অসংসদীয় ভাষা রোধে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান তরুন দুই সংসদ সদস্যর

0
86
Print Friendly, PDF & Email

সংসদে অসংসদীয়, কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বক্তব্য প্রতিরোধে স্পীকারকে ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সরকার ও বিরোধী দলের তরুন দুই সংসদ সদস্য। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য ও বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ অসংসদীয় ভাষা প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ ও অসংসদীয় শব্দ, ভাষা ব্যবহার করে বক্তব্য প্রদানকারীদের এক দিনের জন্য জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন সরকারি দলের কনিষ্ঠ সদস্য জুনাইদ আহমেদ পলক। প্রতিটি অসংসদীয় শব্দের জন্য বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি। আজ সংসদের অধিবেশনে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত (২৭৪) বিধিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্দালিব পার্থ বলেন, গত ১৭ই জুন সংসদে বাজেটের ওপর বক্তব্য রেখেছি। চেষ্টা করেছি, বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক বক্তব্য রাখার। কারো ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রাখিনি, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। রবিবার চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত একজন সদস্য আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কথা বলেছেন। এতে আমার সামাজিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পারিবারিক পরিচয় নিয়ে আমাকে আমক্রণ করে যে বক্তব্য রাখা হয়েছে তার কোনোটিই আমার সঙ্গে পারমিট করে না। এমনকি সংসদে অসংসদীয় ভাষার কারণে সরকারি দলের একজন সদস্য বক্তব্য রাখা থেকে বিরত থেকেছেন আর আরেকজন বলেছেন, এ সংসদে শিশু গ্যালারি আছে। পার্থ বলেন, সংসদের সিনিয়র পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমাকে বলেছেন, তরুণ সমাজ আমার কাছ থেকে কি শিখবে? আমি কোন পক্ষের কথা বলছি না। আল্লাহ অসীম রহমতে পিতা-মাতার মাধ্যমে আমাদের এ পৃথিবীতে পাঠান। অথচ মরহুম পিতা-মাতাকে নিয়ে বক্তব্য রাখা হয়। তাহলে তারা আমাদের এ পৃথিবীতে এনে কি অপরাধ করেছেন? এ ধরনের বক্তব্য স্যুট এবং সংসদীয় রীতির বাইরে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি দল এবং বিরোধী দলের শীর্ষ প্রধানদের পিতা/মাতা/সন্তান এবং পরিবার নিয়ে যেভাবে বক্তব্য রাখা হচ্ছে এ সংসদে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ সময় তিনি স্পিকারকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনি যখন এই সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলেন ওই সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়েছিল। তাই আমি চাই, আপনার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করুন যাতে এসব অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিরোধী দলের কয়েকজন নারী সদস্যের অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি না। বিরোধীদলীয় সদস্যরা সদস্য পদ রক্ষার জন্য সংসদে এসে কৌশল হিসেবে এ ধরণের বক্তব্য রাখছেন। অথচ তাদের কারো অনুপস্থিতি ৮৯, কারো ৮৫, ৮৬ এবং গড়ে ৮৩ কার্যদিবস হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েকজন নারী সদস্যের অশ্লীল ও অসংসদীয় ভাষার কারণে দেশের রাজনীতি কলুষিত হচ্ছে। এটা সংসদের জন্য অবমাননাকর ও মানহানিকর। ২/৩ জনের জন্য সব সংসদ সদস্য এর দায় নিতে পারে না। স্পীকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকার এসব অসংসদীয় ভাষা আপনি এক্সপাঞ্জ করছেন ঠিকই কিন্তু সুনাম যা ক্ষুন্ন হওয়ার তা তো হচ্ছে। এমনকি সংবাদমাধ্যমে অশ্লীল বক্তব্যগুলো প্রথম ও শেষ পাতায় ফলাও করে প্রকাশ করা হচ্ছে। তাহলে আমরা শিশুদের কী শিক্ষা দিচ্ছি? স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় সংসদ পরিচালিত হচ্ছে। এক মিনিট সংসদ চললে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। যারা এসব অংসদীয়, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন তাদের কাছ থেকে প্রতিটি শব্দের জন্য বেতন থেকে ৩০ হাজার টাকা কেটে রাখুন। এ ক্ষমতা আপনার আছে।

শেয়ার করুন