বিরোধী দল দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন : ফখরুল

0
118
Print Friendly, PDF & Email

বুধবার বিকেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিরোধী দলকে দমন করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০১৩-তে সংশোধনী আনা হয়েছে। এ আইনের মাধ্যমে বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন আরও বাড়ানো হবে। অবিলম্বে এ আইন বাতিল করার দাবি জানান তিনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ফখরুল এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অন্যান্য দেশের মতো এ দেশে সংসদীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে। আমি তাঁর কাছে বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাই, ১৯৯৬ সালেই তো আপনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এসেছিলেন। আজ কেন আপনি নিরপেক্ষ সরকারকে ভয় পাচ্ছেন? তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না, তখন বাংলার বুকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কাছে খবর এসেছে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আপনারা অনেককে বাঁধ্যতামূলক অবসর দিচ্ছেন। পছন্দের লোক দিয়ে ঢেলে সাজাচ্ছেন। আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন?’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একটা সমান খেলার মাঠ তৈরি করুন। সমান খেলার মাঠ থাকলে আপনাদের জামানত থাকবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভীষ্ট লক্ষ্য না অর্জন করা পর্যন্ত মাঠ ছাড়ব না।’
লন্ডনে তারেক রহমানের অবস্থান নিয়ে সরকারি দলের সদস্যদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আদালতকে প্রভাবিত করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কারাগারে রেখে, তাঁকে দমাতে পারবেন না।’

১৫ জুন চারটি সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, সরকার চেষ্টা করছে ছলে-বলে জাতীয়তাবাদি শক্তি এবং স্বাধীনতার পক্ষের প্রার্থীদের পরাজিত করতে। কোনো ধরনের কারচুপি করে তাঁদের পরাজিত করার চেষ্টা করা হলে, জনগণই এর দাঁতভাঙা জবাব দেবে।
সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, তারেক রহমানকে ধরতে ইন্টারপোলকে নিযুক্ত করা সরকারের একটি রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি। তিনি বলেন, ‘তারেকের একটি বক্তৃতাতেই সরকারের এ টালমাটাল অবস্থা। পাঁচটি বক্তৃতা দিলে কী হবে?’
মওদুদ আরও বলেন, তারেককে দেশে নিয়ে আসতে ইন্টারপোলের প্রয়োজন নেই। সময় হলে তিনি স্বেচ্ছায় ফিরে আসবেন এবং আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন।
বিএনপি সংসদ ও রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে যাবে মন্তব্য করে মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হলে সংসদ ও রাজপথে এর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। সরকারের কোনো সমালোচনাতেই আর ছাড় দেওয়া হবে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম হান্নান শাহ বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, ৫ মে হেফাজতের ওপর হত্যাকাণ্ড তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী ২৫ অক্টোবর সরকার পদত্যাগ করবেন বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে হান্নান শাহ বলেন, ‘সরকার পদত্যাগ করলে দেখব, কোথায় তাঁরা সমাবেশ করে। কে তাদের অনুমোদন দেয়।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা। এতে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, আবদুল মঈন খান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবদুস সালাম প্রমুখ।

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদ, বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আজকের সমাবেশ ডাকে বিএনপি। বেলা তিনটার দিকে সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, কৃষক দল ও ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিট থেকে অনেক নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। সমাবেশের কারণে মৎস্য ভবনের সামনে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। সমাবেশ সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করতে সমাবেশস্থলের চারপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

শেয়ার করুন