বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীদের অভূতপূর্ব বিজয় : চার সিটিতে মহাজোটের ভরাডুবি

0
109
Print Friendly, PDF & Email

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাষ্ট্র ও পেশিশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরও দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। এ চারটি সিটিতে আওয়ামী লীগের নেতা এবং সদ্যবিদায়ী মেয়ররা পরাজিত হয়েছেন। নির্বাচনের এ ফলাফলকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জন্য বিপর্যয়কর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গতকাল অনুষ্ঠিত রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও খুলনার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন। কার্যত সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সবচেয়ে আলোচিত এবং রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ নির্বাচনে ক্ষসতাসীন দলের ভরাডুবি ঘটেছে।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কালো টাকা, অস্ত্রসহ পেশিশক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার এবং নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গকে ব্যবহার করলেও ভোটাররা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ দল সমর্থিত আরিফুল হক চৌধুরী টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে ১২৮টি কেন্দ্রের সবকটিতে ১,০৭,৩৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সদ্যবিদায়ী মেয়র আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান পেয়েছেন ৭২,১৭৩ ভোট। প্রায় ৩৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন কামরান।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৬টির ফলাফলে ১৮ দল সমর্থিত মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আনারস প্রতীক নিয়ে ১,৩১,১৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্যবিদায়ী মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তালা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৩,০০৪ ভোট। ইভিএম-এ জটিলতার কারণে ১টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়নি।
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৮৮টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফলে ১৮ দল সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনি আনারস প্রতীক নিয়ে ১,৮১,২৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আবদুল খালেক তালা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১,২০,০৫৮ ভোট। মনি ৬১,২০৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০০টি কেন্দ্রের সবগুলোর ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ১৮ দল সমর্থিত মো. আহসান হাবিব কামাল আনারস প্রতীক নিয়ে ৮৩,৭৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শওকত হোসেন হিরন টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬৩,৭৪১ ভোট।
আমাদের প্রতিনিধিরা জানান, সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আমলা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা এবং ক্যাডারদের প্রভাব বিস্তারের ব্যাপক চেষ্টা, ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়া, নির্বাচনে পুলিশ ও র্যাবের পক্ষপাতমূলক আচরণ, বিরোধী দল সমর্থকদের দেখামাত্র বেধড়ক লাঠিচার্জ করে আহত করা, বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় পোলিং এজেন্ট এমনকি প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে জালভোট দেয়া, কেন্দ্রের ভেতরে বিরোধী সমর্থক ভোটারদের ভীতি প্রদর্শন, কালো টাকার ছড়াছড়ি, জালভোটের কারণে বৈধ ভোটারদের ভোট দিতে না পারার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
চার সিটি নির্বাচনে মোট ৬৫২টি কেন্দ্রে ভোটার ছিল ১২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮৬। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৬ মাস আগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটির নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আইনগতভাবে অরাজনৈতিক হলেও এ নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের মাপকাঠি হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে সরকারের জনসমর্থন তলানিতে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে চার সিটি নির্বাচনে সরকার সমর্থিতদের পরাজয় অবধারিত ছিল বলে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং বিরোধী নেতাকর্মীরা মন্তব্য করেছিলেন। শুরু থেকেই বিএনপি বেশ জোর দিয়েই বলছে, চার সিটিতেই ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবেন। নির্বাচনে কার্যত বিরোধী দলের পূর্বাভাসই সত্য হয়েছে।

শেয়ার করুন