সিটি নির্বাচন: ভোটের অপেক্ষায় চার নগরী

0
69
Print Friendly, PDF & Email

কাল চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ভোটের আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণা শেষ করেছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য রাজধানীর শেরেবাংলা নগর ইসি সচিবালয়ে বসানো হয়েছে মনিটরিং সেল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুত আইনশৃংখলা বাহিনীও। এখন ভোটের অপেক্ষা চার সিটির মেয়র নির্বাচনে ।

বিএনপির শঙ্কা: সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করার কারণে নির্বাচন কমিশন চাইলেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। আসন্ন চার সিটি নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করে  জাতিকে উপহার দেয়ার জন্য নির্বাচনকে শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলার পরমার্শ দিয়েছে তিনি।

বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্যের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই পরামর্শ দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান।

মঈন বলেন, নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে তাতে তারা নির্বাচনকে নিরপেক্ষভাবে করতে সক্ষম। তবে বর্তমান সরকার প্রশাসনকে নগ্নভাবে দলীয়করণ করার কারণে কমিশন নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, বুধবার বরিশালে একটি দুর্ঘটনা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। প্রার্থীর গায়ে গুলি না লেগে গুলি লেগেছে প্রার্থীর দেহরক্ষির গায়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আক্রমণ দুঃখজনক। এই নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।

সিইসি যা বললেন: বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, আচরণ বিধি এবং আরো অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে বরিশালের বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা তাদেরকে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সুষ্ঠু রাখতে আশ্বাস দিয়েছি।

সিইসি বলেন, ‘বরিশালের দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক। আমরা এই বিষয়ে রিপোর্ট পেয়েছি। সঠিক প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না’।

কাজী রকিবউদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে বহিরাগতদের সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আরো সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। কোন সন্ত্রাসী বা নাশকতা সৃষ্টিকারী কেউ যেন নির্বাচনী এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য রাজশাহী, সিলেটে বিজিবি এবং খুলনা, বরিশালে কোস্ট গার্ডসহ ডুবুরি নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটা সিটি করপোরেশন এলাকায় র‌্যাবের ডাবল পেট্রোলিং ফোর্স, বিজিবির স্ট্রাইকিং ফোর্স, ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট জোরদার করা হয়েছে।

নিরপেক্ষতার ব্যাপারে সিইসি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র লিস্ট করে সেখানে অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এ ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চয়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।  কমিশন থেকে মনিটরিং সেল বসানো হবে। যেখানে বসে চার কমিশনার চার সিটির সার্বিক পর্যবেক্ষণ করবেন।

নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ বলেন, এখনও সেনা মোতায়েন করার মত পরিস্থিতি হয় নাই। বরিশালের ঘটনার রিপোর্ট আমরা পুরোপুরি পাইনি। তবে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ প্রশাসন কঠোর হতে পারে।

পরিস্থিতি খারাপ হলে আমাদের জেলা প্রশাসকেরা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া রিটার্নিং অফিসারেরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রার্থী ও ভোটারদেরকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ:  নির্বাচনে বেবি টেক্সি, অটোরিক্সা, টেক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপভ্যান, বাস, ট্রাক ও টেম্পু চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়। ইতিমধ্যে গত ১২ তারিখ থেকে মোটর সাইকেল চলা নিষেধ রয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রার্থী ও তাদের এজেন্ট, দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।

নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকেরা পরিচয়পত্র নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারি, আইনশৃংখলা বাহিনী, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগের প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা নেই।

এসএমএসে ভোটকেন্দ্রের তথ্য: ভোটারদের সুবিধার্থে কমিশন এসএমএসের মাধ্যমে কেন্দ্রের তথ্য জানার সুব্যবস্থা করেছেন। ভোটাররা কোন কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবেন তা এসএমএসের মাধ্যম্যে জানতে পারবেন।

শেয়ার করুন