আমার কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই—তিশা

0
77
Print Friendly, PDF & Email

‘মা, আমি বন্দী কারাগারে…।’—বনানীতে নিজের বাড়ির সামনে পার্কের লোহার পাঁচিল ধরে আনমনে গান গাইছেন তিশা। ওদিকে তাঁকে তখন অনুসরণ করছে ক্যামেরা। এটি একটি নাটকের দৃশ্য হতে পারত। কিন্তু এটি কোনো নাটক নয়।
আমরা তিশার সাক্ষাৎকার নেব। তাই রোববার সাতসকালে ক্যামেরাসহ হাজির হয়েছি তাঁর বাসায়। তবে আলাপচারিতার আগে তিশার ছবি তুলে ফেললে কেমন হয়! এই ভাবনায় তাঁর বাসার সামনের রাস্তায় শুরু হলো ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক অভিযান—আগে চলেন তিশা, পেছনে আমরা। এর মধ্যে তাঁর গলায় গান—সে মুহূর্তও ধারণ হলো।
‘কাল রাত তিনটা পর্যন্ত শুটিং করেছি। ঘুম থেকে উঠতে তাই খানিকটা দেরি হলো। আপনাদেরও বসে থাকতে হলো কিছুক্ষণ। আসলে ২৪ ঘণ্টায় আমি সাধারণত তিন-চার ঘণ্টা টানা ঘুমের সময় পাই…।’
কথা ছিল সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হবে আলাপ। কিন্তু আমরা যখন ছবি তোলার অভিযানে নেমেছি, তখন ১১টা বেজে গেছে। আনুষ্ঠানিক কথোপকথন তখনো শুরু হয়নি। তাই কি একা একা এমন কৈফিয়ত আওড়াচ্ছেন তিশা?
মাত্র তিন-চার ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাজ করা যায়?
কে জানত, নিজের সম্পর্কে একটি গোপন তথ্য তিনি এখনই বলবেন, ‘কাজের ফাঁকে যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিবেশে খানিকটা ঘুমিয়ে নিতে পারি আমি। শুটিংয়ের ভিড়ভাট্টা, লাইটের তীব্র আলো, গরম—কিছুই আটকাতে পারে না আমার এই খণ্ডকালীন ঘুম। তাই তিন-চার ঘণ্টা টানা ঘুমালে কাজ করতে অসুবিধা হয় না।’—তিশার এ কথার পর আমাদের কথা বলার ফুরসত মিলল না।
‘একবার হয়েছে কি, নাটকের শুটিংয়ে মোশাররফ করিমের সঙ্গে একটি দৃশ্য ধারণ হচ্ছে। দৃশ্যটি এমন, আমি ঘুমিয়ে থাকব, আর মোশাররফ ভাই নিঃশব্দে আমার বালিশের নিচ থেকে চুপিসারে একটা জিনিস বের করে নেবেন। এদিকে ঘুমের অভিনয়ের সুযোগে আমি তো সত্যিই ঘুমিয়ে পড়েছি। এর মধ্যে দৃশ্য ধারণ শেষ। অন্য দৃশ্যের কাজ শুরু হবে। অগত্যা সবাই আমাকে ডাকছেন। কিন্তু সে সময় আমি তো ঘুমিয়ে কাদা!’
নিজের ঘুমকাহিনি বলতে গিয়ে তিশা যেভাবে হেসে উঠেছিলেন, সেই হাসির বর্ণনা এড়িয়ে পাঠক, এক্ষণে আপনাকে মনে করিয়ে দিই, ২০১২ সালের মেরিল-প্রথম আলো দর্শক জরিপ পুরস্কারে লংমার্চ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে সেরা নারী অভিনয়শিল্পী হয়েছেন তিশা। এর আগেও তিনি পেয়েছেন এ পুরস্কার। কথায় কথায় প্রসঙ্গটি তুলতেই তাঁর মুখে আবারও হাসি।
‘কাজের স্বীকৃতি পেতে কার না ভালো লাগে! এই যে কয়েক বছর ধরে আমাকে মনোনীত করছেন দর্শকেরা, তাঁদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ!’
২০১২ থেকে ২০১৩—এই এক বছরে তিশার জীবনে ঘটেছে অনেক কিছু—টেলিভিশন চলচ্চিত্রে ‘কুলসুম’ চরিত্রে অভিনয় করা এ মেয়েটির পা যেমন পুশান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচা ছুঁয়েছে, তেমনি হলিউড রিপোর্টার, ভ্যারাইটি, ফিল্ম বিজনেস এশিয়া—এসব আন্তর্জাতিক পত্রিকাও তাঁর অভিনয়কে ‘সাবলীল’ বলে তুলেছে ধন্য ধন্য রব।
টেলিভিশনের সেই ধন্যি মেয়ে তিশা এবার হাঁটবেন ডুবোশহর-এ। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নতুন এই ছবির কাহিনি কেমন?
‘ঢাকা ওয়াসার সমস্ত পানি ঢেলে একটি শহর ডুবিয়ে দেওয়া হবে—এটিই ডুবোশহর।’—বলেই দুষ্টুমিভরা হাসি। হাসিই বলে দিচ্ছে, এইমাত্র গুল মেরেছেন—কারণ, ডুবোশহর-এর গল্প এখনই ফাঁস করতে তিনি নারাজ। তবে জানা গেল ঈদের নাটক নিয়ে তাঁর বর্তমান ব্যস্ততার কথা, ‘অনিমেষ আইচ, ইমরান রাফাত, মাসুদ সেজান, কিবরিয়া ফারুকী, শিহাব শাহীন, আশফাক নিপুণ, গোলাম সোহরাব দোদুলসহ বেশ কয়েকজন নির্মাতার নাটকে কাজ করছি। এসব নাটকে নানাভাবে আমাকে দেখতে পাবেন দর্শক।’
শুটিং ও ক্যামেরার ঘেরাটোপে জড়ানো জীবন। সেই জীবনে যেনবা ছায়া হয়ে আছেন তাঁর বাবা। ২০০৪ সালে বাবা মারা যাওয়ার পরই নাকি মানসিকভাবে অনেক বড় হয়ে উঠেছেন একসময়ের শিশুশিল্পী তিশা।
২০ ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া আজকের ‘বড়’ তিশার জন্য এবার আপনার মনে একটু দুঃখ জাগতে পারে। তিশা বলেছেন, নানা চরিত্রে অভিনয় করতে করতে এখন ব্যক্তি তিশার আর তেমন কিছু নেই। কেননা, অনেক চরিত্রের মধ্যে ছড়িয়ে আছেন তিনি।
ভাবছেন, এ নিয়ে তাঁর কোনো দুঃখবোধ কি আছে?
‘একদম না।’—এই উত্তরই বলে দিচ্ছে, অভিনয়ে দর্শককে মুগ্ধ করার মধ্যেই তাঁর যত আনন্দ। তবে আলাপের ফাঁকে তিশা যখন বললেন, ‘নিজের অবসেশন—বিষণ্ন মুহূর্তগুলোতে আমি একা থাকতে ভালোবাসি, কারও সামনে যাই না। আমার আনন্দের সময়গুলোই সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই আমি’; তখন মনে হলো, যতই বলুন তিনি ব্যক্তি তিশার তেমন কিছু নেই, তবু মানুষ তিশারও আছে আপন ভুবন।
না, সেই ভুবনে আমরা ঢুকব না। ছবি তোলা শেষ। এখন তিশার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আড্ডা দেব আমরা। আর ওই আড্ডায় তিনি বলবেন, ‘ভাই, একটা কথা লিখে দেবেন—আমি ফেসবুকপন্থী নই। আমার কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই।’

শেয়ার করুন