গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
214
Print Friendly, PDF & Email

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মৎস্য গ্রæপের ভূমিহীন সুফলভোগীদের সঞ্চয়কৃত প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইতো মধ্যেই সফলভোগীরা প্রতিকার চেয়ে প্রধান মন্ত্রী সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, গ্রামীণ ব্যাংক তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের জয়সাগর মৎস্য খামার (সাবেক নিমগাছি মৎস্য চাষ প্রকল্প) প্রকল্পের জন্য ১৯৮৬ সালে সরকারের সাথে ২৫ বছর মেয়াদী একটি চুক্তি করে। উল্লিখিত প্রকল্পের আওতাধীন ছিল সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ পানবার ভাঙ্গুরা ও চাটমোহর এবং বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ৫ হাজার বিঘা জলায়তনের ৭৮৩টি পুকুর। চুুক্তি পত্রের শর্তানুসারে প্রতি বিঘায় ১ জন করে ৫ হাজার বিঘা জলাশয়ের জন্য ৫ হাজার জন সুফলভোগী হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে হয়েছে ৩ হাজার ৫শ জন। পুকুর/জলাশয়ের পাড়ের স্থানীয় ভূমিহীনদের নিয়ে কেন্দ্র গঠন করা হয়। কেন্দ্রের নিজ¯^ ফান্ড তৈরীর জন্য প্রতিটি ইউনিটে প্রত্যেক কেন্দ্রের নামে নিকটবর্তী গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় একটি করে সর্বমোট ৩৬০টি সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়। উক্ত হিসাব গুলো কোন কোন ইউনিটে কেন্দ্র প্রধান ও সহযোগী কেন্দ্র প্রধানের যৌথ ¯^াক্ষরে এবং কিছু ইউনিটে কেন্দ্র প্রধান ও ইউনিট ম্যানেজারের যৌথ ¯^াক্ষরে পরিচালিত হয়। সরকারের সাবেক নিমগাছি মৎস্য চাষ প্রকল্পটি গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের নিকট হস্তান্তরের পর, জয় সাগর মৎস্য খামার নামে নামকরণ করা হয়। সে মোতাবেক জয় সাগর মৎস্য খামারকে দুটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। যথাক্রমে সিরাজগঞ্জের নিমগাছি ও তাড়াশ অঞ্চল। নিমগাছি অঞ্চলের অধিনে ৮টি ইউনিট অফিস এবং তাড়াশ অঞ্চলের অধিনে ৭টি ইউনিট অফিসে বিভক্ত করা হয়। উক্ত ইউনিট গুলোর সুফলভোগীদের সঞ্চয়, ট্যাক্স, অবন্টিত টাকা ও ব্যাংক দেওয়া মুনাফা গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় রক্ষিত ছিল। উক্ত টাকা ২০০৫ সালে সুফলভোগীদের ভূল বুঝিয়ে আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে জোর পূর্বক ভাবে চাপ দিয়ে প্রতিটি ইউনিটের ৩৬০টি কেন্দ্রের একাউন্ট হতে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা তুলে নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের বারুহাস, তাড়াশ, নওগাঁ, মাঝদক্ষিনা, নিমগাছি ও শালিয়াগাড়ি শাখায় ২০০৫ সাল হতে এফডিআর করে রাখেন। ওই এফডিআর গুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১২ সালে এবং দ্বিগুন হয়ে ওই টাকার পরিমান দাড়িয়েছে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। কিন্তু মেয়াদ পূর্তির পর উক্ত টাকা খামার অফিসে তুলে নিয়ে গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশান, প্রধান কার্যালয়, মিরপুর-২, ঢাকা-১২১৬ তে স্থানান্তর করে নেয় ওই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল বারী। মেয়াদ পূর্তির পর ২ কোটি ৪০ লাখ টাকার মালিক/দাবীদার ¯^ ¯^ কেন্দ্রের ভূমিহীন সুফলভোগী সদস্যরা। উল্লেখ্য উক্ত টাকা সদস্যদের না জানিয়ে আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এহসানুল বারী সহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর করে রেখেছেন। যা মানি লন্ডারিং এর সামিল। এই ফান্ড সম্পূর্ণ সুফলভোগীদের নিজ¯^ ফান্ড। এটা কোন দাতা সংস্থার রিলিফ বা অনুদান নয়। ইহা ছাড়াও দিনাজপুর খামার (পুলহাট, দেবীগঞ্জ, দিনাজপুর), যমুনা বড়পিঠ খামার (পাথাইল কান্দি, এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল), চিংড়ি খামার (চকরিয়া, কক্সবাজার), ক্যাট প্রজেক্ট (সাথিয়া, বেড়া, পাবনা); এই খামার গুলো সুফলভোগীদের কষ্টার্জিত নিজ¯^ ফান্ডের মোটা অংকের টাকাও অন্যত্র সরিয়ে এফডিআর করা হয়েছে সম্পূর্ন অবৈধ ভাবে। এ ঘটনা গুলোর প্রতিকার চেয়ে সুফলভোগী সদস্যদের পক্ষে তাড়াশ কুঞ্জবন ইউনিটের সদস্য মোঃ আমিনুল ইসলাম গত ৩০ মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী সহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ০১৭১৫-৬১৬৬০৩ ন¤^রের মুঠো ফোনে গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনটি ধরেননি।
এছাড়াও এ সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় গ্রামীণ মৎস্য ও পশু সম্পদ ফাউন্ডেশানের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
অভিযোগ নিয়ে কথা হয় সদ্য যোগদানকৃত সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমি কর্মস্থলে সদ্য যোগদান করেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দৃষ্টিতে আসেনি। তবে এ বিষয়ে  আমি খোঁজখবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

শেয়ার করুন