গার্মেন্টের নিরাপত্তায় ২৫ লাখ ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

0
97
Print Friendly, PDF & Email

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা কাটছাঁটে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত আট মাসে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প খাতে বেদনাদায়ক ঘটনায় এক হাজার ২০০ জনের বেশি লোকের প্রাণহানির ঘটনায় বড় ধরনের প্রতীকী জবাব দিতে ওবামা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টিটিভস অফিস সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে তাদের সুপারিশের প্রস্তুতি শেষ করছে। ৩০ জুন এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ঘোষণা দিতে পারে।
মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যদিও ১ শতাংশের চেয়ে কম সুবিধা পেয়ে থাকে, এর পরও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তা কাটছাঁট না করতে ওবামা প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
দ্য আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার অ্যান্ড কংগ্রেস অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল অরগানাইজেশন (এএফএল-সিআইও) ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের অবাধ সুযোগ-সুবিধা (জিএসপি) বাতিলের দাবিতে প্রথম আবেদন করে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সরকার মনে করেছে, এই হুমকি হয়তো বাংলাদেশে দীর্ঘ দিনের প্রয়োজনীয় শ্রম-সংস্কারে যথেষ্ট উত্সাহ জোগাবে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে যে বাজার-সুবিধা দেওয়া হয়, তা হলো জিএসপি।
এএফএল-সিআইওএর বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান সেলেস্ট ড্রেইক বলেন, গত নভেম্বরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জন ও সম্প্রতি রানা প্লাজা ভবনধসে এক হাজার ১২৯ জনের বেশি ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় ওবামা প্রশাসন এই বাণিজ্যিক সুবিধা বাতিল করতে পারে বা কমিয়ে দিতে পারে।
১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এই সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত এই সুবিধার আওতাভুক্ত নয়।
গ্লোবাল ওয়ার্কস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্যবিষয়ক বিশ্লেষক এড গ্রেসার জানান, গত বছর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে তাঁবু, গলফ খেলার সরঞ্জাম, প্লেটসহ প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। এর ওপর জিএসপি-সুবিধা অনুযায়ী ২০ লাখ ডলার শুল্ক ছাড় পেয়েছে।
কিন্তু বাংলাদেশ ৪৯০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার শুল্ক দিয়েছে, যা ২০১২ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে প্রাপ্ত শুল্কের প্রায় দ্বিগুণ।
অতীতে অনেক আইনপ্রণেতাই বাংলাদেশ ও কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া তৈরি পোশাক খাতকে জিএসপি-সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক প্রস্তুতকারীরা এর বিরোধিতা করেছেন।
আশির দশকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় অন্তত ১৩টি দেশের জিএসপি-সুবিধা আংশিক বা পুরোপুরি বাতিল করা হয়। পরে তাদের বেশির ভাগই অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করায় আবার তাদের জিএসপি-সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর দ্য সাউথ এশিয়া স্টাডিজের সহযোগী পরিচালক সঞ্চিতা সাক্সেনা জানান, বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে জিএসপি-সুবিধা প্রত্যাহার করে নিলেও তা দেশটির তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের কোনো সহায়তায় আসবে না।
সাক্সেনা বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো এসব পোশাক কারখানায় নজরদারি করতে পারে এবং বিদ্যমান আইনগুলো প্রয়োগে চাপ দিতে পারে।’

কর্ম-পরিবেশে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার প্রত্যাশা

বাংলাদেশে থাকা মার্কিন কোম্পানিগুলো কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে বলে আশা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পাসাকি।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জেন পাসাকি বলেন, ‘আমরা মনে করি, কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে যে কর্ম-পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার প্রয়োজনে কোম্পানিগুলো ও সরকারের সঙ্গে কীভাবে কাজ করা যায়, তা নিয়ে সরকার ও আমাদের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।’
পাসাকি বলেন, ‘আমরা মনে করি, কোম্পানিগুলো কাজের পরিবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে, মানবাধিকারের শর্তগুলো পুরোপুরি মেনে চলবে। এসব নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে।’
বাংলাদেশে অবস্থিত ইউরোপীয় অনেক কোম্পানিই আগুন ও ভবনবিষয়ক নিরাপত্তা চুক্তিতে সই করলেও মার্কিন কোম্পানিগুলোতে এসব বাধ্যবাধকতা নেই। পিটিআই।

শেয়ার করুন