সংসদে গ্রাম আদালত (সংশোধন) বিল ২০১৩ উত্থাপন

0
44
Print Friendly, PDF & Email

বিদ্যমান আইনের অসুবিধাসমূহ দূর এবং গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কতিপয় ধারা সংশোধনের প্রস্তাব করে আজ সংসদে গ্রাম আদালত (সংশোধন) বিল ২০১৩ উত্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বিলটি উত্থাপন করেন।

বিলে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিচার গ্রাম আদালতে না করার বিদ্যমান বিধান সুস্পষ্ট করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রাম আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিভিশনের আবেদন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট সহকারি জজ কর্তৃক তা ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বিধান সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে গ্রাম আদালতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া এ আদালতের অধিক্ষেত্র পঁচিশ হাজার টাকা থেকে পঁচাত্তর হাজার টাকায় বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গ্রাম আদালতে মামলা নিষ্পত্তি করার বিধান সন্নিবেশের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে গ্রাম আদালতের সিদ্ধান্ত সহজে ও দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ধার্য্য করা জরিমানা আদায়ের লক্ষ্যে সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা হ্রাসের জন্য জরিমানার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত ধারায় গ্রাম আদালতে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অনধিক ২ হাজার টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে।

বিলে গ্রাম আদালত অবমাননার দায়ে পাঁচশত টাকা জরিমানার পরিবর্তে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান আইনে একই পক্ষগণের মধ্যে একাধিক মামলা থাকলে পরে দায়ের করা মামলা স্থগিত এবং পূর্বে নিষ্পত্তি করা মামলার পুনর্বিচার রোধ করার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিলে গ্রাম আদালতে বিচার্য ফৌজদারি মামলা থানায় দায়েরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ এবং আদালতের পক্ষ থেকে গ্রাম আদালতে বিচার্য ফৌজদারি মামলা পুনরায় গ্রাম আদালতে প্রেরণের বিধান আরো সুস্পষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য বিলটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ করা হয়।

এর আগে উত্থাপনের পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান বিলটির ওপর আপত্তি করলে কন্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। পরে সংসদের অনুমতি নিয়ে বিলটি উত্থাপন করা হয়।

শেয়ার করুন