তীব্র সমালোচনার মুখে তথ্যমন্ত্রী বিরোধী দলের ওয়াকআউট

0
84
Print Friendly, PDF & Email

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ বিষয়ে ডিগ্রি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট বিল, ২০১৩ পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আইনটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর তীব্র সমালোচনা করেন। কেউ কেউ তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দেন। তাঁরা দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা বন্ধের জন্য সরকারের সমালোচনা করেন।
বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণি বলেন, ‘সারা জীবন আওয়ামী লীগের দালালি করে তথ্যমন্ত্রী এখন আওয়ামী লীগের খোয়াড়ে ঢুকেছেন। তিন দিনের বৈরাগী ভাতেরে কয় অন্ন।’
একই দলের রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন রাজনীতি করে নির্বাচনে জিততে পারেননি। যে কজন মন্ত্রী সরকারের বোঝা, তথ্যমন্ত্রী তাঁদের একজন। লুৎফুর রহমান বলেন, ‘প্রথমে ঠিক করা দরকার ইনস্টিটিউটে কী শিক্ষা দেওয়া হবে। দেশের ৮০ ভাগ মানুষ ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। এখন মাননীয় মন্ত্রী কি শাহবাগী শিক্ষা দেবেন?’
সমালোচনার জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশকে সাময়িক বিশৃঙ্খলা থেকে রক্ষার জন্য দিগন্ত ও ইসলামিক টেলিভিশন সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। এর সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, আমার দেশ-এর সম্পাদক অপরাধজনিত কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটি এমন একটি পত্রিকা, যে পত্রিকায় ডাহা মিথ্যাচার করা হয়। শাহবাগকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। শাহবাগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত একটি মঞ্চ।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে ইনু বলেন, ‘’৭২-৭৫ এ জাসদের ভূমিকার কথা বলছেন। ’৭৫ থেকে ’৮০ এবং ’৮০ থেকে ’৯০ সাল পর্যন্ত ভূমিকার কথা বলুন। জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে আমাদের ভূমিকার কথা বলেছেন। তিনি (জিয়া) যে কর্নেল তাহেরকে হত্যা করেছেন, সেটা বলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি ও জাতীয় প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐক্য করেছি। গণতন্ত্রকে স্বৈরাচার থেকে রক্ষা করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করেছি। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দিনের পর দিন বৈঠক করেছি। কিন্তু কর্নেল তাহেরের হত্যাকারী জেনারেল জিয়ার বিষয়ে তাঁকে কোনো প্রশ্ন করিনি।’
এ সময় বিএনপির সদস্যরা ইনুর বক্তব্যের প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন, ‘আদালত মানেন? আদালত বলেছেন, তাহের হত্যার নায়ক জিয়া।’ এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। পরে আসরের নামাজের বিরতির পর তাঁরা আবার ফিরে আসেন।
বিএনপির মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘উনি একসময় বিশ্বাস করতেন যে বন্দুকের নল ক্ষমতার উৎস। তিনি সব অসাংবিধানিক সরকারকে সহায়তা করেছেন। এক-এগারোর সরকারের অন্যতম কুশীলব ছিলেন তিনি। উনি ’৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেছেন। ঈদের জামাতে আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা করেছেন। ক্ষমতার জন্য ওনারা কোনো নীতি-নৈতিকতা মানেন না।’
বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনা নাকচ করে ইনু বলেন, ‘আমি প্রলাপ বকি না, সত্য কথা বলি। সামরিক স্বৈরাচারকে সামরিক স্বৈরাচার বলি। টাকা পাচারকারীকে পাচারকারী বলি। চোরকে চোর বলি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীকে হত্যাকারী বলি।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো হত্যার অভিযোগ নেই। দালালি করিনি। আপনারা কি তাহলে বলবেন, জামায়াত বিএনপির দালাল? রাজাকারদের সঙ্গে ঐক্য করে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেননি?’
আইনে যা আছে: আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর স্বল্পকালীন কোর্সের আয়োজন, ডিপ্লোমা ও স্নাতক ডিগ্রি দিতে পারবে। এ ছাড়া, এ-সংক্রান্ত গবেষণার বিধান রাখা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে তথ্যসচিব বা সরকারের মনোনীত চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘বরেণ্য’ ব্যক্তিকে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া, সরকার-নিযুক্ত ব্যক্তিকে ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী হিসেবে রাখা হয়েছে।

শেয়ার করুন