স্থানীয় নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের আধিক্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি’

0
120
Print Friendly, PDF & Email

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মনে করছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায়ীদের আধিক্য গণতন্ত্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি। নির্বাচনে শুধু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলে অন্যদের সুযোগ থাকে না।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা নির্বাচিত হলেন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার এ সব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য অনুষ্ঠিত চার সিটি নির্বাচনের প্রার্থী ও আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের দেয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচিত ৪ মেয়রের প্রত্যেকেই ব্যবসায়ী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ৮৪ শতাংশ ব্যবসায়ী। অথচ ২০০১-এর পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ছিলেন ব্যবসায়ী।

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, আসন্ন গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৪৪৯ জন এবং সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলর পদে ১২৮ জনসহ সর্বমোট ৫৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সেখানে ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৬৪ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

ভোটারদের সৎ যোগ্য বেছে নিতে প্রার্থীদের সম্পদ বিবরণী ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ তুলে ধরেন মজুমদার বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রার্থীই ব্যবসায়ী এবং উচ্চ শিক্ষিত।

তিনি বলেন, আমরা শুধু নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য তুলে ধরেছি যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনের জন্য।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের পেশা-সংক্রান্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭ প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই ব্যবসায়ী। কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৭০ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী, সিলেট, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়ী মেয়র প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচিত ৪ জন মেয়রের পেশাই ব্যবসা।

এ ছাড়া নির্বাচিত ১৫৯ জন প্রতিনিধির মধ্যে ১০৩ জনই ব্যবসায়ী যা শতকরা ৬৪.৭৭%। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ ব্যবসায়ীদের করায়ত্ত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুজন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, গণতন্ত্রকে জবাবদিহিমূলক করার স্বার্থেই এসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। যেসব প্রার্থী জনগণকে এসব তথ্য জানানোর প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে চান না, ধরে নিতে হবে তাদের মধ্যে গলদ আছে।

জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীদের এতো বেশি মাত্রায় নির্বাচনে অংশ নেয়া নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার ফলাফল।

শেয়ার করুন