাচনে থাকবে বলেই স্থানীয়দের ধারণা। অন্তত তিনটি শিল্প গ্রুপ গাজীপুরে নিজেদের বিস্তৃত ব্যবসার স্বার্থে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে পৃথকভাবে সমর্থন দিয়ে গোপনে বিপুল অর্থ নিয়ে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলেও স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে।
অধ্যাপক মান্নানের সামনে ফ্যাক্টর দলের নেতারাই!
জাতীয় পার্টির টিকিটে গাজীপুর-২ (টঙ্গী) আসন থেকে ১৯৮৬ সালে এমপি হওয়া হাসান সরকার ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নানের সঙ্গে বোঝাপড়ায় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তার পক্ষেই কাজ করেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলে যেতে হয় হাসান সরকারকে। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে হাসান সরকার আবার জাতীয় পার্টির টিকিটে প্রার্থী হন এবং প্রায় ৭৬ হাজার ভোট পান। এ নির্বাচনে বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নান পরাজিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রয়াত আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি নির্বাচিত হন।
 
২০০১ সালের নির্বাচনের আগে হাসান সরকার বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান। এ দফায় দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে অধ্যাপক এমএ মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেন। আবারও দু’জন হেরে যান। আহসান উল্লাহ মাস্টার টানা দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে গাজীপুরে একটি আসন বাড়ানো হলে হাসান সরকার গাজীপুর-২ এবং অধ্যাপক এমএ মান্নান গাজীপুর-৩ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন।
 
হাসান সরকার এক দফা টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। টঙ্গী এলাকায় তার ভোটব্যাংক আছে। এ কারণে হাসান সরকারের সমর্থন পাওয়া-না পাওয়ার ওপর উত্তর প্রান্তের বাসিন্দা ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নানের দক্ষিণের টঙ্গী এলাকার ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও নির্ভর করছে। টঙ্গী এলাকার বাসিন্দা আজমত উল্লার নিজস্ব ভোটব্যাংকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দক্ষিণের ভোট পেতে হলে অধ্যাপক মান্নানকে অনেকটা হাসান সরকারের ওপরই নির্ভর করতে হবে।
 
দৃশ্যত, হাসান সরকার অধ্যাপক মান্নানের সমর্থনে কাজ করছেন, নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন। হাসান সরকার সমকালকে বলেন, অতীতে কী ঘটেছে না ঘটেছে তা বিবেচ্য বিষয় নয়, সেগুলো মনেও নেই। এখন তিনি সর্বান্তরণে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক মান্নানের পক্ষে কাজ করছেন।

শেয়ার করুন