সরকারের উদ্দেশে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চ্যালেঞ্জ

0
101
Print Friendly, PDF & Email

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্য তাহসিনা খাতুন সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনারা মনে হয় জানেন না, গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের গরিব নারীদের জাগিয়ে দিয়েছে। আমরা গরিব নারীরা এখন জেগে উঠেছি। বাংলাদেশের জেগে ওঠা নারীদের ক্ষমতা আপনারা এখনো দেখেননি। আমাদের সম্পদ ছিনিয়ে নিতে চাইলে আমাদের ক্ষমতা দেখবেন।’
তাহসিনা খাতুন বলেন, ‘আপনারা ঢাকায় বসে কলম চালিয়ে সারা দেশের ৮৪ লাখ নারীর সম্পদ কেড়ে নিয়ে যাবেন, আর আমরা ঘরে বসে চোখের পানি ফেলব, সেই দিন আর নেই। আপনাদের বোধোদয় না হলে, আমাদের সম্পদ কেড়ে নিতে চাইলে আমরাও বোঝাপড়া করতে আসব। আমাদের সম্পদ রক্ষার জন্য আমরা হাজারে-হাজারে, লাখে-লাখে ঢাকা আসব। দেশের সব নারীকে ডাকব, আমাদের পরিবারের সদস্যদের ডাকব। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা জমায়েত হব।’
আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মনোভাবের কথা জানান ব্যাংকটির নির্বাচিত পর্ষদ সদস্য তাহসিনা খাতুন ও অন্যরা। সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংকের ভবিষ্যত্ কাঠামো সম্পর্কে গ্রামীণ ব্যাংক কমিশনের সুপারিশের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্যরা। একই সঙ্গে ৮৪ লাখ নারীর এই সম্পদ জোর করে কেড়ে নিতে চাইলে তাঁরা তা মেনে নেবেন না বলেও জানান। প্রয়োজনে সব সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমাবেশ করা হবে বলে জানান তাঁরা।
লিখিত বক্তব্যে তাহসিনা খাতুন বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি মালিকানা বাড়ানো, নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে আমাদের ব্যাংক জবরদখলের শামিল। তাই আমাদের সম্মতিতে এটা কোনোদিন হতে দেওয়া হবে না। কেননা, সরকারি ব্যাংক লুটপাটের খবর আমরা জানি।’
তাহসিনা খাতুন আরও বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করেছে। কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারি শেয়ার ৫১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছে। বিষয়টি আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সরকারি টাকায় চলে না। পরিশোধিত মূলধনের তিন শতাংশ ছাড়া এই ব্যাংকে সরকারের কোনো টাকা নেই। কোনো দাতা সংস্থার টাকাও নেই এই ব্যাংকে। এই অবস্থায় ব্যাংকটিকে সরকারি মালিকানায় নেওয়ার মানে দরিদ্র নারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা লুটেপুটে খাওয়া।
গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম ঋণগ্রহীতার সঞ্চয়ের টাকায় চলে উল্লেখ করে এই পরিচালক বলেন, ‘আমাদের ব্যাংক আমাদের মতো করে চলবে। ব্যাংকের বর্তমান যে আইন আছে, সেই আইনে চলবে। আইন পরিবর্তনের নামে আমাদের ব্যাংক সরকারের নামে লিখিয়ে নেওয়ার এই চেষ্টা আমরা সফল হতে দেব না। একে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ফেলার চেষ্টাও সফল হতে দেওয়া হবে না।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক পর্ষদ সদস্য রোজিনা খাতুন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইন অনুযায়ী আর ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হতে পারবেন না। তবে তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের চট্টগ্রাম জোনের পর্ষদ সদস্য সাজেদা, কুমিল্লা জোনের রেহেনা আক্তার, সিলেট জোনের সুলতানা, গাজীপুর জোনের ছালেহা খাতুন, দিনাজপুর জোনের মোছা. পারুল বেগম, বগুড়া জোনের মেরিনা, যশোর জোনের মোছা. সাহিদা বেগম, পটুয়াখালী জোনের মোমেলা বেগম প্রমুখ।

শেয়ার করুন