সিলেটে আরিফুল জয়ী, কামরানের অভিনন্দন

0
119
Print Friendly, PDF & Email

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক নতুন নগরপিতা হতে যাচ্ছেন ১৮-দলীয় জোট-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক। নির্বাচনে ১২৬টি কেন্দ্রের প্রাথমিক ফলাফলে টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে আরিফুলের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া গেছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১৪ দল-সমর্থিত প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের (আনারস) চেয়ে ব্যাপক ভোটে এগিয়ে আছেন তিনি।
১২৬টি কেন্দ্রে আরিফুল পেয়েছেন এক লাখ ছয় হাজার ৪৮৫ ভোট। আর কামরান পেয়েছেন ৭২ হাজার ৪৭ ভোট।
এদিকে আরিফ বিজয়ী হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কামরান।
সিটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১২৮টি। আজ শনিবার সকাল আটটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত।
সিলেট সিটি করপোরেশনে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩৬টি (সংরক্ষিত নয় ও সাধারণ ২৭)। মোট ভোটার ছিল দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ এবং নারী ভোটার এক লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৫ জন।
নির্বাচনে দুই মেয়র পদপ্রার্থী ছাড়াও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৩৫ জন। সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ১৩৯ জন।

নিজ ভোট কেন্দ্রেও হেরেছেন কামরান
সদ্য সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান তাঁর নিজ এলাকার ভোট কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সঙ্গে হেরেছেন। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে কামরান সকালে ভোট দেন। ওই কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন এক হাজার ৬৮৭ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন এক হাজার ৮২৩ ভোট।
অপরদিকে আরিফুল তাঁর নিজ এলাকার ভোট কেন্দ্র রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দেন। সেখানে এক হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে তিনি জিতেছেন। ওই কেন্দ্রে কামরান পেয়েছেন ৪৯৭ ভোট। দুই ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে এ ফলাফল জানা গেছে।

কামরানের অভিনন্দন
বিপুল ব্যবধানে সদ্য বিজয়ী আরিফুলকে দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় কামরান বলেছেন, ‘বিজয়ী প্রার্থীকে আমার অভিনন্দন। গণরায়ের প্রতি আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল। তাই আমি নির্বাচিত না হলেও সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের কল্যাণে ও নগরের উন্নয়নের সব কাজে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে আরিফ বলেন, তাঁকে বিজয়ী করায় নগরবাসীর প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।

পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছিলেন আরিফুল
নির্বাচনের দিনক্ষণে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন, ১৮ বছর ধরে সিলেট পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র কামরান মিষ্ট ভাষা দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছেন বারবার। কিন্তু এ যাত্রায় সফল হলেন না তিনি। তাঁকে তাক লাগিয়ে পরিবর্তনের আওয়াজকে কাজে লাগিয়েছেন আরিফুল।
নির্বাচনের আগে স্থানীয় ভোটাররা জানিয়েছিল, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক জোটের বাইরে সিলেটে আরও কয়েকটি ভোটব্যাংক রয়েছে। এগুলো হলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহ গ্রুপ তথা সিলেটের বাইরের ভোট, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, হকার ও বস্তিবাসী। সংখ্যালঘুদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও মণিপুরি ভোট রয়েছে সিটি এলাকায়। বরাবরই কামরান এ দুই সম্প্রদায়ের ভোট পেয়ে থাকেন। কিন্তু সমর্থকেরা ধারণা করেছিলেন, মণিপুরি ভোটের বড় অংশ পাবেন আরিফুল। হয়তো তাই হয়েছে কার্যত। ফলাফল বিপুল ব্যবধানে হেরেছেন কামরান। অথচ এর আগের ২০০৮ সালের নির্বাচনে কামরান এক লাখ ১৫ হাজার ৪১৬ ভোট পেয়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আ ফ ম কামালকে ৮৩ হাজার বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন।

শেয়ার করুন