সিটি নির্বাচনে কারচুপি হলে কর্মসূচি দেবে ১৮ দল

0
56
Print Friendly, PDF & Email

চার সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে সরাসরি প্রার্থী না দিলেও জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে ১৪ দল ও ১৮ দলের শীর্ষ নেতারা শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বললেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা করে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় এবং কোনো ধরনের কারচুপি হয় তাহলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। তবে তারা আশা করছেন, নির্বাচন সুষ্ঠূ হলে চার সিটিতেই ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হবেন।

১৮ দলের একটি সূত্র জানায়, জোটের সবশেষ বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনের শেষ সময় পর‌্যন্ত জোট নেতাদের মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তার সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীরা মাঠে আছেন এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। তবে নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা জালিয়াতির ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। পরে জোটের পক্ষ থেকে হরতালের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। সূত্রটি জানায়, নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে এর বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেয়ার পাশাপাশি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবিতেও আন্দোলন শুরু করবে ১৮ দল।

একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে ওইদিন রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে হরতালের ঘোষণা আসতে পারে। স্থানীয়ভাবে সঙ্গে সঙ্গে কঠোরভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। এক্ষেত্রে রোববার বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সিঙ্গাপুর যাওয়ার নির্ধারিত সময়সূচি পিছিয়ে যেতে পারে।
শনিবার সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৮ দলের নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় নির্বাচন হলেও এতে বর্তমান সরকারের আমলের নানা ব্যর্থতা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাদের পক্ষে যাবে। কারন যেসব জায়গায় প্রার্থিতা নিয়ে কোন্দল ছিল তার সমাধান হয়ে গেছে।
এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সিলেটে প্রচারনায় অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা।  তিনি বলেন, আমরা আশঙ্কা করছি সরকার এ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করবে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মেয়র পদে ১৮ দলের প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে জয়ী হবে।এ নির্বাচন দুই  দিক দিয়ে আমাদের পক্ষে কাজ করবে। আমাদের প্রার্থী জয়ী হলে আন্দোলন আরো জোরদার হবে আর পরাজিত হলে সরকারের অধীনে যে নির্বাচন সুষ্ঠূ হয় না তাও স্পষ্ট হয়ে যাবে।
কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচনের শেষ সময় পর্যন্ত মাঠ থাকতে চার সিটিতে কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় নেতাদের নির্দেশনা দিয়ছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া গত বুধবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপির সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো অন্যায় ও চক্রান্ত হলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে এবং সেখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে।তবে নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ১৮ দলের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

শেয়ার করুন