জুতা পলিশওয়ালা থেকে কোটিপতি

0
88
Print Friendly, PDF & Email

আট বছর বয়সে দুটো পয়সার জন্য জুতা পলিশ করতেন রাইস গেলফন্ড। এরপর যে ব্যবসাতেই হাত দিয়েছেন, সফল হয়েছেন তিনি। এখন তিনি বিশ্ববিখ্যাত থ্রিডি সিনেমা চেইন আইম্যাক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। শূন্য থেকে সফল আজন্ম-উদ্যোক্তা গেলফন্ড এখন কোটিপতি।
বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, জুতা পলিশের কাজ ছেড়ে ১৬ বছর বয়সে নিউইয়র্ক থেকে পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেন গেলফন্ড। তখন তিনি স্কুলে পড়তেন। অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর পত্রিকাটির প্রচারসংখ্যা প্রায় ২৫ হাজারে পৌঁছায়। সংগত কারণেই বড় বিজ্ঞাপনদাতাদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় পত্রিকাটি। তবে পত্রিকার ব্যবসা বেশি দিন টানেননি গেলফন্ড। তাঁর লক্ষ্য আরও বড়, দৃষ্টি অনেক দূর।
শুধু ব্যবসার মধ্যেই পড়ে থাকেননি গেলফন্ড, পড়াশোনাও করেছেন। ১৯৭৬ সালে নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন গেলফন্ড। এরপর একটি আদালতে কেরানির কাজ শুরু করেন। একটি ল ফার্মে আইনজীবী হিসেবেও কাজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু গেলফন্ডের চেতনায় উদ্যোক্তার মনোভাব। আইন-পেশা ছেড়ে আবার ব্যবসায় নেমে পড়েন তিনি। শুরু করেন ড্রাই ক্লিনিং চেইনের ব্যবসা। ব্যবসা সফল হলে একপর্যায়ে তা বিক্রি করে দেন।
১৯৮৮ সালে যোগ দেন আরেকটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে। সেখানে পরিচয় হয় ব্রাড ওয়েকসলারের সঙ্গে। এরপর কয়েকটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ধীরে ধীরে এগিয়েছেন লক্ষ্যের দিকে। ব্যবসায়িক অংশীদার ব্রাড ওয়েকসলারকে নিয়ে ১৯৯৪ সালে আইম্যাক্স পুরোপুরি কিনে নেন গেলফন্ড। প্রচলিত সিনেমা শিল্পের প্রেক্ষাপটে আইম্যাক্সের ব্যবসায়িক ভাবনা ছিল বিপরীতমুখী।
চলচ্চিত্রে থ্রিডি প্রযুক্তির প্রচলন নিয়ে স্টিভেন স্পিলবার্গ, জজ লুকাসের মতো হলিউডের খ্যাতিমান পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে আইম্যাক্স। কিন্তু পরিচালকদের কাছ থেকে তেমন সাড়াই পাননি গেলফন্ড। তাই বলে হতাশ হয়ে থেমে যাননি।
বক্স অফিস চলচ্চিত্র ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) পর্যায়ে রূপান্তর করার কৌশল উদ্ভাবন করে আইম্যাক্স। এরপর ক্রমে থ্রিডি চলচ্চিত্র জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
গেলফন্ড জানান, বিশেষ করে তিনটি চলচ্চিত্র আইম্যাক্সের ইতিহাস বদলে দিয়েছে। এগুলো হলো ‘ফ্যান্টাসিয়া ২০০০’, ২০০৪ সালে ‘থ্রিডি পোলার এক্সপ্রেস’ এবং ২০০৯ সালে জেমস ক্যামেরনের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিনির্ভর ‘অ্যাভাটার’।
এসব চলচ্চিত্র বিপুলসংখ্যক দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে সক্ষম হয়। অর্জন করে অসাধারণ ব্যবসায়িক সাফল্য। এর মধ্যে শুধু ‘অ্যাভাটার’ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।
নিজেদের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে গেলফন্ড জানান, ২০০৮ সালে আইম্যাক্সের মাত্র ১৫০টি থিয়েটার ছিল। কিন্তু এখন তা সাত শতাধিকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৫০ বছর আগে যে ছেলেটি অন্যের জুতো পলিশ করে জীবন চালাতেন, আজ কোটি কোটি ডলার আয় করেন।

শেয়ার করুন