গাজীপুর সিটি নির্বাচন : অবৈধ অস্ত্র ও কালো টাকা নিয়ে প্রার্থীদের শংকা

0
82
Print Friendly, PDF & Email

আর মাত্র ১৪ দিন বাকী রয়েছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের। ৬ জুলাই বহুল প্রতিক্ষিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের ব্যস্ততা ততই বেড়ে যাচ্ছে। ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গ কিলোমিটারের বিশাল এলাকার ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮জন ভোটারের কাছে নিরন্তর ছুটে চলেছেন মেয়র প্রার্থীরা। সেই সঙ্গে তাদের বিশাল কর্মী বাহিনীও প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বি মেয়র পদে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান ও ১৪ দল সমর্থিত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন এলাকা। ভোটারদের মন জয় করতে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিভিন্ন উন্নয়নের। সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত আধুনিক সিটি উপহার দেয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁড়ি ফুটছে প্রার্থীদের মুখে। কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের এলাকার নানা উন্নয়নের কথা বলে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। ভোটের লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তারাও ছুটছেন ভোটারদের কাছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কর্মী বাহিনী নিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করছেন।

গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণার মাঝেও অনেক প্রার্থী নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের ও কালো টাকা বিতরণ করা নিয়ে শংকার মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন বেশ কিছু কাউন্সিলর ও একজন মেয়র প্রার্থী। বিশেষ করে বিভিন্ন এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ এলাকার ভোটারদের মাঝে টাকা পয়সা বিলি করার কথা জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বি অপর প্রার্থী। এক কাউন্সিলর প্রার্থীকে তার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী বাড়িতে গিয়ে হুমকী দিয়েছেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবার জন্য। ৪৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল ইসলাম তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী রঞ্জুল ইসলাম রঞ্জুরকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দিতে তার বাড়িতে গিয়ে সশস্ত্র অবস্থায় ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদান করে আসেন। এ ব্যাপারে রঞ্জু থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন এবং রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ দিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এমএ মান্নান নির্বাচনের শুরু থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে জেলায় যত অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তা উদ্ধারে অভিযানের দাবি জানিয়ে আসছেন। অধ্যাপক এমএ মান্নান জানান, অবৈধ অস্ত্র একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। শিল্পাঞ্চল ও বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত এ এলাকার সার্বিক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার মোঃ মতিয়ার রহমান। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য।

কাউন্সিলর প্রার্থীকে শোকজঃ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী রঞ্জুল ইসলাম রঞ্জুকে প্রাণ নাশের হুমকী দেয়ার কারণে ওই ওয়ার্ডের প্রার্থী মোঃ নুরুল ইসলামকে শোকজ করেছেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোঃ মতিয়ার রহমান। নোটিশ প্রাপ্তির ৪ ঘন্টার মধ্যে স্বশরীরে তাকে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোটাররা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একজন যোগ্য নগরপিতা তৈরীর অপেক্ষায় রয়েছে। গাজীপুর সিটির মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন এবং  নারী ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬১ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৭টি, সংরক্ষিত ১৯টি, ভোটকেন্দ্র ৩৯২টি এবং ভোটকক্ষ ২২৮৯টি।

শেয়ার করুন