‘তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না’

0
50
Print Friendly, PDF & Email

সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সরকারের দাবি সত্ত্বেও বিএনপি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফখরুল এ কথা বলেন।

‘সিটি নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে’ সরকার পক্ষের এমন বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল এ সময় বলেন, “দেশের মানুষকে এত বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। আপনারা ভাবছেন বিরোধীদলকে কোনো মতে নির্বাচনে নিয়ে আসবেন। এই চিন্তা কখনো করবেন না। এটা অলীক চিন্তা। নিরপেক্ষ, নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বিরোধীদল কোনো নির্বাচনে যাবে না।”

সংগ্রামের মাধ্যমে এই দাবি আদায় করতে হবে বলেও নেতাকর্মীদের এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন মির্জা ফখরুল।

বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত পেশাজীবী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মাহমুদুর রহমানের মুক্তি’র দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চাষী নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ। 

মির্জা ফখরুল এ সময় আরও বলেন, “এ লড়াই ছোট লড়াই বা সাধারণ লড়াই নয়। এ সংগ্রাম আপনার আমার অধিকারকে ফিরিয়ে আনার, স্বাধীনতাকে সংরক্ষণ করার, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার সংগ্রাম। তাই মাহমুদুর রহমান আমাদেরকে মাথা নত না করার যে পথ দেখিয়েছেন আমাদের সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে।“

সম্প্রতি সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “এককালে তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু ছিল সুশীল সমাজ। সেই সুশীল সমাজকেও কটূক্তি করতে তারা দ্বিধা করছেন না। আসলে তারা একেবারে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সত্য কথা লেখা সত্যিকার চিত্র তুলে ধরা তারা কখনো সহ্য করতে পারে না।”

কামালউদ্দিন সবুজ বলেন, “অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান। তারা বার বার জন্মায় না। যুগে যুগে একজনই জন্মায়। তিনি কখনো কোনো অন্যায় অসত্যের কাছে মাথানত করেননি। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, আজকে আমরা সাংবাদিকদের মধ্যে কিছু কিছু মানুষকে দেখছি যারা অন্যায়ের কাছে নতি স্বীকার করছেন। অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ফ্যাসিবাদের সঙ্গে নিজেদের বুক মিলিয়ে নিয়েছেন।”

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাদা দলের আহবায়ক ড. সদরুল আমীন, এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক আ ন হ আকতার হোসেন, ঢাবির সাবেক প্রো-ভিসি আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন্নেসা তাহমিনা আকতার, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, ডিইউজের সভাপতি আবদুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন।

শেয়ার করুন