সরকারের ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দিয়েছে জনগণ

0
61
Print Friendly, PDF & Email

চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে উচ্ছ্বসিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা। গণমাধ্যমে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল দেখে গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় জমান।
বিএনপির নেতারা দাবি করেন, চার সিটিতে সরকারের দুর্নীতি, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা ও স্বেচ্ছাচারিতার জবাব দিয়েছে জনগণ। একই সঙ্গে বিএনপির প্রতি আস্থা ও সরকারের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে এই ফলাফলে।
এদিকে রাতেই দলের চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বিএনপি-সমর্থিত চার মেয়র প্রার্থীসহ চার সিটির দলীয় নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি ফলাফল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ বা বিজয় মিছিল বের না করতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিএনপি নেতারা জানান, সিটি নির্বাচনের ফলাফলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মনোবল দারুণভাবে চাঙা হয়েছে। যা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের জন্য চলমান আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন, এটা আগেই তাঁরা বলেছিলেন। যদিও সরকারদলীয়রা এবং পুলিশ-প্রশাসন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে চেয়েছিল, কিন্তু জনগণ তা নস্যাৎ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের জনরায় প্রতিফলিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনের ফলাফলে উদ্বুদ্ধ জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের চলমান আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবে।
ফলাফলে বিএনপি উচ্ছ্বসিত হলেও গতকাল সকাল থেকেই দলটি নির্বাচনের ‘বিভিন্ন অসংগতি’ নিয়ে ঢাকায় গণমাধ্যমের কাছে বক্তব্য দিয়েছে। বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের অভিযোগও করেছে। যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কারচুপির অভিযোগও আনেন। তবে রাতে রুহুল কবির বলেছেন, তাঁরা সুস্পষ্ট যেসব অভিযোগ পেয়েছেন তা জানিয়েছেন। এগুলো কাটিয়ে উঠতে ব্যবস্থা নিতে কমিশন ও প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছিলেন মাত্র। একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এটা তাদের দায়িত্ব।

শেয়ার করুন