যত ক্ষোভ মন্ত্রী-সাংসদদের ওপর

0
60
Print Friendly, PDF & Email

ভেতরে প্রচণ্ড শোরগোল। চলছে বাগবিতণ্ডা। ক্ষোভ ঝাড়া হচ্ছে দলের মন্ত্রী-সাংসদদের ওপর। সবার প্রশ্ন, সাংসদেরা কেন দলের সভা-সমাবেশে আসেন না? একই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ, সাংসদেরা আখের গোছানো আর বিলাসিতা নিয়ে ব্যস্ত। একের পর এক এসব অভিযোগের মুখে একপর্যায়ে আইন প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বেরিয়ে যান।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আজ বেলা ১১টার দিকে এই পরিস্থিতি দেখা যায়। আসন্ন কমিটি ও সাংগঠনিক ভিত জোরদার করতে সেখানে ওই সময় মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়, যা একটানা দুদিন চলবে।
সভায় দলটির থানা-ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটির নেতারা সাংসদদের প্রতি এভাবে ক্ষোভ ঝেড়েই চলেন। রুদ্ধদ্বার এ বর্ধিত সভায় সংবাদকর্মীদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে জানা গেছে, সভায় কমিটি গঠনের দাবি তোলা হয়। মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে।
সভা চলার সময় মুঠোফোনে মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একজন নেতা প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘কেউ মহানগর নেতাদের, কেউ স্থানীয় সাংসদদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন। কেউ আবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ভাগ করার পক্ষে-বিপক্ষে কথা বলছেন। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। এতে প্রচণ্ড শোরগোল হচ্ছে।’
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সংসদীয় আসনের একজন ওয়ার্ড সভাপতি বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি (কামরুল ইসলাম) ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতেন। কিন্তু এখন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি এখন অমাবস্যার চাঁদ।’
বর্ধিত সভায় বক্তব্য দিয়েছেন পুরান ঢাকার এমন একজন ওয়ার্ড সভাপতি। প্রথম আলো ডটকমকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন হয়ে গেল মহানগরের নেতারা কমিটি ঘোষণা করছেন না। আমাদের বয়স হয়েছে। আমরা এক দায়িত্বে আর কত বছর থাকব? একবার মহানগর নেতারা তাঁদের ইচ্ছামতো কমিটি করেন। আবার স্থানীয় সাংসদ তাঁর মতো কমিটি করেন। তাঁদের ঠেলাঠেলিতে আমাদের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা।’
ওই নেতা বলেন, ‘মহানগর কমিটি থেকে একমাত্র মন্ত্রী হয়েছেন, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। অথচ তাঁর কাছে গেলে কোনো উপকার পাওয়া যায় না। তিনি নানা বেফাঁস মন্তব্য করছেন। ফলে আমরা বিভিন্ন সময় বিব্রত হই।’ এসব কথা বলতেই আইন প্রতিমন্ত্রী বেরিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য তাঁর।
আরেক ওয়ার্ড সভাপতি প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের অনেকে মারা গেছেন, বিদেশ গেছেন, অনেকের বয়স হয়েছে। তাঁরা এখন আর সাংগঠনিক কাজ করতে পারেন না। কী অদৃশ্য কারণে মহানগরের নেতারা কমিটি করছেন না, সেটা আমার বোধগম্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘সাংসদেরা এখন ব্যস্ত ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে। দল গোছানোর সময় কোথায় তাঁদের?’
বর্ধিত সভায় কারা উপস্থিত রয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, ‘বৈঠকে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম ও সাংসদ সানজিদা খানম উপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া বৈঠকে ঢাকা মহানগরের অন্তর্ভুক্ত ৯৩টি ওয়ার্ড, ১৮টি ইউনিয়ন ও ৪৯টি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা প্রতিনিধি উপস্থিত রয়েছেন।’ এ আলোচনা আগামীকালও চলবে বলে জানা গেছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই বর্ধিত সভায় প্রায় ২৩ জন ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বক্তব্য দিয়েছেন।
এর আগে ২০ জুন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী আজকের দিনে পরবর্তী বর্ধিত সভায় সবার কথা শুনে মহানগর আওয়ামী লীগসহ সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষোভ প্রশমিত হয়।

শেয়ার করুন